বরগুনা প্রতিনিধি:
স্কুল ছুটির পর বাড়ি ফেরার পথে পঞ্চম শ্রেণির এক ছাত্রীকে মারধর করে তিনটি দাঁত ফেলে দেওয়ার ঘটনায় অভিযুক্ত প্রধান আসামি ফয়সালকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এসআরবি-৮ পটুয়াখালী ক্যাম্প সদস্যদের সহযোগিতায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) দুপুর ২টার দিকে বরগুনা সদর উপজেলার পুরাকাটা ফেরিঘাট এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বরগুনা জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. মুকিত হাসান খাঁন।
এসআরবি-৮ ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ঘটনার কিছুদিন আগে বেতাগী উপজেলার বাসিন্দা ভুক্তভোগী ওই শিক্ষার্থী ওয়াশরুমে গেলে ফয়সাল সেখানে উঁকি দেন। এ সময় ওই শিক্ষার্থী বিষয়টি টের পেয়ে তাকে দেখে ফেললে ফয়সাল দ্রুত সরে যান। পরে ঘটনাটি স্বজনদের জানালে ক্ষুব্ধ হয়ে ওই শিক্ষার্থীকে মারধরের হুমকি দেন ফয়সাল।
এরপর গত সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) স্কুলের এক শিক্ষকের সহযোগিতায় ভুক্তভোগী ওই শিক্ষার্থী স্কুলে যায়। বিকেল ৪টার দিকে স্কুল ছুটি হলে বাড়ি ফেরার পথে অভিযুক্ত ফয়সাল তাকে মারধর করেন বলে অভিযোগ। এতে ওই শিক্ষার্থীর মুখের সামনের তিনটি দাঁত পড়ে যায়। এ ছাড়া আরও দুটি দাঁত ক্ষতিগ্রস্ত হয়। পরে স্কুলের শিক্ষক ও স্বজনরা আহত অবস্থায় ওই শিক্ষার্থীকে উদ্ধার করে বরগুনা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করেন।
ঘটনার দিন রাতে ভুক্তভোগীর মা বাদী হয়ে ফয়সালকে প্রধান আসামি করে চারজনের নাম উল্লেখ করে বেতাগী থানায় মামলা করেন। ওই মামলায় ফয়সালের মা ও এক ভাইকে গ্রেপ্তার করা হলেও প্রধান আসামি ফয়সাল আত্মগোপনে থাকায় তাকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ।
পরে ফয়সালকে গ্রেপ্তারে বরগুনা সদর উপজেলার পুরাকাটা এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে এসআরবি-৮ সিপিসি-১ পটুয়াখালী ক্যাম্পের সদস্যরা। এ সময় পুরাকাটা ফেরিঘাট এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
এ বিষয়ে বরগুনা জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. মুকিত হাসান খাঁন বলেন, এসআরবি সদস্যদের সহযোগিতায় বেতাগী থানা পুলিশ মামলার প্রধান আসামি ফয়সালকে গ্রেপ্তার করেছে। এর আগে এ ঘটনায় মামলার অভিযুক্ত ফয়সালের মা ও এক ভাইকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গ্রেপ্তার ফয়সালকে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য আদালতে পাঠানো হবে।