স্টাফ রিপোর্টার:
রাজধানীর গেন্ডারিয়া থানার ৪০ নম্বর ওয়ার্ডের ৬৩/২ স্বামীবাগ, টিকাটুলি এলাকায় ডি-২ ওএমএস ডিলার সুজিত কুমার সূত্রধর-এর বিরুদ্ধে অসহায় মানুষের জন্য বরাদ্দকৃত চাল ও আটা বিতরণে অনিয়ম, প্রতারণা এবং এক সংবাদকর্মীর ওপর হামলার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
অভিযোগে জানা যায়, রোববার দুপুরে ওএমএসের পণ্য নিতে আসা তিনজন অসহায় নারীকে চাল ও আটা দেওয়ার কথা থাকলেও ডিলার তাদের খালি হাতে ফিরিয়ে দেন। এ সময় অভিযোগ ওঠে, সরকারি নির্ধারিত বস্তার পরিবর্তে ফ্রেশ ও অন্যান্য স্থানীয় ব্র্যান্ডের খালি বস্তায় চাল ও আটা ভরে রাখছিলেন ডিলার ও তার প্রতিনিধিরা।
এ সময় ঘটনাস্থলে উপস্থিত এক সংবাদকর্মী বিষয়টি দেখে ভিডিও ধারণ ও ছবি তুলতে শুরু করেন। তিনি ডিলার ও তার প্রতিনিধিদের কাছে জানতে চান, সরকারি ওএমএসের চাল ও আটা কেন ভিন্ন প্রতিষ্ঠানের বস্তায় ভরা হচ্ছে এবং এর উদ্দেশ্য কী।
প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্যমতে, সাংবাদিকের এমন প্রশ্নে ডিলার ও তার সহযোগীরা ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন। তারা সংবাদকর্মীকে উদ্দেশ্য করে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করতে থাকেন এবং একপর্যায়ে তাকে “ভুয়া সাংবাদিক” বলে আখ্যা দিয়ে মারধর করেন। একই সঙ্গে সাংবাদিকের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির অভিযোগ তুলে তাকে ঘটনাস্থল থেকে সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করা হয়।
ভুক্তভোগী সংবাদকর্মী জানান, তিনি কেবলমাত্র সরকারি খাদ্যসামগ্রী বিতরণে অনিয়মের তথ্য সংগ্রহ ও প্রকৃত ঘটনা তুলে ধরার চেষ্টা করছিলেন। তার দাবি, ভিডিও ফুটেজ ও স্থিরচিত্রে অনিয়মের প্রমাণ ধারণ করার পরই ডিলার ও তার প্রতিনিধিরা তার ওপর হামলা চালায়।
ঘটনার পরপরই বিষয়টি ডি-২-এর দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জুয়েল-কে অবহিত করা হলে তিনি সাংবাদিককে শান্ত থাকার অনুরোধ জানান। অভিযোগ অনুযায়ী, তিনি বলেন, “ভাই, যা হয়েছে আমি মিলিয়ে দেব। আপনাদের গায়ে হাত দেওয়া ঠিক হয়নি। ওদের দোকানে যে পরিমাণ মাল আছে, সেটার ব্যালেন্স লিখে দেব।”
এদিকে খাদ্য বিভাগের ডি-২ এরিয়া অফিসের এআরও (ARO) চিন্তামণি তালুকদার বলেন, সংবাদকর্মীর সঙ্গে অশোভন আচরণ, অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ এবং শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করার অভিযোগ অত্যন্ত গুরুতর। বিষয়টি তদন্ত করে সংশ্লিষ্ট ওএমএস ডিলারের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে তিনি জানান।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরেই এলাকায় ওএমএসের চাল ও আটা বিতরণে নানা অনিয়ম চলছে। অনেক সময় প্রকৃত উপকারভোগীরা তাদের প্রাপ্য খাদ্যসামগ্রী পান না। বরাদ্দকৃত পণ্য নিয়ে কালোবাজারি ও আত্মসাতের অভিযোগও রয়েছে। তারা এ ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত, দোষীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা এবং ওএমএস কার্যক্রমে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার দাবি জানান।
সাংবাদিক মহলও এ ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। তাদের মতে, দুর্নীতি ও অনিয়মের তথ্য সংগ্রহ করতে গিয়ে যদি সংবাদকর্মীদের হামলার শিকার হতে হয়, তাহলে তা গণমাধ্যমের স্বাধীনতার জন্য হুমকিস্বরূপ। তারা হামলাকারীদের দ্রুত গ্রেফতার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।
তবে এ বিষয়ে অভিযুক্ত ওএমএস ডিলার সুজিত কুমার সূত্রধর-এর বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি। তার বক্তব্য পাওয়া গেলে তা পরবর্তীতে প্রকাশ করা হবে।