মোহাম্মদ হোসেন হ্যাপী:
নারায়ণগঞ্জে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ–এর জেলা ও মহানগর কার্যালয়ে ব্যানার টাঙানোকে কেন্দ্র করে দিনভর উত্তেজনা বিরাজ করেছে। ঘটনাকে ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গনে চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়। শেষ পর্যন্ত সায়মন নামে এক কর্মীকে আটক করে পুলিশের কাছে সোপর্দ করা হয়েছে।
বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) বেলা সাড়ে ১২টার দিকে শহরের ২ নম্বর রেলগেট এলাকায় অবস্থিত দলীয় কার্যালয়ের দেয়ালে হঠাৎ করেই একটি ব্যানার সেঁটে দেন আওয়ামী লীগের কয়েকজন কর্মী। স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, ব্যানারে লেখা ছিল— “বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ মহানগর শাখা কার্যালয়”। এ সময় তারা ‘শেখ হাসিনা আসবে, বাংলাদেশ হাসবে’ স্লোগান দিয়ে দ্রুত এলাকা ত্যাগ করেন। পুরো ঘটনাটি ছিল আকস্মিক, ফলে উপস্থিত কেউ বিষয়টি আগে থেকে আঁচ করতে পারেননি।
খবর পেয়ে বিকেলের দিকে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)–এর নেতাকর্মীরা ঘটনাস্থলে এসে ব্যানারটি খুলে ফেলেন। পরে সন্ধ্যায় বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী স্বেচ্ছাসেবক দল–এর নেতাকর্মীরা সায়মনকে আটক করেন। তাদের দাবি, ব্যানার টাঙানোর সময় তিনি ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন। পরবর্তীতে তাকে পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া হয়।
নারায়ণগঞ্জ জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ) তারেক আল মেহেদী জানান, বিষয়টি জানার সঙ্গে সঙ্গেই ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে এবং পুরো ঘটনা তদন্তাধীন রয়েছে। তিনি বলেন, নির্বাচন পর্যন্ত আওয়ামী লীগের সব ধরনের কার্যক্রম নিষিদ্ধ ছিল। নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর এ বিষয়ে এখনো সুনির্দিষ্ট কোনো নির্দেশনা পাওয়া যায়নি। তবে যাদের বিরুদ্ধে মামলা রয়েছে, তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের জুলাই আন্দোলনের সময় দলটির এ কার্যালয়ে ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। ৫ আগস্ট তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা–এর সরকারের পতনের পর বিক্ষুব্ধ জনতা অফিসটিকে সম্পূর্ণ ব্যবহার অনুপযোগী করে দেয়। এরপর থেকে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের আমলে আওয়ামী লীগের প্রকাশ্য কার্যক্রম কার্যত বন্ধ রয়েছে।
ঘটনাটি ঘিরে এলাকায় এখনো চাপা উত্তেজনা বিরাজ করছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।