ঈদ পরবর্তী যাত্রা নিরাপদ করতে মাঠে বিআরটিএ: ময়মনসিংহ বিভাগজুড়ে সচেতনতামূলক কার্যক্রম ও বিশেষ নজরদারি

নিজস্ব প্রতিবেদক:

পবিত্র ঈদুল আজহা-২০২৬ উদযাপন শেষে কর্মস্থলমুখী মানুষের যাত্রা নিরাপদ ও নির্বিঘ্ন করতে ব্যাপক উদ্যোগ গ্রহণ করেছে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ)। ঈদের ছুটি শেষে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে রাজধানীসহ কর্মস্থলে ফেরা যাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিআরটিএর ময়মনসিংহ বিভাগীয় কার্যালয়ের আওতাধীন ময়মনসিংহ, জামালপুর, শেরপুর ও নেত্রকোনা সার্কেলে একযোগে পরিচালিত হচ্ছে সচেতনতামূলক কার্যক্রম, নজরদারি ও ভ্রাম্যমাণ আদালত।

অদ্য ৩০ মে ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ তারিখে বিআরটিএ ময়মনসিংহ বিভাগীয় কার্যালয়ের নির্দেশনায় চার জেলার গুরুত্বপূর্ণ সড়ক, বাস টার্মিনাল, জনবহুল এলাকা ও পরিবহন কেন্দ্রগুলোতে মাইকিংয়ের মাধ্যমে সড়ক নিরাপত্তাবিষয়ক বিভিন্ন নির্দেশনা প্রচার করা হয়। এ সময় যাত্রী ও চালকদের অতিরিক্ত গতি পরিহার, ঝুঁকিপূর্ণ ওভারটেকিং বন্ধ, ট্রাফিক আইন মেনে চলা এবং নিরাপদ যাত্রা নিশ্চিত করার আহ্বান জানানো হয়।

বিআরটিএ সূত্রে জানা যায়, ঈদ-পরবর্তী সময়ে সড়কে শৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং দুর্ঘটনা কমিয়ে আনতে কেন্দ্রীয়ভাবে সমন্বিত কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। এর অংশ হিসেবে বিআরটিএর কেন্দ্রীয় কন্ট্রোল রুম সার্বক্ষণিকভাবে কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করছে। দেশের বিভিন্ন মহাসড়ক, টার্মিনাল ও গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্ট থেকে প্রাপ্ত তথ্য বিশ্লেষণ করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

এছাড়া সারা দেশে বিআরটিএর ৬১টি মোবাইল কোর্ট সক্রিয় রয়েছে। এসব মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়, ফিটনেসবিহীন যানবাহন পরিচালনা, ট্রাফিক আইন লঙ্ঘন এবং অন্যান্য অনিয়মের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে। ফলে পরিবহন খাতে শৃঙ্খলা বজায় রাখতে কার্যকর ভূমিকা রাখছে এসব অভিযান।

যাত্রীসেবা ও পরিবহন ব্যবস্থাপনা তদারকির জন্য ঢাকা মহানগরীর চারটি প্রধান বাস টার্মিনালসহ দেশের প্রতিটি জেলার টার্মিনালে বিশেষ ভিজিল্যান্স টিম দায়িত্ব পালন করছে। এসব টিমে বিআরটিএ, জেলা প্রশাসন, পুলিশ বিভাগ, পরিবহন মালিক সমিতি ও শ্রমিক নেতৃবৃন্দের প্রতিনিধিরা সমন্বিতভাবে কাজ করছেন। তারা টার্মিনালগুলোতে যাত্রীসেবা, ভাড়া নিয়ন্ত্রণ, যানবাহনের সক্ষমতা এবং চালকদের আচরণ পর্যবেক্ষণ করছেন।

সড়ক দুর্ঘটনার অন্যতম কারণ অতিরিক্ত গতি ও বেপরোয়া ওভারটেকিং নিয়ন্ত্রণে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। এ লক্ষ্যে বিআরটিএর প্রতিটি সার্কেল থেকে বিভিন্ন বাস টার্মিনাল, মহাসড়ক সংলগ্ন গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্ট এবং জনসমাগমস্থলে মাইকিংয়ের মাধ্যমে সচেতনতামূলক প্রচারণা চালানো হচ্ছে। চালক ও যাত্রীদের উদ্দেশ্যে বারবার স্মরণ করিয়ে দেওয়া হচ্ছে যে, কয়েক মিনিট সময় বাঁচাতে গিয়ে জীবনের ঝুঁকি নেওয়া কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।

অন্যদিকে জেলা প্রশাসন, পুলিশ বিভাগ, বিআরটিএ এবং পরিবহন মালিক-শ্রমিক নেতৃবৃন্দের সমন্বয়ে টার্মিনাল থেকে যানবাহন ছেড়ে যাওয়ার আগে চালকদের ব্রিফিং করা হচ্ছে। এসব ব্রিফিংয়ে চালকদের অতিরিক্ত গতি পরিহার, ঝুঁকিপূর্ণ ওভারটেকিং না করা, পর্যাপ্ত বিশ্রাম নিয়ে গাড়ি চালানো এবং ট্রাফিক আইন কঠোরভাবে মেনে চলার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।

মহাসড়কে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনা রোধেও বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। বিশেষ করে হাইওয়েতে মোটরসাইকেলের অনিয়ন্ত্রিত গতি, হেলমেটবিহীন চলাচল এবং ঝুঁকিপূর্ণ ড্রাইভিংয়ের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, মোটরসাইকেল দুর্ঘটনা কমিয়ে আনতে এই অভিযান আরও জোরদার করা হবে।

বিআরটিএর কর্মকর্তারা জানান, ঈদ-পরবর্তী সময়ে মানুষের নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিত করতে সরকারি বিভিন্ন সংস্থা সমন্বিতভাবে কাজ করছে। যাত্রীদেরও সচেতন হওয়ার আহ্বান জানিয়ে তারা বলেন, নিরাপদ সড়ক নিশ্চিত করতে চালক, যাত্রী, পরিবহন মালিক এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনী—সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টা প্রয়োজন।

সড়ক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিআরটিএর এসব উদ্যোগকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা। তারা আশা প্রকাশ করেন, সচেতনতা বৃদ্ধি, কঠোর নজরদারি এবং আইন প্রয়োগের মাধ্যমে ঈদ-পরবর্তী যাত্রা আরও নিরাপদ ও স্বস্তিদায়ক হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *