মোঃ আনজার শাহ:
রাজধানীর কাকরাইলের ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ারিং ইনস্টিটিউটে বিপুল উৎসাহ ও উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে উদযাপিত হলো গণঅধিকার পরিষদ (জিওপি)-এর চতুর্থ প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী। চার বছরের পথচলায় ‘জনগণের অধিকারই রাজনীতি’র স্লোগানকে সামনে রেখে গড়ে ওঠা এ সংগঠনের এবারের প্রতিপাদ্য— “অন্যায়ের বিরুদ্ধে অবিচল, জনগণের পক্ষে দৃঢ়।”
অনুষ্ঠানস্থলজুড়ে ছিল রঙিন ব্যানার, ফেস্টুন আর স্লোগানের উচ্ছ্বাস। দেশপ্রেম আর পরিবর্তনের অঙ্গীকারে মুখরিত তরুণ প্রজন্মের কণ্ঠে বারবার ধ্বনিত হয়— “গণঅধিকার পরিষদ মানে জনগণের অধিকার।”
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাউদ্দিন আহমেদ ও আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। বিশেষ অতিথি হিসেবে ছিলেন বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি ভিপি নুরুল হক নুর, সাধারণ সম্পাদক রাশেদ খান, উচ্চতর পরিষদের সদস্য আবু হানিফ ও তোফাজ্জল হোসেনসহ দলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ।
নুরুল হক নুর বলেন, “চার বছরের এই যাত্রাপথ সহজ ছিল না। নানা প্রতিবন্ধকতা পেরিয়ে আজ আমরা জনগণের ভালোবাসা আর আস্থার জায়গায় দাঁড়িয়ে আছি। আমাদের সংগ্রাম ক্ষমতার জন্য নয়— জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য। এই লড়াই চলবে যতদিন অন্যায় থাকবে।”
সাধারণ সম্পাদক রাশেদ খান বলেন, “আমরা বিশ্বাস করি রাজনীতি মানে জনগণের সেবা। আগামী দিনে তৃণমূল থেকে জাতীয় পর্যায় পর্যন্ত সংগঠনকে আরও শক্তিশালী করে দেশের প্রতিটি মানুষের অধিকার আদায়ে আমরা লড়বো।”
অনুষ্ঠানে বিএনপি নেতা সালাউদ্দিন আহমেদ বলেন, “গণঅধিকার পরিষদের মতো তরুণ সংগঠনগুলো দেশের রাজনীতিতে নতুন ধারা আনছে। তাদের এই সক্রিয় অংশগ্রহণ গণতন্ত্রের ভবিষ্যৎকে আরও শক্তিশালী করবে।”
প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে অনুষ্ঠিত সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, আলোচনা সভা ও শপথ পাঠে নেতাকর্মীরা পুনর্ব্যক্ত করেন গণতন্ত্র, ন্যায়বিচার ও মানবাধিকারের প্রতি তাদের অঙ্গীকার। ছাত্র অধিকার পরিষদের সভাপতি বিন ইয়ামিন মোল্লা বলেন, “আমরা এমন এক বাংলাদেশ চাই, যেখানে রাষ্ট্র নাগরিকের সেবক হবে, প্রভু নয়।”
চার বছরের পথচলায় সংগঠনটি দুর্নীতি, অন্যায় ও অবিচারের বিরুদ্ধে সোচ্চার ভূমিকা রেখে তরুণদের মধ্যে রাজনৈতিক সচেতনতা বাড়িয়েছে।
অনুষ্ঠানের শেষ পর্বে সংগঠনের ভবিষ্যৎ কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়। উপস্থিত নেতৃবৃন্দ প্রতিজ্ঞা করেন— জনগণের প্রত্যাশা পূরণে, ন্যায় ও সমতার সমাজ গঠনে, গণঅধিকার পরিষদ থাকবে সবসময় জনগণের পাশে।
শেষে তরুণদের কণ্ঠে প্রতিধ্বনিত হয় একটাই অঙ্গীকার