মোঃআনজার শাহ
খেলাধুলা কেবল বিনোদনের মাধ্যম নয়; এটি সুস্থ সমাজ গঠন, সামাজিক সম্প্রীতি জোরদার এবং তরুণ প্রজন্মকে মাদক থেকে দূরে রাখার অন্যতম কার্যকর হাতিয়ার। এ মন্তব্য করেছেন গৃহায়ন ও গণপূর্তমন্ত্রী এবং কুমিল্লা-৮ (বরুড়া) আসনের সংসদ সদস্য জাকারিয়া তাহের সুমন।
তিনি বলেন, দেশের প্রতিটি শহর, মহল্লা ও এলাকায় খেলাধুলার উপযোগী পরিবেশ গড়ে তুলতে হবে। ক্লাবভিত্তিক ক্রীড়া আয়োজনের মাধ্যমে তরুণদের ইতিবাচক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত করা গেলে মাদকাসক্তিসহ নানা সামাজিক অবক্ষয় প্রতিরোধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখা সম্ভব।
সম্প্রতি রাজধানীতে বিভিন্ন ক্লাবের সম্মিলিত ক্রীড়া আয়োজন ‘উল্লাস’-এর অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিতে গিয়ে মন্ত্রী এসব কথা বলেন।
গুলশান ইয়ুথ ক্লাব লিমিটেডের আয়োজনে ‘উল্লাস ২০২৬’ ইন্টার ক্লাব স্পোর্টসফেস্ট সিজন ২-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠান ৩০ অক্টোবর গুলশান সেন্ট্রাল পার্ক অ্যান্ড স্পোর্টস কমপ্লেক্সে অনুষ্ঠিত হয়।
মন্ত্রী বলেন, এই আয়োজনে উপস্থিত থাকতে পেরে তিনি নিজেকে গর্বিত মনে করছেন। গুলশান ক্লাবের একজন সদস্য হিসেবে ক্লাবটির এমন উদ্যোগে তিনি আনন্দিত। প্রায় ২৪টি ক্লাবের অংশগ্রহণে ১৩ ধরনের ক্রীড়া ইভেন্টে প্রায় এক হাজার প্রতিযোগীর অংশগ্রহণে আয়োজিত এই উৎসবকে তিনি নিঃসন্দেহে প্রশংসনীয় বলে অভিহিত করেন।
‘উল্লাস ২০২৬’-এ ছিল ১০০ বল ক্রিকেট, ব্যাডমিন্টন, বাস্কেটবল, দাবা, সাত-জনের ফুটবল, গলফ, আট বল পুল, প্যাডেল বল, সাঁতার, টেবিল টেনিস, টেনিস, কুইজ ও আর্ম রেসলিং। উৎসবটি ৩০ অক্টোবর থেকে ৭ নভেম্বর পর্যন্ত চলে।
মন্ত্রী মন্তব্য করেন, বিভিন্ন ক্লাবের মধ্যে পারস্পরিক পরিচিতি, সৌহার্দ্য ও সামাজিক বন্ধন সুদৃঢ় করতে এ ধরনের আয়োজন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। আয়োজকদের আন্তরিক ধন্যবাদ জানিয়ে তিনি বলেন, ‘উল্লাস’-এর মতো প্রতিযোগিতা যদি দেশের প্রতিটি শহর, মহল্লা ও ক্লাব নিয়মিত আয়োজন করে, তবে তরুণ প্রজন্মের মধ্যে ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে।
ক্লাবভিত্তিক ক্রীড়া ও অবকাঠামো উন্নয়নে সরকারের সহযোগিতার কথা তুলে ধরে জাকারিয়া তাহের সুমন বলেন, সম্প্রতি যুব ও ক্রীড়ামন্ত্রী আমিনুল ইসলামকে একটি ক্লাবের কার্যক্রম সরেজমিনে পরিদর্শনের আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তিনি সেখানে ইনডোর ও আউটডোর ক্রীড়া কার্যক্রমসহ নানা সুযোগ-সুবিধা ঘুরে দেখেন।
মন্ত্রী আরও বলেন, আবাহনী মাঠ ও ধানমন্ডির ৮ নম্বর মাঠসহ রাজধানীর বিভিন্ন খেলার মাঠের সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা ও পরিচালনা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে সমন্বয়ের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তাঁর ভাষ্য, শুধু খেলার মাঠ তৈরি করলেই চলবে না; সেগুলো পরিকল্পিতভাবে পরিচালনাও করতে হবে।
প্রতিটি মাঠে ইনডোর ও আউটডোর খেলাধুলার পাশাপাশি পার্ক, হাঁটার জায়গা ও শরীরচর্চার উপযোগী পরিবেশ গড়ে তুলতে হবে, যাতে শিশু-কিশোর থেকে তরুণ, প্রবীণ—সব বয়সী মানুষ উপকৃত হন বলে মন্তব্য করেন মন্ত্রী।
তিনি বলেন, যেসব ক্লাবের দক্ষ ব্যবস্থাপনা, আন্তরিকতা ও ইতিবাচক মানসিকতা রয়েছে, তারা এগিয়ে এলে সরকারও তাদের পাশে থাকবে। রাজধানীর গণ্ডি পেরিয়ে সারা দেশে ক্লাবভিত্তিক ক্রীড়া ব্যবস্থাপনা ছড়িয়ে দিতে সম্মিলিত উদ্যোগ প্রয়োজন।
ক্রীড়া আয়োজনের ধারাবাহিকতা রক্ষায় পৃষ্ঠপোষকতার গুরুত্ব তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, করপোরেট প্রতিষ্ঠান, ব্যাংক ও আর্থিকভাবে সক্ষম ব্যক্তিদের এ ধরনের উদ্যোগে এগিয়ে আসা উচিত। রাজধানীর অন্যান্য ক্লাবের সঙ্গেও তাঁদের সম্পৃক্ততা বাড়াতে হবে। ক্রীড়ার বিকাশে সরকারের পক্ষ থেকে যা যা করণীয়, তা করা হবে বলেও তিনি আশ্বস্ত করেন।
বক্তব্যের শেষ পর্যায়ে আয়োজকদের আন্তরিকতা, নিষ্ঠা ও উদ্যোগের প্রশংসা করে জাকারিয়া তাহের সুমন বলেন, এ ধরনের আয়োজন যেন নিয়মিত অব্যাহত থাকে। খেলাধুলার মধ্য দিয়ে একটি সুস্থ, সচেতন, মানবিক ও মাদকমুক্ত সমাজ গড়ে তোলাই হোক সবার সম্মিলিত অঙ্গীকার।