স্টাফ রিপোর্টার :
মাল্টিমিডিয়া সাংবাদিকদের পেশাগত অধিকার, নিরাপত্তা ও মর্যাদা প্রতিষ্ঠার প্রত্যয়ে মাল্টিমিডিয়া রিপোর্টার্স ইউনিটি (এমআরইউ)-এর কার্যনির্বাহী কমিটির প্রথম নির্বাচন শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশে সম্পন্ন হয়েছে। এই নির্বাচনের মধ্য দিয়ে মাল্টিমিডিয়া সাংবাদিক সমাজে তৈরি হয়েছে নতুন আশা, ঐক্য এবং সাংগঠনিক শক্তির দৃঢ় প্রতিফলন।
২২ ডিসেম্বর সোমবার সকাল ১০টায় রাজধানীর সেগুনবাগিচায় ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি (ডিআরইউ) মিলনায়তনে ভোটগ্রহণ শুরু হয়। সুশৃঙ্খল ও গণতান্ত্রিক পরিবেশে বিকেল ৫টা পর্যন্ত ভোটগ্রহণ চলে। ভোটগ্রহণ শেষে রাত ৮টায় নির্বাচন কমিশন আনুষ্ঠানিকভাবে ফলাফল ঘোষণা করে। দিনব্যাপী ভোটকেন্দ্রজুড়ে ছিল সহকর্মীদের প্রাণবন্ত উপস্থিতি ও উৎসবমুখর পরিবেশ।
ভোটারদের আলোচনায় উঠে আসে মাল্টিমিডিয়া সাংবাদিকদের কর্মক্ষেত্রের নিরাপত্তা, ডিজিটাল সাংবাদিকতার চ্যালেঞ্জ, প্রশিক্ষণের প্রয়োজনীয়তা, ন্যায্য অধিকার আদায় এবং সংগঠনকে আরও শক্তিশালী ও সদস্যবান্ধব করার প্রত্যাশা।
নির্বাচনে সভাপতি পদে নির্বাচিত হয়েছেন শাহরিয়ার নাঈম। সহ-সভাপতি পদে ১নং সহ-সভাপতি হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন জাকির ইসলাম এবং ২নং সহ-সভাপতি হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন মোঃ ইসলাম উদ্দিন তালুকদার। সাধারণ সম্পাদক পদে নির্বাচিত হয়েছেন মোঃ মিসবাহ উদ্দিন। যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন জহিরুল ইসলাম রাতুল। অর্থ সম্পাদক নির্বাচিত হয়েছেন জান্নাতুর রহমান। সাংগঠনিক সম্পাদক পদে দায়িত্ব পেয়েছেন মোস্তাফিজুর রহমান মিলন এবং সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক হয়েছেন মোহাম্মদ খোকা। দপ্তর সম্পাদক হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন ইয়াসিন আরাফাত। প্রচার সম্পাদক নির্বাচিত হয়েছেন ইসমাইল হোসেন এবং সাহিত্য ও প্রকাশনা সম্পাদক হিসেবেও দায়িত্ব পেয়েছেন ইয়াসিন আরাফাত। ক্রীড়া সম্পাদক নির্বাচিত হয়েছেন শাহিনুল নুর, সাংস্কৃতিক সম্পাদক আরাফাত হোসেন হিমেল, তথ্যপ্রযুক্তি ও প্রশিক্ষণ সম্পাদক সৈয়দ মাহবুব, সমাজসেবা সম্পাদক বিজয় আহমেদ এবং স্বাস্থ্য, পরিবেশ ও আপ্যায়ন সম্পাদক হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন সোলায়মান সুমন। এছাড়া কার্যনির্বাহী সদস্য হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন ইসমাইল হোসেন, শাহীন আলম জয়, স্বাধীন রহমান, আবুল খায়ের ও আল আমিন খান। কয়েকটি পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা না থাকায় সংশ্লিষ্ট প্রার্থীরা বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হন।
নবনির্বাচিত সভাপতি শাহরিয়ার নাঈম বলেন, এই বিজয় কোনো ব্যক্তির নয়, এটি পুরো মাল্টিমিডিয়া সাংবাদিক সমাজের সম্মিলিত অর্জন। তিনি বলেন,
