মোহাম্মদ হোসেন হ্যাপী:
নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা থেকে নিখোঁজ হওয়া যুবক শুভ (২১)-এর মরদেহ অবশেষে শনাক্ত করেছে তার পরিবার। রূপগঞ্জের কাঞ্চন ব্রিজের নিচ থেকে গত ৩১ মার্চ অজ্ঞাত পরিচয়ে উদ্ধার হওয়া লাশটি নিখোঁজ শুভর বলে নিশ্চিত করেছেন তার স্বজনরা।
রোববার দুপুরে বিষয়টি নিশ্চিত করেন নারায়ণগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক-সার্কেল) হাসিনুজ্জামান। তিনি জানান, পরিবারের সদস্যরা লাশটি শনাক্ত করেছেন।
এর আগে, গত ২ এপ্রিল শুভর মা মাকসুদা বেগম বাদী হয়ে ফতুল্লা মডেল থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। মামলায় নারায়ণগঞ্জ মহানগর স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক সাখাওয়াত ইসলাম রানাকে প্রধান আসামি করা হয়।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত ২৯ মার্চ সন্ধ্যা আনুমানিক ৬টার দিকে মো. শাকিল ও লাল শুভ নামে দুই ব্যক্তি জরুরি কাজের কথা বলে শুভকে ফতুল্লার চানমারী বস্তি এলাকায় ডেকে নিয়ে যায়। পূর্বশত্রুতার জেরে সেখানে তাকে মারধর করে অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে যাওয়া হয়। এরপর থেকেই তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোনটি বন্ধ পাওয়া যায়।
পরবর্তীতে তাকে চাষাড়া রেললাইন সংলগ্ন একটি অটোরিকশা গ্যারেজে নিয়ে নির্যাতন করে গুম করা হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
মামলায় সাখাওয়াত ইসলাম রানা ছাড়াও কাশেম, সাব্বির, মো. শাকিল, পাপ্পু, আলী মিয়া, জাহিদ, আব্দুর রাজ্জাক, ওয়াসিম, লাল শুভসহ অজ্ঞাত আরও ১২ জনকে আসামি করা হয়েছে। তাদের সবার বাড়ি ফতুল্লার ইসদাইর বস্তি এলাকায় বলে উল্লেখ রয়েছে।
এ ঘটনায় ইতোমধ্যে সাব্বির, রাজ্জাক ও মহসিন নামে তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ফতুল্লা মডেল থানার এসআই মিলন ফকির জানান, গ্রেপ্তারদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে এবং ঘটনার রহস্য উদ্ঘাটনে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার হাসিনুজ্জামান বলেন, “গত ৩১ মার্চ রূপগঞ্জের কাঞ্চন ব্রিজের নিচ থেকে অজ্ঞাত পরিচয়ের একটি লাশ উদ্ধার করা হয়। পরে পরিবারের সদস্যরা সেটিকে শুভর বলে শনাক্ত করেছেন। তাকে ডেকে নেওয়া ব্যক্তি ও মোটরসাইকেল সংশ্লিষ্টদের গ্রেপ্তার করা গেলে হত্যার মূল রহস্য উদ্ঘাটন সম্ভব হবে।”
তিনি আরও জানান, পলাতক আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।