নিজস্ব প্রতিবেদক, গাজীপুর:
ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের গাজীপুরের টঙ্গী ও গাছা এলাকায় প্রতিনিয়ত দুর্ঘটনার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে ব্যাটারি চালিত অটোরিকশা বা ইজিবাইক। দীর্ঘদিনের নিরাপত্তা হুমকি সত্ত্বেও এই যানগুলোকে মহাসড়কে চলাচল থেকে রোধ করা কঠিন হয়ে উঠেছে। প্রায়শই মহাসড়কে চলাচল নিষিদ্ধ করার নির্দেশ থাকলেও ব্যাটারি চালিত অটোরিকশাগুলো থামছে না, যার ফলে সাধারণ পথচারী ও যাত্রীদের জন্য ঝুঁকি ক্রমেই বেড়েছে।
ট্রাফিক বিভাগের উদ্যোগে সাম্প্রতিক সময়ে সার্জেন্টরা মহাসড়কে বেপরোয়া যানগুলো আটক করে ডাম্পিং করলেও অনেক সময় অটো ড্রাইভারদের সঙ্গে হাতাহাতি ও মনকীর্ণ সংঘর্ষের ঘটনাও ঘটছে। এই কঠোর অভিযান চালানো সত্ত্বেও সার্জেন্টরা তাদের দায়িত্বে অটল রয়েছেন। কিন্তু দুঃখজনক বিষয় হলো, একটি দুষ্টচক্র এই পরিস্থিতিকে পুঁজি করে উপকরণ করছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, এই সিন্ডিকেট অটো ড্রাইভারদের কাছ থেকে তিন থেকে চার হাজার টাকা হাতিয়ে নিয়ে উপ-কমিশনারের কাছ থেকে স্বাক্ষর নিয়ে গাড়িগুলো মুক্তি দিচ্ছে। ফলে ডাম্পিং করা অটো রিকশাগুলো অল্প সময়ের মধ্যেই রাস্তায় ফিরে আসে এবং আবারও বেপরোয়া গতিতে মহাসড়কে চলাচল শুরু করে।
একাধিক ট্রাফিক সার্জেন্ট নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক শর্তে জানান, “আমরা এত কষ্ট করে অটো আটক করি, ডাম্পিং করি, কিন্তু খুব সহজেই আমাদের উপ-কমিশনার ট্রাফিক স্যার স্বাক্ষর দিয়ে ছাড়িয়ে দেন। এতে আবারও বেপরোয়া হয়ে যানগুলো মহাসড়কে চলতে দেখা যায়। যদি সহজে ছাড়া না পেত, তবে এত বেপরোয়া চলাচল হতো না।”
মহাসড়কের সরেজমিন পরিস্থিতি যাচাই করে দেখা যায়, এখানে একটি বিশাল দালাল সিন্ডিকেট সক্রিয়। এরা কেবল অটো ছাড়ানোর জন্য বিভিন্ন পরিচয় ও কাগজপত্র ব্যবহার করে উপ-কমিশনারের কার্যালয়ে স্বাক্ষর করাচ্ছে। অনৈতিক কারণে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা হাসিমুখে এই স্বাক্ষর দিচ্ছেন।
নিয়মিত দুর্ঘটনা ও ট্রাফিক ভাঙচুরের কারণে সাধারণ মানুষ ক্রমেই অসহায় বোধ করছে। গাজীপুর ট্রাফিক বিভাগের স্বচ্ছতা এবং আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখার দাবি দীর্ঘদিন ধরে উঠছে। এলাকাবাসী ও পথচারীরা চাইছেন, মহাসড়কগুলোতে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ট্রাফিক বিভাগকে কার্যকরভাবে কাজ করতে হবে এবং দুর্নীতিমুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে।
স্থানীয় সূত্র আরও জানিয়েছেন, “যদি দালাল সিন্ডিকেটের কার্যকলাপ বন্ধ করা না হয়, উপ-কমিশনার ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা এই অনৈতিক প্রক্রিয়ায় জড়িত থাকেন, তাহলে সাধারণ মানুষ কখনোই নিরাপদভাবে রাস্তায় চলাচল করতে পারবে না।”
গাজীপুর ট্রাফিক বিভাগকে সাধারণ মানুষের পক্ষ থেকে চাওয়া হচ্ছে – দায়িত্বশীল, দুর্নীতিমুক্ত ও সুশৃঙ্খল পরিবেশ নিশ্চিত করা। একই সঙ্গে মহাসড়কে চলাচলরত অটো রিকশা ও ইজিবাইক নিয়ন্ত্রণে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা অত্যন্ত জরুরি।
বিস্তারিত ও পরবর্তী আপডেটের জন্য নজর রাখুন।