কক্সবাজারে পাহাড় কেটে মাটি বিক্রি, মাদার ট্রি নিধন—বিলুপ্তির পথে সবুজ বনভূমি

স্টাফ রিপোর্টার:

কক্সবাজার শহরের পুলিশ লাইনের সামনে মাটিয়াতলী এলাকায় অবস্থিত জেলা কারাগারের পশ্চিম পাশের পাহাড়ে চলছে নির্বিচারে পাহাড় কাটা ও মাদার ট্রি গাছ নিধন। এতে দ্রুত ধ্বংসের মুখে পড়ছে ঐতিহ্যবাহী সবুজ বনভূমি ও প্রাকৃতিক পরিবেশ।

স্থানীয় সূত্রে খবর পেয়ে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, এক সময় সবুজে ঘেরা পাহাড় এখন প্রায় উজাড়। বড় বড় মাদার ট্রি গাছ কেটে ফেলা হয়েছে, এমনকি গাছের শিকড় পর্যন্ত উপড়ে ফেলা হচ্ছে, যাতে ভবিষ্যতে এর কোনো অস্তিত্ব না থাকে। এলাকাবাসীর মতে, কিছুদিন আগেও এই পাহাড়ে ছিল ঘন সবুজ বন ও বিভিন্ন প্রজাতির পাখির আবাসস্থল। বর্তমানে সেই জীববৈচিত্র্য প্রায় বিলুপ্তির পথে।

অভিযোগ উঠেছে, একটি প্রভাবশালী চক্র পাহাড় দখল করে মাটি কেটে বিক্রি করছে। এলাকাবাসীর ভাষ্য অনুযায়ী, বিগত নির্বাচনের দুই মাস আগে পাহাড়ের একাংশ আবুল কাশেম ও নাজিমুদ্দিনের নেতৃত্বাধীন সিন্ডিকেট দখল করে মাটি কাটা শুরু করে। অপর অংশে ওয়ার্ড যুবদল নেতা শাহাবুদ্দীনের নেতৃত্বে আরেকটি সিন্ডিকেট পাহাড় কেটে ও গাছ নিধন চালিয়ে যাচ্ছে। প্রভাবশালীদের ভয়ে কেউ প্রকাশ্যে প্রতিবাদ করতে সাহস পাচ্ছে না বলেও জানান তারা।

এলাকাবাসীর আশঙ্কা, দ্রুত প্রশাসনিক ব্যবস্থা না নিলে আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যেই এই পাহাড় ও মাদার ট্রি গাছের কোনো চিহ্ন অবশিষ্ট থাকবে না।

এ বিষয়ে বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা) কক্সবাজার জেলা সাধারণ সম্পাদক করিম উল্লাহ কলিম বলেন, “পাহাড় পৃথিবীর প্রাকৃতিক ভারসাম্যের অন্যতম ভিত্তি এবং গাছ আমাদের অক্সিজেনের উৎস। এভাবে পাহাড় ও গাছ ধ্বংস হলে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য মারাত্মক বিপর্যয় ডেকে আনবে।” তিনি সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের প্রতি দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানান এবং অন্যথায় কঠোর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দেন।

এ বিষয়ে কক্সবাজার পরিবেশ অধিদপ্তরের উপসহকারী পরিচালক আবদুস সালাম জানান, “অভিযোগ পেয়ে গত ১৪ মার্চ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে পাহাড় কাটা ও গাছ নিধনের সত্যতা পাওয়া গেছে। ইতোমধ্যে কয়েকজনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে এবং নতুন করে যারা জড়িত, তাদের বিরুদ্ধেও মামলার প্রস্তুতি চলছে।”

তিনি আরও বলেন, “যারা পাহাড় দখল করে টিনের ঘর নির্মাণ করেছে, সেগুলো উচ্ছেদ করার ক্ষমতা পরিবেশ অধিদপ্তরের নেই। যেহেতু জমিটি ১ নম্বর খাস খতিয়ানভুক্ত, তাই উচ্ছেদের দায়িত্ব কক্সবাজার সদর ইউএনও বা সহকারী কমিশনার (ভূমি) গ্রহণ করতে পারেন।”

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *