আব্দুল গফুর:
কক্সবাজার জেলা কারাগারের জেলার দেলোয়ারের বিরুদ্ধে বন্দিদের কাছ থেকে অর্থ আদায়, ঘুষ বাণিজ্য, ডান্ডাবেড়ি পরিয়ে নির্যাতন, কারাগারের ভেতরে নানা অনিয়ম এবং মাদক-সংশ্লিষ্ট কর্মকাণ্ডে প্রশ্রয় দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। সম্প্রতি বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত একাধিক প্রতিবেদনে এসব অভিযোগ সামনে এলেও কার্যকর ব্যবস্থা দৃশ্যমান না হওয়ায় বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন সংশ্লিষ্টরা।
অভিযোগে বলা হয়েছে, কারাগারে ভালো বা ভিআইপি সিট, উন্নত খাবার এবং অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা পাইয়ে দেওয়ার নামে বন্দিদের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের অর্থ আদায় করা হয়। এমনকি স্বজনদের সঙ্গে সাক্ষাতের ক্ষেত্রেও নিয়মিত প্রক্রিয়ার বাইরে অর্থ লেনদেনের অভিযোগ রয়েছে।
আরও অভিযোগ রয়েছে, অর্থ দিতে অপারগ বন্দিদের ডান্ডাবেড়ি পরিয়ে সেলে আটকে রাখা, ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করা হয়। অভিযোগকারীদের দাবি, ডান্ডাবেড়িকে চাঁদাবাজির হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করে বন্দিদের পরিবার থেকে বড় অঙ্কের অর্থ আদায় করা হচ্ছে।
এ ছাড়া কারা হাসপাতালেও অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ অনুযায়ী, অর্থের বিনিময়ে কিছু সুবিধাভোগী ও মাদক মামলার আসামিদের হাসপাতাল ওয়ার্ডে বিশেষ সুবিধা দেওয়া হয়। কারাগারের ক্যান্টিনের হিসাব নিয়েও নানা অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে।
এসব অভিযোগের বিষয়ে জানতে জেলার দেলোয়ারের সঙ্গে একাধিকবার মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। ফলে এ বিষয়ে তাঁর বক্তব্য পাওয়া সম্ভব হয়নি।
তবে কক্সবাজার জেলা কারাগারের তত্ত্বাবধায়ক (জেল সুপার) জানিয়েছেন, কারাবন্দিদের ওপর নির্যাতন, অর্থ দাবি এবং নিয়মবহির্ভূতভাবে ডান্ডাবেড়ি ব্যবহারের অভিযোগগুলো সর্বোচ্চ গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে তদন্তসাপেক্ষে দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এদিকে সচেতন মহলের দাবি, কক্সবাজার জেলা কারাগারে ওঠা এসব গুরুতর অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত করে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হোক। একই সঙ্গে কারাগারে স্বচ্ছতা, জবাবদিহি এবং বন্দিদের মানবাধিকার নিশ্চিত করতে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণেরও আহ্বান জানিয়েছেন তারা।