ওএমএস তদারককারী হোসেন মামুনের বিরুদ্ধে ঘুষ ও অনিয়মের অভিযোগ

স্টাফ রিপোর্টার:

রাজধানীর দরিদ্র ও অসহায় মানুষের জন্য সরকারের খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির আওতায় পরিচালিত ওএমএস (ওপেন মার্কেট সেল) কার্যক্রমে অনিয়ম, ঘুষ গ্রহণ, সরকারি চাল-আটা বেশি দামে বিক্রি এবং দায়িত্ব পালনরত সাংবাদিককে মারধরের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ডি-৫ এলাকার ওএমএস তদারককারী মোহাম্মদ হোসেন মামুন। একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট আরও কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধেও নানা অনিয়মে জড়িত থাকার অভিযোগ করেছেন কয়েকজন ডিলার ও স্থানীয়রা।

অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, সরকার ভর্তুকি দিয়ে নিম্নআয়ের মানুষের কাছে নির্ধারিত মূল্যে চাল ও আটা পৌঁছে দিতে ওএমএস ডিলার নিয়োগ দেয়। এসব ডিলারের মাধ্যমে নির্ধারিত মূল্যে খাদ্যপণ্য বিক্রির কথা থাকলেও অভিযোগ রয়েছে, কয়েকজন ডিলার সরকারি মূল্যে পণ্য বিক্রি না করে বেশি দামে পাইকারি বাজারে বিক্রি করছেন। ডিলারদের কার্যক্রম তদারকির জন্য সংশ্লিষ্ট এলাকায় কর্মকর্তাদের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

ডিলারদের দাবি, তাদের কমিশন তুলনামূলক কম হওয়ায় অনেকেই অনিয়মের আশ্রয় নিচ্ছেন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক ডিলার অভিযোগ করে বলেন, সংশ্লিষ্টদের নিয়মিত টাকা দিতে হয়। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, আরও শরীফুজ্জামানকে ৩ হাজার টাকা এবং মোহাম্মদ হোসেন মামুনকে ২ হাজার টাকা করে দিতে হয়। অথচ ডিলাররা কমিশন পান মাত্র ৬ হাজার টাকা। পরিবহন, শ্রমিকসহ দৈনিক বিভিন্ন খরচ মিলিয়ে প্রায় ১১ হাজার টাকা ব্যয় হওয়ায় বৈধভাবে ব্যবসা চালানো কঠিন হয়ে পড়েছে বলে দাবি তাদের।

ডিলাররা সরকারের কাছে ওএমএস কার্যক্রমে কমিশন বৃদ্ধির দাবি জানিয়েছেন। তাদের অভিযোগ, কমিশন কাঠামো বাস্তবসম্মত না হওয়ায় একটি অংশ অনিয়মের দিকে ঝুঁকছে। তবে এসব অভিযোগের স্বতন্ত্র সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

এদিকে দায়িত্ব পালনকালে সাংবাদিকদের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ, হুমকি এবং এক সাংবাদিককে মারধরের গুরুতর অভিযোগও উঠেছে মোহাম্মদ হোসেন মামুনের বিরুদ্ধে। অভিযোগ অনুযায়ী, সাংবাদিক শফিউল বাশার ওএমএস কার্যক্রমের অনিয়মের তথ্য সংগ্রহ করতে গেলে তাকে মোটরসাইকেল থেকে নামিয়ে মারধর করা হয়। এ ঘটনায় তিনি আহত হন বলে অভিযোগ রয়েছে। ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে বলেও জানা গেছে।

অভিযোগ রয়েছে, ডি-৫ এলাকার দুটি ট্রাকসেলে ডিলাররা পণ্য বিক্রি না করেই চলে যাওয়ার ঘটনা সম্পর্কে সংশ্লিষ্ট আরও কর্মকর্তাকে জানানো হলে বিষয়টি নিয়ে উত্তেজনা তৈরি হয়। পরে সাংবাদিক শফিউল বাশারকে ফোন করে ডেকে নিয়ে মারধর করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন সংশ্লিষ্টরা।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে বড় পারুলিয়া, কাশিয়ানী, গোপালগঞ্জের জয়নাল আবেদীনের ছেলে তারেকুজ্জামান সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে চাঁদা দাবির অভিযোগ তোলেন। তিনি বলেন, সাংবাদিকরা চাঁদা চাইলে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ রয়েছে। তবে সাংবাদিককে মারধরের নির্দেশ দেওয়ার অভিযোগ অস্বীকার না করে তিনি সাংবাদিকদের সঙ্গে এ বিষয়ে কথা বলতে রাজি হননি বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

অন্যদিকে, মোহাম্মদ হোসেন মামুনের বিরুদ্ধে একাধিক সাংবাদিককে দায়িত্ব পালনকালে ভয়ভীতি দেখানো ও নির্যাতনের অভিযোগও পাওয়া গেছে। তার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের বিষয়ে অনুসন্ধান চলছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট সাংবাদিকরা।

এ ঘটনায় সাংবাদিকদের নিরাপত্তা ও দায়িত্ব পালনের অধিকার নিয়ে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। সাংবাদিক নির্যাতনের অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত ও দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবিতে মানবাধিকার সংস্থা বাংলাদেশ হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড প্রেস সোসাইটি খাদ্য মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী, সচিব এবং সংশ্লিষ্ট খাদ্য বিভাগের কর্মকর্তাদের কাছে লিখিত আবেদন করার প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে জানা গেছে।

সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, ওএমএসের মতো দরিদ্র মানুষের জন্য গুরুত্বপূর্ণ কর্মসূচিতে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগের পাশাপাশি সাংবাদিকদের ওপর হামলার ঘটনা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। তাই অভিযোগগুলো নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে সত্যতা পাওয়া গেলে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া এবং ওএমএস কার্যক্রমে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন তারা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *