আসামি গ্রেফতার, কিন্তু নিরাপত্তাহীন বাদী—মারধর, লুটপাট ও পুলিশের দায় এড়ানোর অভিযোগ

স্টাফ রিপোর্টার:

নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জ থানার রূপচান মিয়ার মেয়ে (রুমা) ৪ বছর ধরে ন্যায়বিচারের আশায় আদালতের দ্বারস্থ হয়ে আছেন। ২০২২ সালে তিনি তার স্বামী বন্দর থানার আমিনুল ইসলামের ছেলে রফিকুল ইসলামের বিরুদ্ধে যৌতুক নিরোধ আইন, ২০১৮ এর ধারা ৩ অনুযায়ী সি.আর মামলা (নং ১৫৯১/২০২২) দায়ের করেন।

মামলার পর আদালত থেকে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হলেও অভিযোগ রয়েছে, দীর্ঘ চার বছরেও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। পরে আদালতের আইনজীবীর পরামর্শে বাদী বন্দর থানায় যোগাযোগ করলে দায়িত্বরত এসআই জহিরুল ইসলাম তাকে আশ্বস্ত করেন—আসামির বাড়ি চিনিয়ে দিলে গ্রেফতার করা হবে।

এই আশ্বাসের ভিত্তিতে এসআই জহিরুল ইসলাম বাদীপক্ষকে সঙ্গে নিয়ে অভিযানে যান এবং আসামি রফিকুল ইসলামকে তার বাড়ি থেকে গ্রেফতার করেন।

কিন্তু অভিযোগ অনুযায়ী, গ্রেফতারের পর ঘটনাস্থল থেকে ফেরার সময় বন্দর থানার পুলিশ বাদী রুমা, তার শিশু কন্যা ও তার মাকে নিরাপত্তাহীন অবস্থায় ফেলে রেখে চলে যায়। এ সুযোগে আসামির পরিবারের কয়েকজন নারী সদস্য—যার মধ্যে তার দ্বিতীয় স্ত্রী ও ফুপুর নেতৃত্বে কয়েকজন—বাদীপক্ষের ওপর হামলা চালায়।

ভুক্তভোগীদের দাবি, এলোপাতাড়ি মারধরের পাশাপাশি তাদের কাছ থেকে নগদ টাকা ও গলায় থাকা একটি আট আনি স্বর্ণের চেইন ছিনিয়ে নেওয়া হয়। হামলাকারীরা হুমকি দেয়, বাদীপক্ষকে আটকে রাখলে পুলিশ আসামিকে ছেড়ে দিতে বাধ্য হবে।

ঘটনার সময় বাদীর মা পুলিশের কাছে সহযোগিতা চাইলে, অভিযোগ রয়েছে এসআই জহিরুল ইসলাম বলেন, “আপনি ৯৯৯-এ ফোন দেন। আমরা ওয়ারেন্টের আসামি গ্রেফতার করতে এসেছি, আপনাকে বাঁচানোর জন্য আসিনি।”

পরবর্তীতে এই ঘটনার পর এসআই জহিরুল ইসলাম বাদীপক্ষকে দিয়ে একটি জিডি (সাধারণ ডায়েরি) করান। তবে বাদীপক্ষের অভিযোগ, ওই জিডিতে তাদের অনিচ্ছা সত্ত্বেও ভিন্নভাবে ঘটনা লেখা হয়। জিডিতে উল্লেখ করা হয় যে, বাদী নাকি আত্মীয়ের বাসায় যাওয়ার পথে বিবাদীপক্ষের গালাগালি ও সামান্য মারধরের শিকার হয়েছেন।

কিন্তু বাদীপক্ষ দাবি করেন, এই জিডি সম্পূর্ণ মিথ্যা ও প্রকৃত ঘটনার সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ। তাদের অভিযোগ, প্রকৃতপক্ষে পরিকল্পিতভাবে হামলা, মারধর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটলেও তা জিডিতে উল্লেখ করা হয়নি।

এছাড়াও তারা অভিযোগ করেন, বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন তুললে এসআই জহিরুল ইসলাম তা অস্বীকার করে বলেন, “আপনাকে মারছে আমরা দেখিনি, এর কোনো সাক্ষী নাই।”

ভুক্তভোগী পক্ষের মতে, একজন দায়িত্বশীল পুলিশ কর্মকর্তার এমন আচরণ শুধু অনৈতিকই নয়, বরং এটি বিচারপ্রক্রিয়াকে প্রশ্নবিদ্ধ করে এবং সাধারণ মানুষের আইনের প্রতি আস্থা নষ্ট করে।

বাদীপক্ষ এই ঘটনার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্ত দাবি করেছেন। তারা সংশ্লিষ্ট পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ, ছিনতাই হওয়া সম্পদের উদ্ধার এবং নিজেদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

স্থানীয়দের মধ্যেও এ ঘটনায় ক্ষোভ বিরাজ করছে। তাদের মতে, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর এমন ভূমিকা ভবিষ্যতে ভুক্তভোগীদের আইনি সহায়তা নিতে নিরুৎসাহিত করতে পারে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *