উত্তরা বিআরটিএ–মিরপুর ১২ বাস ডিপোতে দুর্নীতি ও ঘুষ বাণিজ্যের অভিযোগ

স্টাফ রিপোর্টার:

উত্তরা বিআরটিএ ঢাকা মেট্রো থ্রি, মিরপুর ১২–এর বিআরটিসি বাস ডিপো সম্প্রতি নানা ধরনের দুর্নীতি ও ঘুষ বাণিজ্যে মহা উৎসবের মধ্যে পরিণত হয়েছে। সদ্য যোগদানকৃত ইমারজেন্সি কর্মকর্তা হাফিজের নেতৃত্বে, দালাল চক্র ও কিছু অসাধু কর্মচারীর সঙ্গে সমন্বয় করে এ ধরনের অনৈতিক কার্যক্রম চলছে বলে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক ব্যক্তি অভিযোগ করেছেন।

উত্তরা বিআরটিএতে প্রতিদিন ড্রাইভিং লাইসেন্সের পরীক্ষা দিতে আসে প্রায় ৮০০–৯০০ জন। এসব পরীক্ষার্থী নিয়ম অনুযায়ী লিখিত, ভাইভা ও প্রাকটিক্যাল পরীক্ষা দেয়। কিন্তু অনেক ক্ষেত্রেই পরীক্ষায় ফেল হওয়া শিক্ষার্থীরা পরের দিন অনলাইনে ফলাফলে পাস দেখেন। ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, পরীক্ষায় ফেল হওয়া লোকের সংখ্যা যে ৮০ শতাংশের কাছাকাছি, তার পরেও অনলাইনে দেখা যায় একই দিনে ৮০ শতাংশ পাস।

অনুসন্ধান করে জানা গেছে, এই অনিয়মের মূল কারিগর দালাল চক্র। তারা বিভিন্ন পরীক্ষার্থীকে পাস করানোর জন্য মোটা অংকের টাকা চুক্তিতে নিয়ে হাফিজের সঙ্গে কাজ করছে। এমনকি পরীক্ষার ফলাফলের সাথে সংশ্লিষ্ট সকল ধাপ—লিখিত, প্রাকটিক্যাল ও ভাইভা—ই দালালদের মাধ্যমে নিয়ন্ত্রণ করা হচ্ছে।

ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, শুধু ড্রাইভিং লাইসেন্স নয়, ফিটনেস সার্টিফিকেট, গাড়ির মালিকানা পরিবর্তন এবং অন্যান্য সরকারি কার্যক্রমেও হাফিজ ও তার সহযোগী দালাল চক্র সক্রিয়ভাবে জড়িত। এই অনিয়মের কারণে সাধারণ মানুষ নিয়ম মেনে কাজ করতে পারছে না এবং আইনগতভাবে নির্ভরযোগ্য সেবা পাওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে।

একাধিক কর্মকর্তা এবং নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক শ্রমিক জানান, হাফিজ খুব অল্প সময়ের মধ্যে স্থানীয় দালালদের সঙ্গে সমঝোতা করে কাজগুলো সম্পন্ন করছেন। এর ফলে ভুক্তভোগীরা কোনোভাবে সহায়তা পাননি। তিনি যেখানে আগে কর্মরত ছিলেন, সেখানেও এমন বিতর্কিত কর্মকাণ্ডের অভিযোগ ছিল। উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে নিজেকে ম্যানেজ করে, তিনি নানা অনৈতিক কার্যক্রম চালিয়ে আসছেন।

এই পরিস্থিতিতে অনেকেই মুখ খোলার সাহস পাচ্ছেন না। ভুক্তভোগী এবং সচেতন নাগরিকরা আশা করছেন, উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ এই অভিযোগগুলো খতিয়ে দেখবেন এবং দ্রুত পদক্ষেপ নেবেন। তারা চাইছেন, ড্রাইভিং লাইসেন্স, ফিটনেস ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ সরকারি সেবা যেন স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষভাবে প্রদত্ত হয়।

বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, সরকারি অফিসে দুর্নীতি ও ঘুষবাণিজ্য রোধ করতে নিয়মিত মনিটরিং এবং স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি। শুধু ভুক্তভোগীদের প্রতিক্রিয়া নয়, উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের পদক্ষেপের ওপরই নির্ভর করছে, ভবিষ্যতে এ ধরনের অনিয়ম বন্ধ হবে কিনা।

উত্তরা বিআরটিএ-এর বর্তমান পরিস্থিতি দেশের স্বাভাবিক সরকারি কার্যক্রমে মানুষের আস্থা কমাচ্ছে। সাধারণ মানুষ চান, দালাল চক্র ও অসাধু কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হোক এবং লাইসেন্স পরীক্ষার মতো গুরুত্বপূর্ণ সেবা যেন পুনরায় সঠিক ও স্বচ্ছভাবে পরিচালিত হয়।

এ বিষয়ে কর্তৃপক্ষ এখনও কোনো মন্তব্য করেননি। তবে প্রত্যাশা করা হচ্ছে, দ্রুত তদন্ত ও ব্যবস্থা গ্রহণের মাধ্যমে উত্তরা বিআরটিএতে চলমান দুর্নীতি চক্রকে অচল করে দেওয়া হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *