চট্টগ্রামে আবাসিক হোটেল দরবারে মাদক ও অসামাজিক কার্যকলাপের অভিযোগ

স্টাফ রিপোর্টার:

চট্টগ্রাম মহানগরীর কোতোয়ালি থানাধীন সিনা বিলিজ মোড়ের পশ্চিম পাশে অবস্থিত হোটেল দরবার নামে একটি আবাসিক হোটেলকে ঘিরে মাদক বাণিজ্য, মাদক সেবন এবং বিভিন্ন ধরনের অসামাজিক কার্যকলাপের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে প্রকাশ্যেই এসব কর্মকাণ্ড পরিচালিত হলেও কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না। ফলে এলাকায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটছে এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে চরম উদ্বেগ ও আতঙ্ক বিরাজ করছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, হোটেলটিতে দিনের চেয়ে রাতের বেলায় সন্দেহজনক ব্যক্তিদের আনাগোনা বেশি দেখা যায়। বিভিন্ন এলাকা থেকে লোকজন এসে সেখানে অবস্থান নেয় এবং রাতভর নানা ধরনের কর্মকাণ্ড চলে বলে দাবি করেন তারা। স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, হোটেলটিকে কেন্দ্র করে মাদকসেবী, মাদক কারবারি এবং অসামাজিক কর্মকাণ্ডে জড়িত ব্যক্তিদের নিয়মিত যাতায়াত রয়েছে। এতে আশপাশের পরিবেশ দিন দিন নষ্ট হচ্ছে এবং পরিবার-পরিজন নিয়ে বসবাস করা মানুষের মধ্যে নিরাপত্তাহীনতা তৈরি হয়েছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক বাসিন্দা জানান, দীর্ঘদিন ধরে হোটেলটিকে ঘিরে নানা অভিযোগ শোনা গেলেও দৃশ্যমান কোনো পরিবর্তন হয়নি। তাদের দাবি, অনেক সময় গভীর রাত পর্যন্ত হোটেলটিতে অপরিচিত ব্যক্তিদের যাতায়াত লক্ষ্য করা যায়। এতে স্থানীয়দের মধ্যে নানা ধরনের প্রশ্ন ও উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে।

এলাকাবাসীর অভিযোগ, হোটেলটিতে কী ধরনের কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে, তা খতিয়ে দেখতে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিয়মিত নজরদারি প্রয়োজন। তারা মনে করেন, নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন করা হলে অভিযোগের সত্যতা সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা পাওয়া যাবে।

অভিযোগের বিষয়ে কথা বলতে হোটেলটির মালিকের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে, তিনি নিজেকে এলাকায় ‘দাদা’ নামে পরিচয় দেন। তবে এটি তার প্রকৃত নাম নয়, স্থানীয়ভাবে ব্যবহৃত একটি ছদ্মনাম বলে জানা গেছে। অভিযোগের বিষয়ে তার দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে তিনি বলেন, “টুকটাক কাজ করে খাই, সবাইকে ম্যানেজ করেই খাই।” তার এই বক্তব্যের ব্যাখ্যা জানতে চাইলে তিনি বিস্তারিত কিছু বলতে রাজি হননি।

স্থানীয়দের অভিযোগ, এই ধরনের বক্তব্য প্রশাসনের নজরদারি ও তদন্তের প্রয়োজনীয়তাকেই আরও জোরালো করে তুলেছে। তাদের দাবি, বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হলে অভিযোগের প্রকৃত চিত্র সামনে আসবে।

এ বিষয়ে জানতে কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি)-এর সরকারি মোবাইল নম্বরে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি কল রিসিভ করেননি। ফলে অভিযোগ সম্পর্কে পুলিশের কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

এলাকাবাসীর দাবি, নগরীর বিভিন্ন অলিগলিতে যেভাবে মাদক বাণিজ্য ও অসামাজিক কার্যকলাপের অভিযোগ বাড়ছে, তা সমাজের জন্য উদ্বেগজনক। তারা সংশ্লিষ্ট আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, জেলা প্রশাসন ও মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের প্রতি দ্রুত তদন্ত পরিচালনা করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *