চট্টগ্রামে স্বাস্থ্যসেবার নামে ভয়াবহ প্রতারণা, ৫০০ টাকার প্রলোভনে গরিবদের কাছ থেকে কোটি টাকা আত্মসাৎ, উধাও ‘ইকো আইএমআই হেলথকেয়ার’

মোঃ সোহেল:

চট্টগ্রাম মহানগরের খুলশী থানাধীন তুলাতুলি এলাকায় ‘ইকো আইএমআই হেলথকেয়ার সেন্টার’ নামে একটি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে হাজার হাজার গরিব ও অসহায় মানুষের কাছ থেকে কোটি কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। চাল, ডাল, চিনি, বিনামূল্যে চিকিৎসা, ডাক্তার দেখানো ও ওষুধ দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে জনপ্রতি মাত্র ৫০০ টাকা করে আদায় করা হলেও প্রতিশ্রুত কোনো সেবাই শেষ পর্যন্ত দেওয়া হয়নি।

স্থানীয় সূত্র জানায়, দীর্ঘদিন ধরে প্রতিষ্ঠানটি এলাকায় একটি সংঘবদ্ধ প্রতারণা চক্রের মতো কার্যক্রম চালিয়ে আসছিল। নিম্ন আয়ের মানুষদের লক্ষ্য করে ‘আজই টাকা দিন, আজীবন চিকিৎসা ও খাদ্য সহায়তা পাবেন’—এমন আশ্বাস দিয়ে হাজার হাজার মানুষের কাছ থেকে অর্থ সংগ্রহ করা হয়। অনেক ক্ষেত্রে অসুস্থ রোগী, বৃদ্ধ ও দরিদ্র পরিবারগুলো সর্বশেষ সঞ্চয় থেকেও টাকা দিতে বাধ্য হন।

সম্প্রতি হঠাৎ করেই প্রতিষ্ঠানটির অফিসে তালা ঝুলতে দেখা যায়। রাতের আঁধারে কোনো ধরনের ঘোষণা বা নোটিশ ছাড়াই অফিস বন্ধ করে সংশ্লিষ্টরা পালিয়ে যায় বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগীরা। এখন পর্যন্ত প্রতিষ্ঠানটির কোনো কর্মকর্তা বা মালিকের সন্ধান পাওয়া যায়নি।

ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, টাকা নেওয়ার পর কোনো লিখিত রসিদ বা বৈধ কাগজপত্র দেওয়া হয়নি। যারা প্রশ্ন তুলেছেন, তাদের নানা অজুহাতে সময়ক্ষেপণ করা হয়েছে। অফিসে গিয়ে এখন শুধু ঝুলন্ত তালা আর নিঃস্ব মানুষের দীর্ঘশ্বাস।

এক ভুক্তভোগী বলেন,
“৫০০ টাকা আমাদের মতো গরিব মানুষের কাছে অনেক কিছু। চিকিৎসা আর খাবারের আশায় টাকা দিয়েছিলাম। এখন অফিস বন্ধ—কাউকে পাচ্ছি না।”

স্থানীয়রা বলছেন, এ ধরনের ভুয়া স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে আগে থেকেই নজরদারি থাকলে এমন ভয়াবহ প্রতারণা এড়ানো যেত। প্রশাসনের গাফিলতির সুযোগ নিয়ে প্রতারক চক্রটি নির্বিঘ্নে কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে।

এ ঘটনায় এলাকায় চরম ক্ষোভ ও আতঙ্ক বিরাজ করছে। ভুক্তভোগীরা দ্রুত তদন্ত, প্রতারকদের গ্রেপ্তার এবং আত্মসাৎ করা অর্থ ফেরতের দাবি জানিয়েছেন। একই সঙ্গে এ ধরনের ভুয়া প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছেন সচেতন মহল।

খুলশী থানার এক কর্মকর্তা জানান, অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

স্বাস্থ্যসেবার মতো স্পর্শকাতর খাতকে ব্যবহার করে এমন প্রতারণা শুধু আর্থিক ক্ষতিই নয়, মানুষের বিশ্বাসকেও চরমভাবে ভেঙে দিচ্ছে—এমনটাই মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *