আমিরাবাদ ইউনিয়নে ভিজিএফ কার্ডের মাধ্যমে চাল বিতরণ

কামরুল ইসলাম:

চট্টগ্রামের লোহাগাড়া উপজেলার আমিরাবাদ ইউনিয়নে ভিজিএফ (VGF—Vulnerable Group Feeding) কর্মসূচির আওতায় অসহায় ও দুস্থ পরিবারের মাঝে চাল বিতরণ করা হয়েছে। সোমবার (১৬ মার্চ) সকাল ১০টায় আমিরাবাদ ইউনিয়ন পরিষদ প্রাঙ্গণে এ কর্মসূচির আওতায় সুবিধাভোগীদের মাঝে চাল বিতরণ করা হয়।

চাল বিতরণ কার্যক্রম পরিচালনা করেন আমিরাবাদ ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান ও তিনবারের নির্বাচিত সফল ইউপি সদস্য জাহাঙ্গীর আলম। তার তত্ত্বাবধানে ইউনিয়নের বিভিন্ন ওয়ার্ডের দরিদ্র ও অসহায় পরিবারগুলোর মাঝে ভিজিএফ কার্ডের মাধ্যমে খাদ্য সহায়তা প্রদান করা হয়।

ভিজিএফ (Vulnerable Group Feeding) কর্মসূচি বাংলাদেশ সরকারের একটি গুরুত্বপূর্ণ সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি। এর মূল উদ্দেশ্য হলো চরম দরিদ্র ও অসহায় পরিবারের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। বিশেষ করে প্রাকৃতিক দুর্যোগ, ধর্মীয় উৎসব কিংবা জরুরি পরিস্থিতিতে এই কর্মসূচির মাধ্যমে দরিদ্র জনগোষ্ঠীকে খাদ্য সহায়তা প্রদান করা হয়।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, এ কর্মসূচির আওতায় বিধবা, তালাকপ্রাপ্ত, স্বামী পরিত্যক্তা অথবা কর্মক্ষম পুরুষ সদস্য নেই—এমন অসচ্ছল নারীদের অগ্রাধিকার ভিত্তিতে ভিজিএফ কার্ড প্রদান করা হয়। তাদের প্রত্যেককে নির্ধারিত পরিমাণ চাল সহায়তা হিসেবে বিতরণ করা হয়েছে। এতে করে দরিদ্র পরিবারগুলোর মাঝে কিছুটা হলেও স্বস্তি ফিরে এসেছে বলে জানান অনেক সুবিধাভোগী।

চাল বিতরণ কার্যক্রম চলাকালে ইউনিয়নের বিভিন্ন ওয়ার্ডের সুবিধাভোগীরা উপস্থিত ছিলেন। তারা সরকারের এই উদ্যোগকে সাধুবাদ জানান এবং এমন সহায়তা অব্যাহত রাখার আহ্বান জানান। অনেকেই বলেন, এ ধরনের সহায়তা তাদের মতো দরিদ্র পরিবারের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, বিশেষ করে উৎসব বা সংকটের সময়ে।

চাল বিতরণ অনুষ্ঠানে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন। তারা বলেন, সরকারের সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির আওতায় দরিদ্র ও অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানোই এ কার্যক্রমের মূল লক্ষ্য।

উল্লেখ্য, ভিজিএফ কর্মসূচি সাধারণত স্বল্পমেয়াদি সহায়তা হিসেবে পরিচালিত হয়, যা দুর্যোগকালীন বা বিশেষ সময়ে দরিদ্র জনগোষ্ঠীর খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। অপরদিকে দীর্ঘমেয়াদি সহায়তা কর্মসূচি হিসেবে ভিজিডি (VGD) বর্তমানে ভিডব্লিউবি (VWB—Vulnerable Women Benefit) নামে পরিচালিত হচ্ছে।

স্থানীয়দের আশা, ভবিষ্যতেও এ ধরনের সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির মাধ্যমে দরিদ্র ও অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়াবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এবং তাদের জীবনমান উন্নয়নে সহায়ক ভূমিকা রাখবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *