কেরানীগঞ্জ (ঢাকা) প্রতিনিধি:
ঢাকার কেরানীগঞ্জে কথিত ভূমিদস্যু ও প্রভাবশালী হিসেবে পরিচিত ওহেদুজ্জামান ওহেদ–কে ঘিরে একাধিক অভিযোগ ও মামলা নিয়ে স্থানীয় পর্যায়ে ব্যাপক আলোচনা তৈরি হয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, তিনি দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক প্রভাব ও ক্ষমতার বলয় ব্যবহার করে বিভিন্ন ধরনের কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছেন এবং তার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগগুলো এখনো পুরোপুরি আইনের আওতায় আসেনি।
ওহেদুজ্জামান ওহেদ কেরানীগঞ্জের ইকুরিয়া এলাকার স্থায়ী বাসিন্দা এবং ব্যবসায়ী হিসেবে পরিচিত। তার পিতার নাম চুন্নু বেপারী এবং মাতার নাম মাহমুদা খাতুন। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, তিনি শুভাঢ্যা ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডে একাধিকবার মেম্বার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। এছাড়া তিনি সাবেক ফ্যাসিস্ট হাসিনা সরকারের বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ–এর ঘনিষ্ঠ সহযোগী বলেও এলাকায় পরিচিত। একইসঙ্গে স্থানীয়দের একটি অংশের দাবি, তিনি ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক দল বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ–এর বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক বজায় রেখে প্রভাব বিস্তার করেছেন।

পুলিশ ও আদালত সংশ্লিষ্ট নথি অনুযায়ী, তার বিরুদ্ধে ঢাকার বিভিন্ন থানায় একাধিক মামলা দায়ের হয়েছে। এর মধ্যে ১। ডিএমপি এর আদাবর থানার এফআইআর নং-১৯, তারিখঃ ৩০ নভেম্বর ২০২৪, জিআর নং-২৬৭, তারিখঃ ৩০ নভেম্বর ২০২৪ সময়ঃ ১৩.০৫ ঘটিকা, ধারা-১০৯/১১৪/১৪৮/১৪৯/১৫৩/৩০২/৩৪ পেনাল কোড ১৮৬০ এজহারে অভিযুক্ত। ২। ঢাকা এর দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানার এফআইআর নং-২১/৪৯৩, তারিখঃ ০৬ সেপ্টেম্বর ২০১৮, সময়ঃ ১১.৪৫ ঘটিকা, ধারা-১৪৩/৪৪৭/৩২৩/৩৮৯/১১৪/৪২৭/৩৮৫/৩৮৬/৫০৬ পেনাল কোড ১৮৬০ এজহারে অভিযুক্ত। ৩। ঢাকা এর দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানার এফআইআর নং-৫০/৪৭০, তারিখঃ ৩০ আগস্ট ২০১৮, সময়ঃ ১৬.১৫ ঘটিকা, ধারা-৩০৭/১৪৩/৩৪১/৫০৬/১০৯/২৪ পেনাল কোড ১৮৬০ এজহারে অভিযুক্ত। ৪। ঢাকা এর দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানার এফআইআর নং-০৬, তারিখ-১৫ আগস্ট ২০২৪, জিআর নং-৫৩৫, তারিখঃ ১৫ আগস্ট ২০২৫, সময়ঃ ১৬.৩০ ঘটিকা, ধারা-৩/৪ The explosive Substances Act, 1908, তৎসহ 143/341/147/149/323/325/326/307/427/506/34 The Penal code 1860 এজাহারে অভিযুক্ত- ৫। ঢাকা এর মোহাম্মদপুর থানার এফআইআর নং-৬২, তারিখঃ ১৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৫, জিআর নং-১৬৯, তারিখঃ ১৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৫ সময়ঃ ২৩.১০ ঘটিকা, ধারা-১০৯/৩০২/১১৪/৩৪ The Penal পেনাল কোড ১৮৬০ এজহারে অভিযুক্ত। ৬। ঢাকা এর দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ মডেল থানার এফআইআর নং-০৬, তারিখ-০৮ অক্টোবর ২০২৪, জিআর নং-৩৮৯, তারিখঃ ০৮ অক্টোবর ২০২৪, সময়ঃ ০২.১৫ ঘটিকা, ধারা-১০৯/৩০২/১১৪/৩৪ The Penal code 1860 এজাহারে অভিযুক্ত-ফাইনাল রিপোর্ট: ৩০, তারিখঃ ১১ আগস্ট ২০২৫, এই মামলায় অব্যাহতি প্রদান করা হয়েছে।
তবে একাধিক মামলার অস্তিত্ব থাকা সত্ত্বেও তিনি প্রকাশ্যে চলাফেরা করছেন বলে অভিযোগ স্থানীয়দের। তাদের দাবি, রাজনৈতিক প্রভাবের কারণে তিনি আইনের আওতার বাইরে থাকছেন।

এ বিষয় ওহেদুজ্জামান ওহেদ বলেন, আমার বিরুদ্ধে নিউজ করলে লাভ নেই। আমি অনেক সাংবাদিক লালন পালন করে আসছি। আপনার যা ইচ্ছা করেন
স্থানীয় বাসিন্দারা অভিযোগ করে বলেন, জমি দখল, প্রভাব খাটানো এবং বিভিন্ন অনিয়মের সঙ্গে তার নাম জড়িত থাকলেও ভয়ে অনেকেই প্রকাশ্যে মুখ খুলতে চান না। এতে এলাকায় এক ধরনের ভয়ের পরিবেশ তৈরি হয়েছে বলে দাবি তাদের। অন্যদিকে, সংশ্লিষ্ট আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো বিস্তারিত মন্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে একাধিক মামলার তদন্ত চলমান রয়েছে বলে জানা গেছে।
ফ্যাসিস্ট হাসিনা সরকারের আমলে এলাকার অনেকেই তার মাধ্যমে হয়রানির শিকার হয়েছেন বলেও অভিযোগ করেন তারা।
এদিকে, ওহেদুজ্জামান ওহেদকে ঘিরে ওঠা অভিযোগ এবং রাজনৈতিক প্রভাবের বিষয়টি নিয়ে কেরানীগঞ্জে জনমনে নানা প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এসব অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার নিশ্চিত করা গেলে প্রকৃত সত্য উদঘাটন সম্ভব হবে এবং এলাকায় স্বচ্ছতা ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় তা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।