“এমআরইউ হবে মাল্টিমিডিয়া সাংবাদিকদের নিরাপদ আশ্রয়। পেশাগত মর্যাদা, কর্মক্ষেত্রের নিরাপত্তা, নিয়মিত প্রশিক্ষণ এবং ন্যায্য অধিকার আদায়ে আমরা আপসহীন থাকব। কোনো সাংবাদিক নির্যাতিত হলে বা বিপদে পড়লে সংগঠন তার পাশে দাঁড়াবে।”
নবনির্বাচিত ২নং সহ-সভাপতি মোঃ ইসলাম উদ্দিন তালুকদার প্রতিক্রিয়ায় বলেন, এই দায়িত্ব তাঁর জন্য সম্মানের পাশাপাশি বড় দায়বদ্ধতা। তিনি বলেন, মাল্টিমিডিয়া সাংবাদিকদের ঐক্যই আজ সবচেয়ে বড় শক্তি। এমআরইউকে একটি মানবিক, সাহসী ও সাংবাদিকবান্ধব সংগঠনে পরিণত করতে সবাইকে সঙ্গে নিয়ে কাজ করার অঙ্গীকার করেন তিনি।
একই সঙ্গে তিনি কৃতজ্ঞতার সঙ্গে স্মরণ করেন দৈনিক স্বাধীন সংবাদ পত্রিকার সম্মানিত সম্পাদক ও প্রকাশক মোঃ আনোয়ার হোসেন আকাশ-কে। তিনি বলেন,
“তিনি আমার সাংবাদিকতার অভিভাবক। তার হাত ধরেই প্রায় সাত বছর আগে সাংবাদিকতা শুরু করি। দীর্ঘ সময় ধরে দৈনিক স্বাধীন সংবাদে সাব-এডিটর হিসেবে দায়িত্ব পালন করার পাশাপাশি প্রয়োজন অনুযায়ী রিপোর্টিং করেছি। সাংবাদিকতার এই পথচলায় কখনো ক্লান্তি কিংবা লোভ আমাকে গ্রাস করতে পারেনি—এর পেছনে আমার প্রতিষ্ঠানের নৈতিক শিক্ষা ও সম্পাদকীয় দিকনির্দেশনাই মূল শক্তি।”
তিনি আরও বলেন, দৈনিক স্বাধীন সংবাদ পরিবার সবসময় সততা, পেশাদারিত্ব ও দায়িত্বশীল সাংবাদিকতার যে শিক্ষা দিয়েছে, তা আজও তাঁর কর্মজীবনের পথনির্দেশক হিসেবে কাজ করছে।
নবনির্বাচিত কমিটির পক্ষ থেকে মাল্টিমিডিয়া সাংবাদিকদের উদ্দেশে জানানো হয়, এমআরইউ শুধু একটি সংগঠন নয়—এটি একটি পরিবার। এই পরিবারের প্রতিটি সদস্যের মর্যাদা সমান। সুখে-দুঃখে, সংকটে-সংগ্রামে সংগঠন সবসময় তার সদস্যদের পাশে থাকবে। সাংবাদিকদের কল্যাণ, নিরাপত্তা ও পেশাগত উন্নয়ন নিশ্চিত করাই হবে নতুন কমিটির প্রধান অঙ্গীকার।
এদিকে নবনির্বাচিত সভাপতি শাহরিয়ার নাঈম নির্বাচন কমিশনার এবং নির্বাচন পরিচালনায় দায়িত্বে থাকা সকল সদস্যের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তিনি বলেন,
“স্বচ্ছ, নিরপেক্ষ ও শান্তিপূর্ণভাবে নির্বাচন সম্পন্ন করতে নির্বাচন কমিশনাররা অত্যন্ত দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করেছেন। তাদের আন্তরিকতা, ধৈর্য ও পেশাদার ব্যবস্থাপনার কারণেই এমআরইউর এই নির্বাচন একটি গ্রহণযোগ্য ও উদাহরণযোগ্য প্রক্রিয়ায় সম্পন্ন হয়েছে।”
বিশ্লেষকদের মতে, এই নেতৃত্ব এমআরইউকে আরও সংগঠিত, আধুনিক ও প্রযুক্তিনির্ভর সংগঠনে রূপান্তরিত করতে সক্ষম হবে। বিশেষ করে ডিজিটাল সাংবাদিকতা, প্রশিক্ষণ ও সাংবাদিক নিরাপত্তার প্রশ্নে নতুন কমিটির ভূমিকা সময়োপযোগী ও কার্যকর হয়ে উঠবে।
প্রসঙ্গত, এমআরইউ নির্বাচন ২০২৬ কেবল একটি নির্বাচন নয়; এটি মাল্টিমিডিয়া সাংবাদিকদের ঐক্য, আত্মমর্যাদা ও পেশাদার ভবিষ্যতের পথে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা।