কচুয়ায় অন্তঃসত্তা স্ত্রী স্বামীর বাড়িতে যাওয়ার আধাঘণ্টা পর নির্যাতনে হত্যার অভিযোগ

স্টাফ রিপোর্টার:

চাঁদপুরের কচুয়ায় ইকরা আক্তার (১৯) নামের এক গৃহবধূর রহস্যজনক মৃত্যুর অভিযোগ পাওয়া গেছে। বুধবার বেলা সাড়ে ১১টায় উপজেলার বিতারা গ্রাম থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। নিহত ইকরা আক্তার উপজেলার আশারকোটা গ্রামের ইউনুস মিয়ার মেয়ে। ঘটনার পর থেকে নিহতের স্বামী ও শাশুড়ি পলাতক।

নিহতের পরিবার ও থানা সূত্রে জানা গেছে, ৪ মাস পূর্বে কচুয়া উপজেলার বিতারা গ্রামের সফিকুল ইসলামের (আলম) ছেলে সম্রাটের সাথে ইকরার পারিবারিকভাবে বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকে তার স্বামী সম্রাট ও তার মা ইকরার ওপর মানসিকসহ বিভিন্নভাবে নির্যাতন করে আসছে। যার ফলে ইকরা অধিকাংশ সময় তার বাপের বাড়িতে থাকত। এরই মধ্যে ইকরা ৩ মাসের অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়ে।

দীর্ঘদিন পর বুধবার (৮ এপ্রিল) সকালে মেয়ে ইকরা আক্তারকে নিয়ে তার মা জোসনা বেগম ইকরার স্বামীর বাড়ি বিতারা গ্রামে রওয়ানা হয়। ইকরার স্বামী সম্রাট তার স্ত্রী ও শাশুড়িকে গ্রামের বাড়িতে যেতে না দিয়ে পথিমধ্যে উত্তর পালাখাল মোড় নামক এলাকা থেকে শুধু তার স্ত্রী ইকরাকে রিসিভ করে তার বিতারা গ্রামে নিয়ে যায়। শাশুড়িকে বাড়িতে ফেরত পাঠায়। ইকরার মা বাড়িতে পৌঁছানোর ৩০ মিনিট পর মোবাইলে খবর পান তার মেয়ে মারা গেছে।

ইকরা আক্তারের মা জোসনা আক্তার জানান, “৩০ মিনিট আগে আমার মেয়েকে সুস্থ অবস্থায় দিয়ে গেলাম, আর এখন খাটের ওপর লাশ। আমার মেয়েকে নির্যাতন করে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে। আমি এ হত্যার বিচার চাই।”

ভাই ইমন হোসেন জানান, “আমার বোনকে বিয়ের পূর্বে সম্রাট নিজেকে অবিবাহিত বলে বিয়ে করেছে। পরে জানতে পারি সে কুমিল্লায় জনৈক এক নারীকে বিয়ে করেছে। সেখানে তার ছেলে সন্তানও রয়েছে। আমার বোনকে বিয়ের পর থেকে বিভিন্ন সময়ে অকারণে সম্রাট মারধর করত। বর্তমানে আমার বোন ৩ মাসের অন্তঃসত্ত্বা। আমার বোনকে নির্যাতন করে হত্যা করা হয়েছে। হত্যাকারীদের শাস্তি চাই।”

এদিকে পরিবারের দাবি, মরদেহের সুরতহাল তৈরির সময় তাদের কাউকে রাখা হয়নি। তাদের সামনে পুনরায় সুরতহাল তৈরির দাবি জানান।

কচুয়া থানার ওসি (তদন্ত) মোঃ রাশেদ বলেন, নিহতের মরদেহ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসা হয়েছে। ময়নাতদন্তের জন্য চাঁদপুর সরকারি জেনারেল হাসপাতালে বৃহস্পতিবার সকালে প্রেরণ করা হবে। পরিবারের লোকজন থানায় আসছেন। তাদের পক্ষ থেকে অভিযোগ করার প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। অভিযোগ পেলে তদন্তপূর্বক আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ছবি: গৃহবধূ ইকরা আক্তার

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *