মোহাম্মদ সোহেল | চট্টগ্রাম
চট্টগ্রাম মহানগর গোয়েন্দা (উত্তর-দক্ষিণ) বিভাগ ও বাকলিয়া থানার যৌথ অভিযানে আলোচিত সাজ্জাদ হত্যা মামলার মোট আটজন আসামিকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত ২৮ অক্টোবর ২০২৫ তারিখ গভীর রাতে বাকলিয়া থানাধীন এক্সেস রোড সংলগ্ন মদিনা আবাসিক এলাকার সামনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী যুব দলের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে ব্যানার টানানো ও স্থানীয় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
এ সময় এক পক্ষ অপর পক্ষের উপর গুলি বর্ষণ করলে মো. সাজ্জাদ (২২) গুলিবিদ্ধ হন এবং গুরুতর আহত অবস্থায় পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেন। এ ঘটনায় আরও অন্তত ১৪ জন আহত হন, যাদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানা গেছে।
ঘটনার পর নিহতের পিতা মো. আলম বাদী হয়ে এজাহারনামীয় ১৭ জন ও অজ্ঞাতনামা ৩৫–৪০ জনের বিরুদ্ধে বাকলিয়া থানায় মামলা (নং-৩০, তারিখ: ২৯/১০/২০২৫, ধারা: ১৪৩/৩২৩/৩২৬/৩০৭/৩০২/৩৪ পেনাল কোড) দায়ের করেন।
মামলার পরিপ্রেক্ষিতে চট্টগ্রাম মহানগর গোয়েন্দা (উত্তর-দক্ষিণ) বিভাগ ও বাকলিয়া থানার একটি চৌকস টিম গোপন সংবাদের ভিত্তিতে গত ২৮ অক্টোবর সন্ধ্যা ৬টা থেকে ২৯ অক্টোবর দুপুর ১২টা পর্যন্ত চট্টগ্রাম মহানগর এলাকা ও আশপাশে একযোগে অভিযান পরিচালনা করে।
অভিযানে এজাহারনামীয় আসামি
১। সবুজ ইসলাম মিরাজ (২৪), পিতা-মৃত মো. বাদল ইসলাম,
২। মো. সাইদুল ইসলাম (২০), পিতা-মো. বাদশা,
৩। এমরান হোসেন সাগর (৩০), পিতা-আহম্মদ ছফা,
৪। জিহান (২২), পিতা-জামাল উদ্দিন,
৫। মো. তামজিদুল ইসলাম প্রঃ সাজু (৪৭), পিতা-মৃত নুরুল ইসলাম,
৬। মো. আরাফাত (২২), পিতা-রফিক উদ্দিন,
এবং তদন্তে চিহ্নিত আসামি
৭। মো. ওসমান (২৮), পিতা-মৃত আব্দুর রাজ্জাক,
৮। দিদারুল আলম রাসেল, পিতা-মৃত নুরুল আমীন—
এদেরকে গ্রেফতার করা হয়।
চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের (সিএমপি) ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা জানান, “ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্য পলাতক আসামিদের গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। কেউ আইনের বাইরে নয়, অপরাধে জড়িত সকলকে আইনের আওতায় আনা হবে।”
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।