মোহাম্মদ হোসেন হ্যাপী:
মানবিকতা ও দায়িত্ববোধের অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এস এম ফয়েজ উদ্দিন। হারিয়ে যাওয়া চার বছরের শিশু আবদুল্লাহকে মাত্র চার ঘণ্টার প্রচেষ্টায় খুঁজে বের করে তার মা-বাবার কাছে ফিরিয়ে দিয়েছেন তিনি। একই সঙ্গে শিশুটির চিকিৎসার জন্য আর্থিক সহায়তা দেওয়ার পাশাপাশি শিশুটিকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া মানবিক অটোরিকশাচালককেও পুরস্কৃত করেছেন ইউএনও।
পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, গত ১৩ অক্টোবর মঙ্গলবার সকাল ৭টার দিকে আবদুল্লাহ ফতুল্লার কুতুবপুর ইউনিয়নের লালখান এলাকার বাসা থেকে নিখোঁজ হয়। পরে সকাল ১০টার দিকে গাবতলা মোড় এলাকায় একটি অটোরিকশার সঙ্গে ধাক্কা লেগে সামান্য আহত হয় শিশুটি। এ সময় অটোরিকশাচালক তাকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে প্রাথমিক চিকিৎসার ব্যবস্থা করেন।
চিকিৎসা শেষে শিশুটিকে নিয়ে এলাকায় ফিরে তার পরিবারের সন্ধান করেন ওই চালক। বিভিন্নভাবে চেষ্টা করেও পরিবারের খোঁজ না পেয়ে তিনি সরাসরি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার সরকারি বাসভবনে যান এবং বিষয়টি জানান।
খবর পাওয়ার পরপরই শিশুটির পরিবারের সন্ধানে উদ্যোগ নেন ইউএনও এস এম ফয়েজ উদ্দিন। স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দের সহযোগিতায় শিশুটির পরিচয় শনাক্ত এবং পরিবারের সন্ধানে কাজ শুরু করেন তিনি। টানা চার ঘণ্টার প্রচেষ্টায় অবশেষে লালখান এলাকায় শিশুটির পরিবারের সন্ধান পাওয়া যায়। পরে ইউএনওর উদ্যোগে আবদুল্লাহকে তার মা-বাবার কাছে ফিরিয়ে দেওয়া হয়।
এ সময় শিশুটির প্রয়োজনীয় চিকিৎসার জন্য আর্থিক সহায়তা ও শুকনো খাবার দেওয়া হয়। পাশাপাশি নিজের পকেটের টাকা খরচ করে আহত শিশুটিকে হাসপাতালে নেওয়া এবং পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দিতে সহযোগিতা করায় অটোরিকশাচালককে সততা ও মানবিকতার স্বীকৃতিস্বরূপ আর্থিক সম্মানী প্রদান করেন ইউএনও।
মানবিকতার পাশাপাশি প্রশাসনিক দায়িত্ব পালনের বার্তা ইউএনওর
এ বিষয়ে নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এস এম ফয়েজ উদ্দিন বলেন, “আমাদের চারপাশে এখনো ভালো মানুষের অভাব নেই, যার প্রমাণ এই অটোরিকশাচালক ভাই। তিনি শিশুটিকে আহত অবস্থায় ফেলে না রেখে চিকিৎসা করিয়েছেন এবং প্রশাসনের দ্বারস্থ হয়েছেন।”
তিনি আরও বলেন, “খবর পাওয়া মাত্রই আমরা স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দের সমন্বয়ে একটি দল গঠন করে শিশুটির পরিচয় শনাক্তের চেষ্টা করি এবং সফল হই। প্রশাসনের কাজ শুধু দাপ্তরিক দায়িত্ব পালন নয়, জনগণের যেকোনো সংকটে পাশে দাঁড়ানোই আমাদের মূল লক্ষ্য। সাধারণ মানুষের মানবিক দায়িত্ববোধ ও প্রশাসনের আন্তরিকতা একসঙ্গে কাজ করলে যেকোনো সংকট মোকাবিলা করা সম্ভব।”
এদিকে হারানো সন্তানকে ফিরে পেয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন আবদুল্লাহর পরিবারের সদস্যরা। তারা ইউএনও এস এম ফয়েজ উদ্দিন ও অটোরিকশাচালকের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। স্থানীয় বাসিন্দারাও প্রশাসনের দ্রুত উদ্যোগ এবং অটোরিকশাচালকের মানবিক ভূমিকার প্রশংসা করেছেন।
শিশু আবদুল্লাহকে পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দেওয়ার এ ঘটনা মানবিকতা, সামাজিক দায়িত্ববোধ ও প্রশাসনের আন্তরিক সমন্বয়ের একটি ইতিবাচক দৃষ্টান্ত হয়ে উঠেছে।