আব্দুর রশিদ:
রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় সাবেক সেনা সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল গাফফার গাজীর দাফন সম্পন্ন হয়েছে। রবিবার বাদ জুম্মা, চতুর্থ রমজান, সাতক্ষীরা কালীগঞ্জ উপজেলা মডেল জামে মসজিদ ও ইসলামী সাংস্কৃতিক কেন্দ্রের সামনে উপজেলা পরিষদ চত্বরে নামাজে জানাজা শেষে জেলা সশস্ত্র বাহিনী বোর্ড কর্তৃক সম্মাননা ও গার্ড অব অনার প্রদান শেষে তাকে মহৎপুর সরকারি কবরস্থানে দাফন করা হয়।
বীর মুক্তিযোদ্ধা ও সাবেক সেনা সদস্য আব্দুল গাফফারের দাফনের আগে কালীগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ জুয়েল হোসেনের নেতৃত্বে এক চৌকস পুলিশ সদস্যের দল গার্ড অব অনার প্রদান করেন। ওই সময় সহকারী কমিশনার (ভূমি) মাইনুল ইসলাম খান বীর মুক্তিযোদ্ধা ও সাবেক সেনা সদস্যের কফিনে ফুল দিয়ে শেষ শ্রদ্ধা জানান।
এ সময় কালীগঞ্জ মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সাবেক ডেপুটি কমান্ডার বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুর রউফ, নূর মোহাম্মদ, মনির হোসেন, শাহাদাত হোসেন, প্রাক্তন শিক্ষক মমতাজ হোসেন মন্টু, সাবেক সেনা সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা আমজাদ হোসেনসহ বহু মুক্তিযোদ্ধা ও সন্তান কমান্ডের সদস্য, শত শত মুসল্লি, সুধীজন, সাংবাদিকসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গ জানাজায় উপস্থিত ছিলেন।
সাবেক সেনা সদস্য ও বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল গাফফার গাজী শনিবার দুপুরে বুকে ব্যথা অনুভব করলে তাকে বিকেলে সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। ওই দিন রাত দেড়টার দিকে তিনি ইন্তেকাল করেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। তিনি শীতলপুর গ্রামের মৃত ইমান আলী গাজীর পুত্র।
মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৭৬ বছর। তিনি স্ত্রী, ২ পুত্র ও ৭ কন্যাসন্তানসহ বহু গুণগ্রাহী রেখে গেছেন।
বীর মুক্তিযোদ্ধা ও সাবেক এই সেনা সদস্য ১৯৭৭ সালে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ৫ম ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টে যোগদান করেন। দীর্ঘ চাকরি শেষে ১৯৯২ সালে তিনি ল্যান্স কর্পোরাল পদে চাকরি থেকে অবসর গ্রহণ করেন। তিনি দীর্ঘদিন ধরে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে ভুগছিলেন।
দাফনের আগে জেলা সশস্ত্র বাহিনী বোর্ডের পক্ষ থেকে কালীগঞ্জে অবস্থিত পাওখালী আর্মি ক্যাম্পের ক্যাম্প অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট আব্দুল কাদেরের নেতৃত্বে এক চৌকস সেনাদল এই বীর মুক্তিযোদ্ধার প্রতি সালাম ও সম্মান প্রদর্শন করেন।
বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল গাফফার গাজী দৈনিক যশোর বার্তা পত্রিকার কালীগঞ্জ প্রতিনিধি সাংবাদিক আব্দুল কাদেরের পিতা এবং কালীগঞ্জের ঐতিহ্যবাহী সৈনিক হোটেলের মালিক ছিলেন।