গুলশান ১ এলাকায় ‘মেসেজ পার্লার’ আড়ালে অনৈতিক কর্মকাণ্ডের অভিযোগ

স্টাফ রিপোর্টার:

রাজধানীর অভিজাত এলাকা গুলশান-১ এ “মেসেজ পার্লার” নাম ব্যবহার করে একটি প্রতিষ্ঠানের আড়ালে অনৈতিক দেহ ব্যবসা পরিচালনার অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় সূত্র ও প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি অনুযায়ী, পান্নু ও হীরা নামের দুই ব্যক্তির নেতৃত্বে দীর্ঘদিন ধরে এই কার্যক্রম পরিচালিত হয়ে আসছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

সরেজমিনে পরিস্থিতি

ঘটনাস্থলে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, “মেসেজ পার্লার” নামধারী ওই প্রতিষ্ঠানের ভেতরে একাধিক নারী অবস্থান করছেন এবং কিছু ব্যক্তি সেখানে অপেক্ষমাণ ছিলেন। বাইরে থেকে সাধারণ একটি স্পা বা পার্লারের মতো দেখালেও ভেতরের পরিস্থিতি ভিন্ন বলে অভিযোগ।

প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, সাংবাদিকদের উপস্থিতি টের পেয়ে প্রতিষ্ঠানের কথিত ব্যবস্থাপনার সঙ্গে জড়িত পান্নু-হীরা চক্রের সদস্যরা দ্রুত স্থান ত্যাগ করে পালিয়ে যায়। এ সময় ভেতরে অবস্থানরত বেশ কয়েকজন নারী সেখানে আটকা পড়ে থাকেন।

ভুক্তভোগীদের অভিযোগ

ভেতরে থাকা নারীদের কয়েকজন অভিযোগ করেন, তাদের বিভিন্নভাবে আটকে রেখে অনৈতিক কর্মকাণ্ডে বাধ্য করা হচ্ছিল। তাদের দাবি অনুযায়ী, কেউ বের হতে চাইলে তাদের ওপর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালানো হতো।

ভুক্তভোগীদের আরও অভিযোগ, সেখানে প্রায় ২০ থেকে ৩০ জন নারী অবস্থান করছিলেন। তাদের মধ্যে অন্তঃসত্ত্বা নারীও ছিলেন বলে কয়েকজন দাবি করেন।

তবে এসব অভিযোগ স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

প্রভাবশালী মহলের সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ

অভিযোগে আরও বলা হয়, পান্নু নামের ব্যক্তি রাজনৈতিকভাবে প্রভাবশালী কিছু মহলের সঙ্গে সম্পর্ক রেখে এই কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছিলেন। সন্ধ্যার পর সেখানে বিভিন্ন প্রভাবশালী ব্যক্তিদের যাতায়াত ছিল বলেও স্থানীয়রা দাবি করেন।

স্থানীয়দের মতে, প্রতিষ্ঠানের আড়ালে মূলত একটি দালালচক্র সক্রিয় ছিল, যারা নারী সংগ্রহসহ পুরো কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণ করত।

সাংবাদিকদের উপস্থিতিতে উত্তেজনা

ঘটনাস্থলে সাংবাদিকরা উপস্থিত হলে পরবর্তীতে একদল লোক এসে তাদের হুমকি-ধমকি দেয় বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। তারা নিজেদের বিভিন্ন গণমাধ্যমের সঙ্গে সম্পর্ক রয়েছে দাবি করে চাপ প্রয়োগের চেষ্টা করে বলেও জানা যায়।

প্রশাসনের বক্তব্য

এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জানান, অভিযোগ পাওয়ার পর পুলিশ ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়েছে। তিনি বলেন, “কয়েকটি জায়গা বন্ধ পাওয়া গেছে। এর আগেও এ ধরনের অভিযোগে অভিযান চালানো হয়েছিল।”

স্থানীয়দের দাবি

স্থানীয় সচেতন মহল মনে করছে, রাজধানীর অভিজাত এলাকায় স্পা ও মেসেজ পার্লারের আড়ালে এ ধরনের অনৈতিক কর্মকাণ্ড বাড়ছে, যা সামাজিক অবক্ষয়ের ঝুঁকি তৈরি করছে। তারা এ ধরনের প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান ও কঠোর নজরদারির দাবি জানিয়েছেন।

তাদের মতে, প্রশাসনের কার্যকর ও স্থায়ী হস্তক্ষেপ ছাড়া এই ধরনের কার্যক্রম সম্পূর্ণভাবে বন্ধ করা কঠিন হয়ে পড়বে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *