চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কে ভয়াবহ মুখোমুখি সংঘর্ষ: নিহত ২, আহত অন্তত ২০

কামরুল ইসলাম:

চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের চকরিয়ায় দুই যাত্রীবাহী বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে দুইজন নিহত এবং অন্তত ২০ জন আহত হয়েছেন। সোমবার (৮ জুন ২০২৬) দুপুরে কক্সবাজার জেলার চকরিয়া উপজেলার খুটাখালী ইউনিয়নের মেদাকচ্ছপিয়া এলাকায় এ মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে। দুর্ঘটনার পর মহাসড়কে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়লেও দ্রুত উদ্ধার কার্যক্রম পরিচালনা করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে পুলিশ ও স্থানীয়রা।

পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, সোমবার দুপুর আনুমানিক ২টা ১০ মিনিটের দিকে কক্সবাজার থেকে ঢাকাগামী এভারগ্রীন পরিবহনের একটি যাত্রীবাহী বাস এবং বিপরীত দিক থেকে আসা শরিফ এন্টারপ্রাইজ পরিবহনের একটি যাত্রীবাহী বাস মেদাকচ্ছপিয়া এলাকায় পৌঁছালে মুখোমুখি সংঘর্ষে লিপ্ত হয়। সংঘর্ষের তীব্রতায় এভারগ্রীন পরিবহনের বাসটির সামনের অংশ দুমড়ে-মুচড়ে যায়। অপরদিকে শরিফ এন্টারপ্রাইজ বাসটির উপরের ছাদ বিচ্ছিন্ন হয়ে সড়কের ওপর ছিটকে পড়ে, যা দুর্ঘটনার ভয়াবহতার প্রমাণ বহন করে।

দুর্ঘটনায় শরিফ এন্টারপ্রাইজ পরিবহনের চালক মোহাম্মদ আলী (২৫), পিতা নুরুল ইসলাম, বাড়ি উখিয়ার মরিচ্যা পাগলরিবিল এলাকায়, গুরুতর আহত হন। একই সঙ্গে বাসের যাত্রী ইয়াহিয়া (১), পিতা মঞ্জুর আলী, বাড়ি বান্দরবানের লামা উপজেলার বানিয়াছড়া কেদারবান এলাকায়, গুরুতর জখমপ্রাপ্ত হন। আহতদের দ্রুত উদ্ধার করে চকরিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় দু’জনই মারা যান।

এ ঘটনায় আরও অন্তত ২০ জন যাত্রী আহত হন। আহতদের মধ্যে মো. জাহাঙ্গীর আলম (৩৫), নাইম, মাবুদ আব্দুল, জোসনা আক্তার, জনি, মো. আলী, ইমা, ফাতেমা ও মো. রফিকুল ইসলামসহ আরও কয়েকজনের নাম জানা গেছে। এছাড়া ৭ থেকে ৮ জন অজ্ঞাতপরিচয় যাত্রীও আহত হয়েছেন। আহতদের চকরিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও মালুমঘাট খ্রিস্টান হাসপাতালে ভর্তি করে চিকিৎসা দেওয়া হয়।

পুলিশ জানায়, গুরুতর আহতদের মধ্যে ইসমাইল, সিফাত এবং আরও দুই থেকে তিনজন অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তি উন্নত চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। চিকিৎসকরা তাদের অবস্থা পর্যবেক্ষণ করছেন।

দুর্ঘটনার খবর পেয়ে মালুমঘাট হাইওয়ে থানা পুলিশের একটি দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার অভিযান শুরু করে। স্থানীয় জনগণ ও ফায়ার সার্ভিসের সহযোগিতায় আহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠানো হয়। পরে দুর্ঘটনাকবলিত দুটি বাস একটি বেসরকারি রেকারের সাহায্যে উদ্ধার করে মালুমঘাট হাইওয়ে থানায় নিয়ে যাওয়া হয়।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, উদ্ধার করা যানবাহনের মধ্যে রয়েছে ঢাকাগামী এভারগ্রীন পরিবহনের একটি যাত্রীবাহী বাস এবং শরিফ এন্টারপ্রাইজ পরিবহনের একটি যাত্রীবাহী বাস। দুর্ঘটনার পর কিছু সময় যান চলাচলে বিঘ্ন ঘটলেও দ্রুত সড়ক পরিষ্কার করে যানবাহন চলাচল স্বাভাবিক করা হয়। বর্তমানে মহাসড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে।

মালুমঘাট হাইওয়ে থানা পুলিশ জানিয়েছে, দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে কাজ চলছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, অতিরিক্ত গতি অথবা নিয়ন্ত্রণ হারানোর কারণে এ দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। তবে তদন্ত শেষে প্রকৃত কারণ জানা যাবে।

এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কাউকে গ্রেফতার করা হয়নি। নিহতদের মরদেহ আইনগত প্রক্রিয়া শেষে স্বজনদের কাছে হস্তান্তরের প্রস্তুতি চলছে। একই সঙ্গে দুর্ঘটনার বিষয়ে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের এই অংশে প্রায়ই দুর্ঘটনা ঘটে। মহাসড়কে যানবাহনের বেপরোয়া গতি ও ট্রাফিক নিয়ম না মানার কারণে এমন প্রাণঘাতী দুর্ঘটনা দিন দিন বাড়ছে। তারা সড়কে নজরদারি বৃদ্ধি এবং নিরাপদ পরিবহন ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *