স্বাধীন সংবাদ বিনোদন:
আগামী ১৫ই মে শুক্রবার সারা দেশব্যাপী এবং বহি বিশ্বের ১২টি দেশে পর্যায়ক্রমে মুক্তি পেতে যাচ্ছে মৌসুমি ও হাসান জাহাঙ্গীর জুটির প্রথম চলচ্চিত্র “কন্ট্রাক্ট ম্যারেজ”।
সিনেমাটি নির্মিত হয়েছে আমেরিকার বিভিন্ন মনোরম লোকেশনে এবং বাংলাদেশে।
এই প্রথম বাংলা চলচ্চিত্রের ইতিহাসে “কন্ট্রাক্ট ম্যারেজ” সিনেমার মধ্যে উঠে আসবে—বাংলাদেশ থেকে যারা স্বপ্নরাজ্য আমেরিকায় স্থায়ীভাবে বসবাসের উদ্দেশ্যে দেশ ছেড়ে পাড়ি জমায়, সেখানে গিয়ে কাগজপত্র না থাকায় কী ধরনের পরিস্থিতির শিকার হয় একটি বিবাহিত নারী, যার পুরো পরিবার এবং স্বামী থাকে বাংলাদেশে।
কী কারণে, কী পরিস্থিতিতে এবং কেন বাধ্য হয় কন্ট্রাক্টে বিয়ে করতে—তার বাস্তব প্রতিফলন ঘটবে এই চলচ্চিত্রে।
আমেরিকা, কানাডা, লন্ডন, অস্ট্রেলিয়া, ইতালি ও ইউরোপের বিভিন্ন দেশে কন্ট্রাক্ট ম্যারেজের বৈধতা থাকলেও বাঙালি নারীদের জন্য কতটুকু বৈধতা আছে তার প্রমাণ মিলবে এই চলচ্চিত্রে।
দেশ ছেড়ে যারা বিদেশ যায়, তাদের মধ্যে কয়জনের স্বপ্ন পূরণ হয়—যাদের স্বপ্ন পূরণ হয় না, সেখানে তাদের দিনযাপন কতটুকু ভালো থাকে তার প্রমাণও মিলবে এই চলচ্চিত্রে।
মোট কথা, তরুণ সমাজ, ৬৮ হাজার গ্রাম বাংলার মানুষ এবং প্রবাসীদের সুখ-দুঃখের বাস্তব প্রতিফলন প্রতি মুহূর্তে পাওয়া যাবে চলচ্চিত্রে।
যা থেকে আমরা, যারা বিদেশি স্বপ্নে বিভোর, না জেনে-শুনে বিশ্বাস করে নিজের দেশকে পিছনে ফেলে উন্নত দেশে জীবন যাপন করতে চাই—তাদের প্রতি বার্তা হিসেবে এই গল্প বিরাট ভূমিকা রাখবে।
যা দেখে, জানা যাবে, বুঝা যাবে আগামী প্রজন্মের তরুণ-তরুণীরা, মধ্যবয়সী নারীরা বিদেশ পাড়ি দিবে কি না। একটি নারী তার সততা, নীতি, চারিত্রিকতা ও আদর্শ দিয়ে পরিস্থিতির মোকাবিলা করে নিজের দেশকে বিশ্ব দরবারে উঁচু করে তুলে ধরবে এই গল্পে।
এক কথায়—গল্পই এই সিনেমার মূল চালিকাশক্তি।
চরিত্রে অভিনয় করেছেন মৌসুমী, হাসান জাহাঙ্গীর, মারুফ, কমল পাটেকার, ডন, কাজী হায়াৎ, জেবা জান্নাত, সোহাগ আলম, শিরিন বকুল, আইভি নূর, শিখা মৌসহ অনেকে।
রচনা, চিত্রনাট্য, সংলাপ, পরিচালনা ও প্রযোজনায় রয়েছেন হাসান জাহাঙ্গীর।
এই সিনেমা নিয়ে হাসান জাহাঙ্গীরের একটাই কথা—
“ভালো গল্প হলে মানুষ ঈদ ছাড়াও হলে গিয়ে সিনেমা দেখবে। এজন্য নির্মাতা, শিল্পী ও প্রযোজককে একসাথে এগিয়ে আসতে হবে। তবেই সিনেমার সুদিন ফিরে আসবে।”
হাসান জাহাঙ্গীর আরও জানান, তার পরবর্তী সিনেমা “জাল” এর শুটিং হবে কানাডা, আমেরিকা ও লন্ডনে। ইতোমধ্যে মন্ত্রণালয়ে অনুমোদনের প্রক্রিয়া চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। খুব শীঘ্রই পুরো টিম নিয়ে তারা উড়াল দেবেন।
নিজের দেশকে বিশ্ব দরবারে তুলে ধরার লক্ষ্যেই, মূলত শেকড় বাংলাদেশে রেখে বিদেশি গল্পনির্ভর সিনেমা নির্মাণ করছেন তিনি।