নিজস্ব প্রতিবেদক:
পবিত্র ঈদুল আজহা-পরবর্তী সময়ে সড়ক দুর্ঘটনা প্রতিরোধ এবং যাত্রীদের নিরাপদ ও নির্বিঘ্ন যাতায়াত নিশ্চিত করতে নরসিংদীতে বিশেষ কার্যক্রম পরিচালনা করছে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ)। এর অংশ হিসেবে নরসিংদী থেকে দেশের বিভিন্ন গন্তব্যে ছেড়ে যাওয়া বাসের চালক ও কন্ডাক্টরদের নিয়ে সচেতনতামূলক ব্রিফিং কার্যক্রম অব্যাহত রেখেছে ভিজিলেন্স টিম, নরসিংদী।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ঈদের ছুটি শেষে বিপুল সংখ্যক মানুষ কর্মস্থলে ফিরে যাওয়ায় মহাসড়ক ও আঞ্চলিক সড়কগুলোতে যানবাহনের চাপ বৃদ্ধি পেয়েছে। এই পরিস্থিতিতে দুর্ঘটনার ঝুঁকি কমাতে এবং সড়ক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পরিবহন সংশ্লিষ্টদের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্বারোপ করা হচ্ছে।
ভিজিলেন্স টিমের সদস্যরা বাস ছাড়ার পূর্বে চালক ও কন্ডাক্টরদের সঙ্গে মতবিনিময় করে নিরাপদে যানবাহন পরিচালনার বিভিন্ন দিক তুলে ধরছেন। ব্রিফিংয়ে বিশেষভাবে নির্ধারিত গতিসীমা অনুসরণ, বেপরোয়া ওভারটেকিং পরিহার, ট্রাফিক আইন মেনে চলা, যাত্রীদের সঙ্গে দায়িত্বশীল আচরণ এবং দীর্ঘ সময় একটানা গাড়ি চালানো থেকে বিরত থাকার বিষয়ে নির্দেশনা দেওয়া হচ্ছে।
এ সময় চালকদের উদ্দেশ্যে বলা হয়, সামান্য অসতর্কতা বা অতিরিক্ত গতি বড় ধরনের দুর্ঘটনার কারণ হতে পারে। তাই নিজের নিরাপত্তার পাশাপাশি যাত্রীদের জীবন রক্ষার স্বার্থেও সকল ট্রাফিক বিধি কঠোরভাবে অনুসরণ করতে হবে। এছাড়া যেকোনো পরিস্থিতিতে ঝুঁকিপূর্ণ ওভারটেকিং থেকে বিরত থাকার জন্যও চালকদের সতর্ক করা হয়।
বিআরটিএ সূত্রে আরও জানা যায়, ঈদ-পরবর্তী সময়ে সড়কে শৃঙ্খলা বজায় রাখতে জেলা প্রশাসন, পুলিশ বিভাগ, বিআরটিএ এবং পরিবহন মালিক-শ্রমিক প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। যাত্রীসেবা নিশ্চিতকরণ, সড়ক দুর্ঘটনা হ্রাস এবং পরিবহন ব্যবস্থায় শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে এসব উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
বিআরটিএ, নরসিংদী সার্কেলের কর্মকর্তারা জানান, নিরাপদ সড়ক নিশ্চিত করতে শুধু আইন প্রয়োগই নয়, চালক ও পরিবহন কর্মীদের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধি অত্যন্ত জরুরি। সে লক্ষ্যেই নিয়মিত ব্রিফিং, প্রচারণা ও তদারকি কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে।
সড়ক নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদের মতে, চালকদের সচেতনতা বৃদ্ধি এবং ট্রাফিক আইন মেনে চলার সংস্কৃতি গড়ে উঠলে সড়ক দুর্ঘটনার হার উল্লেখযোগ্যভাবে কমে আসবে। তাই ঈদ-পরবর্তী ব্যস্ত সময়ে বিআরটিএর এই উদ্যোগ যাত্রীদের নিরাপদ যাত্রা নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।