স্টাফ রিপোর্টার:
কক্সবাজারের ঈদগাঁও উপজেলার উত্তর মাইজপাড়া এলাকায় বৃদ্ধা দিলদার বেগম ও প্রবাসী হাফেজুর রহমানের পরিবারের মালিকানাধীন জমি জবরদখলের চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় বহিরাগত লোকজন নিয়ে দেশীয় অস্ত্রসহ হামলা, ভাঙচুর, ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগীরা।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, প্রায় ১৫ বছর আগে উত্তর মাইজপাড়া এলাকার মোস্তাক আহমদের কন্যা ফাতেমা বেগমের কাছ থেকে বৈধভাবে ৫ শতক জমি ক্রয় করেন আব্দুর রহমানের স্ত্রী দিলদার বেগম। এরপর থেকে তিনি এবং প্রবাসী হাফেজুর রহমানের পরিবার যৌথভাবে জমিটি চাষাবাদ করে শান্তিপূর্ণভাবে ভোগদখল করে আসছেন।
অভিযোগে বলা হয়, গত ৫ জুলাই একই এলাকার মোস্তাক আহমদের ছেলে জসিম উদ্দিন, মৃত মোস্তফার ছেলে মোস্তাক আহমদ, ছৈয়দ আলম, ফরিদুল আলমসহ আরও ১০-১৫ জন বহিরাগতকে নিয়ে ওই জমিতে প্রবেশ করেন। এ সময় তারা দেশীয় অস্ত্রের মহড়া দিয়ে জমি দখলের চেষ্টা চালান। বাধা দিতে গেলে ভুক্তভোগী ও তাদের পরিবারের সদস্যদের মারধরের চেষ্টা করা হয় এবং প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
ভুক্তভোগী দিলদার বেগম বলেন, “আমি বৈধভাবে জমি ক্রয় করেছি। সহকারী ভূমি কমিশনারের নির্দেশে আমার নামে পৃথক খতিয়ানও সৃষ্টি হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে নিয়মিত খাজনা পরিশোধ করে শান্তিপূর্ণভাবে বসবাস করছি। কিন্তু এখন জসিম উদ্দিন ও তার লোকজন বহিরাগতদের নিয়ে এসে জোরপূর্বক জমি দখলের চেষ্টা করছে। আমাকে ও আমার পরিবারকে বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি দেখানো হচ্ছে। আমি প্রশাসনের কাছে সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানাচ্ছি।”
প্রবাসী হাফেজুর রহমানের স্ত্রী বলেন, “আমরা দীর্ঘদিন ধরে বৈধভাবে ক্রয় করা জমি ভোগদখল করে আসছি। সব কাগজপত্র ঠিক থাকার পরও জোরজবরদস্তি করে জমি দখলের চেষ্টা চলছে। এ ঘটনায় আমরা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি। প্রশাসনের কাছে নিরপেক্ষ তদন্ত এবং আমাদের জমির নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানাচ্ছি।”
ভুক্তভোগীদের দাবি, তাদের কাগজপত্র যাচাই করে দেখা গেছে, ১৩ এপ্রিল ২০১৪ সালে বিএস ১৫৭, ১৬০ ও ১৬৩ নম্বর খতিয়ানের রেকর্ডভুক্ত মালিক আলী আহমদ, আব্দুর রহমান ও ছাবেকুন নাহারের কাছ থেকে ০.১৩০০ একর জমি ক্রয় করা হয়। পরবর্তীতে সহকারী ভূমি কমিশনারের নির্দেশে (নং-৮৬২০) দিলদার বেগমের নামে পৃথক খতিয়ান সৃষ্টি করা হয়। ১৪২০ বঙ্গাব্দ থেকে তিনি নিয়মিত খাজনা পরিশোধ করে আসছেন এবং পরিবার নিয়ে শান্তিপূর্ণভাবে বসবাস করছেন।
প্রবাসী হাফেজুর রহমানের স্ত্রীর দাবি, ২০১৩ সালে সহকারী কমিশনার (ভূমি)-এর আদেশে (নং-৮৩৬১) হাফেজুর রহমানের নামে খতিয়ান সৃষ্টি হয়। সেই থেকে তারা বৈধভাবে ক্রয়কৃত জমি ভোগদখল করে আসছেন। জমির সব কাগজপত্র সঠিক থাকা সত্ত্বেও জসিম উদ্দিন ও তার লোকজন জোরজবরদস্তি করে জমি দখলের চেষ্টা করছে। এ ঘটনায় তারা চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। তিনি প্রশাসনের কাছে বিষয়টি নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানান, যাতে তারা তাদের বৈধ সম্পত্তি শান্তিপূর্ণভাবে ভোগ করতে পারেন।
এ বিষয়ে স্থানীয় এক জনপ্রতিনিধি বলেন, “উভয় পক্ষকে নিয়ে বিষয়টি মীমাংসার চেষ্টা করা হয়েছিল। তবে জসিম উদ্দিন উপস্থিত না হওয়ায় সমাধান সম্ভব হয়নি। পরে বিষয়টি লিগ্যাল এইডে মামলা হয়েছে বলে জানতে পেরেছি।”
অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত জসিম উদ্দিনের বক্তব্য জানার জন্য একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
স্থানীয় সচেতন মহল ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত সত্য উদঘাটন এবং দোষীদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
