স্টাফ রিপোর্টার:
নারায়ণগঞ্জ জেলার সিদ্ধিরগঞ্জ থানার নাসিক ৪ নম্বর ওয়ার্ডের আরটি ওয়াপদা কলোনিকে কেন্দ্র করে সম্প্রতি এক চাঞ্চল্যকর ঘটনার সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়ভাবে অশিক্ষিত ইলেকট্রনিক মিস্ত্রি হিসেবে পরিচিত এক ব্যক্তি হঠাৎ করেই নিজেকে “বড় মাপের সাংবাদিক” হিসেবে পরিচয় দিয়ে এলাকায় দাপট দেখাচ্ছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। তার এই আকস্মিক রূপান্তর এবং কার্যকলাপে সাধারণ মানুষ ও ব্যবসায়ীদের মধ্যে সৃষ্টি হয়েছে চরম উদ্বেগ ও আতঙ্ক।
স্থানীয় বাসিন্দাদের ভাষ্য অনুযায়ী, গত ৫ আগস্টের পর থেকেই ওই ব্যক্তি নিজেকে বিভিন্ন জাতীয় ও অনলাইন গণমাধ্যমের সাংবাদিক পরিচয়ে পরিচিত করাতে শুরু করেন। শুরুতে বিষয়টি অনেকেই গুরুত্ব না দিলেও ধীরে ধীরে তার আচরণ ও কর্মকাণ্ডে সন্দেহ তৈরি হয়। এলাকাবাসীর অভিযোগ, তিনি সাংবাদিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন স্থানে ঘোরাফেরা করছেন, প্রভাব খাটানোর চেষ্টা করছেন এবং কিছু ক্ষেত্রে ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে সুবিধা নেওয়ার চেষ্টা করছেন।
একাধিক ব্যবসায়ী নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, “আগে সে সাধারণ একজন ইলেকট্রনিক মিস্ত্রি ছিল। কিন্তু এখন সাংবাদিক পরিচয় দেওয়ার পর তার আচরণ পুরোপুরি বদলে গেছে। সে বিভিন্ন দোকান ও প্রতিষ্ঠানে গিয়ে নিজের প্রভাব দেখানোর চেষ্টা করে। কেউ কথা না শুনলে সমস্যা তৈরি করার হুমকিও দেয়।”
স্থানীয় সূত্র আরও জানায়, ওই ব্যক্তি এলাকায় বিভিন্ন অবৈধ ব্যবসা কেন্দ্রের সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপন করার চেষ্টা করছেন। অভিযোগ রয়েছে, কিছু অসাধু ব্যবসায়ীর সঙ্গে তার ঘনিষ্ঠতা তৈরি হয়েছে এবং সেই সুযোগে তিনি নিজেকে আরও প্রভাবশালী হিসেবে তুলে ধরছেন। যদিও তার কোনো স্বীকৃত গণমাধ্যমে কাজ করার প্রমাণ এখন পর্যন্ত পাওয়া যায়নি।
এদিকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সূত্রে জানা গেছে, বিষয়টি তাদের নজরে এসেছে এবং ইতোমধ্যে প্রাথমিক তদন্ত শুরু হয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, কেউ যদি ভুয়া পরিচয় ব্যবহার করে প্রতারণা বা অন্য কোনো অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকে, তাহলে তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। একই সঙ্গে স্থানীয়দের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।
সাংবাদিকতা সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞদের মতে, এ ধরনের ঘটনা শুধু একটি ব্যক্তিগত প্রতারণা নয়, বরং পুরো গণমাধ্যমের ভাবমূর্তির জন্য হুমকি। তারা বলেন, “সত্যিকারের সাংবাদিকরা নির্দিষ্ট নীতিমালা ও আইনের মধ্যে থেকে কাজ করেন। সাংবাদিক পরিচয় ব্যবহার করে কোনো ধরনের অনৈতিক বা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করা গুরুতর অপরাধ এবং এটি দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি রাখে।”
এ ঘটনায় সাধারণ মানুষের মধ্যেও ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। অনেকেই বলছেন, এভাবে যদি যে কেউ সাংবাদিক পরিচয় ব্যবহার করে প্রভাব বিস্তার করতে পারে, তাহলে সমাজে বিভ্রান্তি ও বিশৃঙ্খলা বাড়বে। তারা দ্রুত তদন্ত শেষ করে দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, স্থানীয়রা ইতোমধ্যে প্রশাসনের কাছে লিখিত ও মৌখিক অভিযোগ দাখিল করেছেন। তারা আশা করছেন, দ্রুত সময়ের মধ্যে এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে সত্য উদঘাটন করা হবে এবং এলাকায় স্বাভাবিক পরিবেশ ফিরিয়ে আনা হবে। একই সঙ্গে এমন ভুয়া পরিচয়ধারীদের বিরুদ্ধে কঠোর নজরদারি ও ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছেন সচেতন মহল।