অস্ত্র ঘাটতির তথ্য ফাঁস, ৫০ মার্কিন কর্মকর্তার পলিগ্রাফ পরীক্ষা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক:

ইরান যুদ্ধসংক্রান্ত গোপন সামরিক তথ্য ফাঁসের তদন্তে যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ পর্যায়ের সামরিক ও বেসামরিক কর্মকর্তাদের পলিগ্রাফ বা লাই ডিটেক্টর পরীক্ষা নেওয়া হয়েছে। মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিবিএস নিউজ ও দ্য নিউইয়র্ক টাইমস মার্কিন কর্মকর্তাদের উদ্ধৃতি দিয়ে এ তথ্য জানিয়েছে।প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত আগস্টে মার্কিন জয়েন্ট স্টাফের বেশ কয়েকজন কর্মকর্তা ও কর্মচারী পলিগ্রাফ পরীক্ষায় অংশ নেন। তাদের মধ্যে ইউএস সেন্ট্রাল কমান্ডসহ অন্যান্য কমব্যাট্যান্ট কমান্ডের কর্মকর্তারাও ছিলেন। তদন্তের মূল বিষয় হয়ে উঠেছে যুক্তরাষ্ট্রের অত্যাধুনিক ও সীমিত মজুতের অস্ত্র দ্রুত ব্যবহারের তথ্য কীভাবে সংবাদমাধ্যমে প্রকাশ পেল। বিশেষ করে দীর্ঘপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র ও প্যাট্রিয়ট ইন্টারসেপ্টরের মজুত ও ব্যবহারের বিষয়ে প্রকাশিত প্রতিবেদনগুলো নিয়ে তদন্ত চলছে। মার্কিন কর্মকর্তাদের আশঙ্কা, এসব তথ্য শুধু সংবাদমাধ্যমে ফাঁস হওয়ার ঘটনা নয়; এর পেছনে কোনো বিদেশি গোয়েন্দা সংস্থার সংশ্লিষ্টতাও থাকতে পারে। সিবিএস নিউজ জানিয়েছে, পলিগ্রাফ পরীক্ষায় জাতীয় নিরাপত্তাসংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয়ে কর্মকর্তাদের বিস্তারিত প্রশ্ন করা হয়। তবে তথ্য ফাঁসের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার বিষয়ে পরীক্ষায় অংশ নেওয়া কেউ ব্যর্থ হয়েছেন—এমন কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। পেন্টাগনের প্রধান মুখপাত্র শন পার্নেল বলেন, বিভাগটি অভ্যন্তরীণ কর্মী বা তদন্তসংক্রান্ত বিষয়ে মন্তব্য করে না। তবে জাতীয় নিরাপত্তাসংক্রান্ত গোপন তথ্য ফাঁসের বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে নেওয়া হয় এবং সে অনুযায়ী তদন্ত করা হয়। তবে সব জ্যেষ্ঠ সামরিক কর্মকর্তাকে পলিগ্রাফ পরীক্ষার আওতায় আনা হয়নি। এক জ্যেষ্ঠ পেন্টাগন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, জয়েন্ট চিফস অব স্টাফের চেয়ারম্যান জেনারেল ড্যান কেইনের পলিগ্রাফ পরীক্ষা নেওয়া হয়নি। ইরান যুদ্ধ শুরুর কয়েক সপ্তাহ পর যুক্তরাষ্ট্রের অস্ত্রের মজুত দ্রুত কমে যাওয়ার বিষয়ে একাধিক প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত জুলাইয়ে প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ পেন্টাগন ও বিচার বিভাগের সমন্বয়ে একটি যৌথ টাস্কফোর্স গঠনের ঘোষণা দেন। টাস্কফোর্সটির লক্ষ্য ছিল সংবাদমাধ্যমে সংবেদনশীল সরকারি তথ্য ফাঁসের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করা এবং তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া। এ কাজে পেন্টাগনের জেনারেল কাউন্সেলের কার্যালয়কে প্রয়োজনীয় তথ্য, নথি ও সহযোগিতা সংগ্রহের ব্যাপক ক্ষমতা দেওয়া হয়। হেগসেথ তখন বলেছিলেন, কোনো তথ্য ফাঁস হলে দ্রুত বিচার বিভাগ, এফবিআইসহ ফেডারেল আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোকে কার্যকর তথ্য দেওয়া গুরুত্বপূর্ণ। তার ভাষ্য, ফাঁস হওয়া তথ্য মানুষের জীবনকে ঝুঁকির মধ্যে ফেলতে পারে। এদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের অস্ত্রের মজুত কমে যাওয়ার খবর নিয়েও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। গত বৃহস্পতিবার ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া একাধিক পোস্টে তিনি এসব প্রতিবেদনকে ‘দেশদ্রোহী’ বলে আখ্যায়িত করেন। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে বিপুল পরিমাণ মাঝারি ও উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন গোলাবারুদ রয়েছে বলেও দাবি করেন।ট্রাম্প আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্র বর্তমানে এমন মাত্রায় গোলাবারুদ উৎপাদন করছে, যা আগে কখনো দেখা যায়নি। ভবিষ্যতের যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবিলায় যুক্তরাষ্ট্র অস্ত্র মজুত করছে বলেও দাবি করেন তিনি। এর আগে পেন্টাগনে সংবাদমাধ্যমের প্রবেশাধিকার সীমিত করা এবং ইরান যুদ্ধ নিয়ে প্রতিরক্ষামন্ত্রী হেগসেথের নিয়মিত সংবাদ সম্মেলন না করার বিষয়টি নিয়েও আলোচনা হয়েছে। গত মাসে ইউএসএস আব্রাহাম লিংকনের পরিস্থিতি নিয়ে সমালোচনামূলক প্রতিবেদন প্রকাশের পর সামরিক সংবাদপত্র ‘স্টারস অ্যান্ড স্ট্রাইপস’-এর কয়েকজন শীর্ষ কর্মকর্তাকেও বরখাস্ত করা হয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *