স্টাফ রিপোর্টার:
সরকারের ওএমএস কর্মসূচির আওতায় নিম্ন আয়ের মানুষের জন্য বরাদ্দ করা চাল ও আটা বিতরণে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে রাজধানীর দক্ষিণখান এলাকায়। ডিলার অপু শিকদারের বরাদ্দ করা চাল ও আটা বহনকারী একটি ট্রাকের গতিবিধি নিয়ে প্রশ্ন ওঠার পর বিষয়টি আলোচনায় আসে। এ ঘটনায় পণ্য পরিবহন, বিতরণের হিসাব এবং তদারকির কার্যকারিতা নিয়ে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
অভিযোগ রয়েছে, নিম্ন আয়ের মানুষের কাছে সরকার নির্ধারিত মূল্যে বিক্রির জন্য বরাদ্দ করা চাল ও আটা যথাযথভাবে বিতরণ না করে অন্যত্র নেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছিল। দক্ষিণখানের সরদার বাড়ি এলাকায় এ-সংক্রান্ত ঘটনা সামনে আসে। একপর্যায়ে ট্রাকটি নিয়ে চলে যাওয়ার সময় সাংবাদিকেরা সেটির গতিবিধি শনাক্ত করেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
তবে বরাদ্দ করা চাল ও আটা কালোবাজারে বিক্রির উদ্দেশ্যে অন্যত্র নেওয়া হচ্ছিল কি না, তা এখনো স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। এ বিষয়ে পণ্যের পরিমাণ, পরিবহনের অনুমোদন, বিক্রির নথি এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য যাচাই করা প্রয়োজন।
ঘটনাটি সংশ্লিষ্ট ডি-নাইন-এর এআরওকে জানানো হলে তিনি বলেন, কোনো ধরনের অনিয়ম হয়ে থাকলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এ বিষয়ে এআরও মোহাম্মদ আনোয়ার হোসেন বলেন, “আমার এলাকায় কেউ গরিবের চাল ও আটা নিয়ে দুর্নীতি করতে পারবে না। আমি ডিলার অপু শিকদারের সেল বন্ধ করে দেব।”
পরবর্তীতে তাঁর সঙ্গে আবার যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, চাল ও আটার হিসাব দেখানো হয়েছিল, তবে তা অনেক পরে। এ কারণে সংশ্লিষ্ট ডিলারের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে বলেও জানান তিনি।
এআরওর বক্তব্যে হিসাব দেখাতে বিলম্বের বিষয়টি উঠে এসেছে। তবে কেন দেরিতে হিসাব দেওয়া হয়েছিল, ওই সময় বরাদ্দ করা পণ্য কোথায় ছিল এবং নির্ধারিত নিয়ম অনুযায়ী বিক্রি সম্পন্ন হয়েছিল কি না, সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি।
এদিকে, একটি সূত্রের দাবি, সংশ্লিষ্ট এক ব্যক্তি ডিলার অপু শিকদারের কাছ থেকে দুই হাজার টাকা নিয়ে চলে গেছেন। তবে এ অর্থ লেনদেনের অভিযোগের পক্ষে স্বাধীনভাবে যাচাই করা কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি। ফলে অভিযোগটির সত্যতা নিশ্চিত করতে তদন্ত প্রয়োজন।
তদারকি নিয়ে প্রশ্ন
ওএমএস কর্মসূচির মূল উদ্দেশ্য হলো নিম্ন আয়ের মানুষের কাছে সাশ্রয়ী মূল্যে খাদ্যপণ্য পৌঁছে দেওয়া। এ কর্মসূচির আওতায় বরাদ্দ করা চাল ও আটা নির্ধারিত স্থানে যথাযথভাবে বিক্রি হচ্ছে কি না, তা নিশ্চিত করতে পণ্য পরিবহন, মজুত, বিক্রি এবং অবশিষ্ট পণ্যের হিসাব নিয়মিত যাচাই করা জরুরি।
দক্ষিণখানের এ ঘটনায় ডিলারের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের পাশাপাশি তদারকি কার্যক্রম কতটা কার্যকর ছিল, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। তদারককারীদের বিরুদ্ধে অর্থের বিনিময়ে অনিয়মে সহায়তা করার যে অভিযোগ উঠেছে, সেটিও তদন্তের মাধ্যমে যাচাই করা প্রয়োজন।
অপু শিকদার ও নুর আলমের বক্তব্য পাওয়া যায়নি
ঘটনার বিষয়ে ডিলার অপু শিকদার এবং সংশ্লিষ্ট তদারককারী নুর আলমের বক্তব্য জানতে তাঁদের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়। তবে তাঁরা ফোন না ধরায় তাঁদের বক্তব্য পাওয়া সম্ভব হয়নি।
সরকারি খাদ্যপণ্য বিতরণে কোনো অনিয়ম হয়ে থাকলে তা তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। তবে অভিযোগের চূড়ান্ত সত্যতা নির্ধারণে সংশ্লিষ্ট নথিপত্র যাচাই ও সংশ্লিষ্ট সবার বক্তব্য নেওয়া জরুরি।