কেরানীগঞ্জ প্রতিনিধি:
ঢাকার কেরানীগঞ্জে প্লাস্টিকের খেলনা তৈরির কারখানায় অগ্নিকাণ্ডে সাকিব নামে এক শ্রমিক নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় কারখানার ইউনিট ম্যানেজার মো. মানিকসহ দুজন দগ্ধ হয়েছেন। তাঁদের মধ্যে মানিকের শরীরের শতভাগ পুড়ে গেছে বলে জানিয়েছেন চিকিৎসক।
সোমবার (২৬ অক্টোবর) দুপুর ১২টা ২৫ মিনিটের দিকে উপজেলার কালিন্দী ইউনিয়নের আতাশুর এলাকার একটি সাততলা ভবনের সপ্তম তলায় অবস্থিত এসএস টয় কারখানায় এ অগ্নিকাণ্ড ঘটে। ফায়ার সার্ভিসের ছয়টি ইউনিটের চেষ্টায় বেলা ২টার দিকে আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে।
অগ্নিকাণ্ডের কারণ ও দায় নির্ধারণে সাত সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটিকে আগামী সাত কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে। এ ছাড়া নিহত শ্রমিকের পরিবারকে ২৫ হাজার টাকা এবং আহত দুজনকে ১০ হাজার টাকা করে আর্থিক সহায়তা দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন কেরানীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) উমর ফারুক।
ফায়ার সার্ভিস ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, আগুন লাগার সময় কারখানায় কয়েকজন শ্রমিক প্লাস্টিকের খেলনায় বিভিন্ন রঙের স্প্রে ও প্রিন্টের কাজ করছিলেন। শ্রমিকদের বরাতে জানা গেছে, কারখানার সপ্তম তলার গোডাউনে বিস্ফোরণের পর আগুন ছড়িয়ে পড়ে। সেখানে প্লাস্টিকের খেলনা, তারপিন, থিনারসহ বিভিন্ন দাহ্য রাসায়নিক থাকায় আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে।
এ সময় আতঙ্কিত শ্রমিকেরা দ্রুত ভবন থেকে বেরিয়ে আসেন। তবে সাকিব গোডাউনের ভেতরে আটকা পড়ে দগ্ধ হয়ে মারা যান। অগ্নিদগ্ধ মানিকসহ দুজনকে উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠানো হয়। দুপুর ১টার দিকে মানিককে জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে নেওয়া হয়।
হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসক ডা. সুলতান মাহমুদ শিকদার জানান, মানিকের শরীরের শতভাগ পুড়ে গেছে। তাঁর অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) নেওয়ার ব্যবস্থা করা হচ্ছিল। অপর আহত শ্রমিককে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে ভর্তি করা হয়েছে।
ঢাকা ফায়ার সার্ভিসের সহকারী পরিচালক মো. রোকনুজ্জামান জানান, খবর পেয়ে কেরানীগঞ্জ ফায়ার সার্ভিসের দুটি, পোস্তগোলা ফায়ার সার্ভিসের তিনটি এবং সদর দপ্তরের একটি ইউনিটসহ মোট ছয়টি ইউনিট আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করে। প্রায় দেড় ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে।
তিনি আরও জানান, প্রাথমিকভাবে কারখানাটিতে পর্যাপ্ত অগ্নিনিরাপত্তাব্যবস্থা পাওয়া যায়নি। তবে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ তদন্ত শেষে জানা যাবে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা উমর ফারুক জানান, অগ্নিকাণ্ডের কারণ অনুসন্ধানে গঠিত সাত সদস্যের তদন্ত কমিটি আগামী সাত কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দেবে। নিহত শ্রমিকের পরিবারকে ২৫ হাজার টাকা এবং আহত দুজনকে ১০ হাজার টাকা করে আর্থিক সহায়তা দেওয়া হবে।
কারখানাটিতে অগ্নিনিরাপত্তাব্যবস্থা ছিল কি না, কীভাবে আগুনের সূত্রপাত হয়েছে এবং ভবন থেকে শ্রমিকদের নিরাপদে বের হওয়ার পর্যাপ্ত ব্যবস্থা ছিল কি না—এসব বিষয় তদন্তে গুরুত্ব পাবে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।