স্টাফ রিপোর্টার:
বাংলাদেশে হাজারো সমস্যা রয়েছে। দীর্ঘ সতেরো বছরের শাসনামলে সৃষ্টি হওয়া এসব সমস্যা একসঙ্গে বর্তমান সরকারের পক্ষে সমাধান করা সম্ভব নয়—এ কথা এখন সবার মুখে মুখে। এই অসংখ্য সমস্যার মধ্যে এক নম্বর সমস্যা মাদক, দুই নম্বর সমস্যা যানজট এবং তিন নম্বর সমস্যা বিদ্যুৎ। এই তিনটি সমস্যার দ্রুত সমাধান করা গেলে বদলে যেতে পারে বাংলাদেশ। বিশ্বদরবারে মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে পারবে দেশ।
কিন্তু সবচেয়ে বড় সমস্যা হলো মাদক নির্মূল করতে না পারা। এর পেছনে রয়েছে বিপুল অঙ্কের অর্থ। এই অর্থের জোরেই মাদক ব্যবসায়ীরা প্রশাসনের কিছু অসাধু কর্মকর্তা-কর্মচারীকে প্রভাবিত করে। ফলে সমস্যার স্থায়ী সমাধান করা কঠিন হয়ে পড়ে। মাদক যেহেতু নগদ অর্থের সঙ্গে জড়িত, তাই বড় বড় মাদক ব্যবসায়ীরা বরাবরই থেকে যায় ধরাছোঁয়ার বাইরে। বর্তমানে প্রশাসন ছোটখাটো ব্যবসায়ীদের ধরলেও বড় মাদক ডিলারদের ধরার নজির খুবই কম। এমনকি পুলিশের বিরুদ্ধেও মাদক ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে ঘুষ নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে।
মাদক নির্মূল না করলে দেশের যুবসমাজকে রক্ষা করা সম্ভব নয়। যুবসমাজ ধ্বংস হয়ে গেলে বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ প্রজন্মও বিপন্ন হয়ে পড়বে। তাই যে করেই হোক মাদক নির্মূল করা জরুরি।
তারেক রহমান, বিএনপির চেয়ারপারসন ও বর্তমান প্রধানমন্ত্রী, দেশের স্বার্থে মাদকবিরোধী কঠোর অবস্থানের ঘোষণা দিয়েছেন। দীর্ঘ সতেরো বছর বিদেশে অবস্থানের পর তিনি দেশে ফিরে দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন এবং যুবসমাজকে রক্ষায় মাদকমুক্ত বাংলাদেশ গড়ার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছেন। প্রধানমন্ত্রীর এই ঘোষণাকে বাস্তবায়নের লক্ষ্যে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা কাজ করে যাচ্ছেন। তবে কিছু অসাধু পুলিশ সদস্যের কর্মকাণ্ডে পুরো বাহিনীর ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ হওয়া কাম্য নয়।
অভিযোগ রয়েছে, কদমতলী থানা এলাকার ধনিয়া ওয়ালটন গলির সাগরপাড়ের মাঠে প্রতিদিন লক্ষ লক্ষ টাকার মাদক কেনাবেচা হয়। অথচ সেখানে পুলিশের তেমন জোরালো অভিযান দেখা যায় না।
সমাজে পুলিশের গুরুত্ব অপরিসীম। তাই পুলিশকে হতে হবে শক্তিশালী ও কঠোর। পুলিশ কঠোর না হলে সমস্যার সমাধান সম্ভব নয়। বর্তমানে পুলিশ বাহিনীতে অনেক সৎ ও দেশপ্রেমিক কর্মকর্তা রয়েছেন। তবে কিছু সদস্যের বিরুদ্ধে এখনো প্রতি সপ্তাহে মাদক ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে ঘুষ নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। এর মধ্যে কদমতলী থানার এসআই দেব ও এএসআই কাজলের নাম উল্লেখ করা হচ্ছে।
অভিযোগ অনুযায়ী, সাগরপাড় এলাকার মাদক ব্যবসায়ী নাসির তার বিকাশ নম্বর (শেষ ডিজিট ৪৭) থেকে প্রতি সপ্তাহে ৮ থেকে ১০ হাজার টাকা এসআই দেবকে প্রদান করেন। এ বিষয়ে এসআই দেব বলেছেন, তিনি নাসির নামে কাউকে চেনেন না। অথচ স্থানীয়দের দাবি, নাসির একজন পরিচিত মাদক ব্যবসায়ী।
শুধু নাসিরকে গ্রেপ্তার করে আদালতে চালান দিলেই সমস্যার সমাধান হবে না। বড় আইনজীবীর সহায়তায় মোটা অঙ্কের টাকার বিনিময়ে জামিন নিয়ে আবারও মাদক ব্যবসা শুরু করার আশঙ্কা থেকে যায়। তাই প্রকৃত সমাধানের জন্য প্রয়োজন সঠিক তদন্ত ও জিজ্ঞাসাবাদ, যাতে বড় মাদক চক্র ও তাদের গডফাদারদের চিহ্নিত করা যায়।
মাদকমুক্ত বাংলাদেশ গড়তে হলে কঠোর পদক্ষেপ ও সৎ উদ্যোগের বিকল্প নেই। দেশের ভবিষ্যৎ রক্ষায় এখনই কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা জরুরি।