জিয়া সরণীতে রাজউকের উচ্ছেদ অভিযান নিয়ে প্রশ্ন, সামান্য ভাঙচুরেই শেষ কার্যক্রম

স্টাফ রিপোর্টার:

রাজধানীর কদমতলী থানাধীন জিয়া সরণী ও স্মৃতিধারা এলাকায় রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) উচ্ছেদ অভিযান নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠেছে। অভিযানে কয়েকটি ভবনের অবৈধ অংশ ভাঙা ও কিছু বিদ্যুৎ মিটার খুলে নেওয়া হলেও, বড় ধরনের কোনো স্থাপনা অপসারণ না করেই অভিযান শেষ হওয়ায় স্থানীয়দের মধ্যে অসন্তোষ দেখা দিয়েছে।

রাজধানীকে পরিকল্পিত, আধুনিক ও বাসযোগ্য নগরী হিসেবে গড়ে তুলতে ভবন নির্মাণের ক্ষেত্রে রাজউকের অনুমোদন ও নির্ধারিত নীতিমালা রয়েছে। তবে অভিযোগ রয়েছে, কদমতলী এলাকার স্মৃতিধারা ও আশপাশে অনেক ভবন নির্মাণে এসব নিয়ম-নীতি যথাযথভাবে মানা হয়নি। সরু রাস্তা, ভবনের চারপাশে পর্যাপ্ত জায়গা না রাখা এবং অনুমোদনের বাইরে নির্মাণসহ বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে বেশ কিছু ভবনের বিরুদ্ধে।

সম্প্রতি স্মৃতিধারা এলাকার ৭ ও ৮ নম্বর রোডে রাজউকের অভিযান পরিচালিত হয়। স্থানীয়দের অভিযোগ, অভিযানে কয়েকটি ভবনের সামান্য অংশ ভাঙা হলেও মূল অনিয়মের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।

স্মৃতিধারা ৭ ও ৮ নম্বর রোডের ২৭৭ নম্বর ভবন হিসেবে পরিচিত সাফা টাওয়ার নিয়েও রয়েছে নানা অভিযোগ। ভবনটির মালিক হিসেবে আবুল কালাম আজাদ, আলাউদ্দিন, ইয়াসিন ও আশরাফের নাম স্থানীয়ভাবে জানা গেছে। রাজউকের অভিযানে ভবনটির বারান্দার কিছু অংশ ভেঙে দেওয়া এবং দুটি মিটার খুলে নেওয়ার কথা জানা গেছে।

স্থানীয়দের দাবি, ভবনটির চারপাশে পর্যাপ্ত জায়গা রাখা হয়নি এবং সড়কটিও তুলনামূলকভাবে সরু। ফলে ভবন নির্মাণের সময় রাজউকের বিধিমালা যথাযথভাবে অনুসরণ করা হয়েছে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে ভবনটির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট এক ব্যক্তি অভিযোগ করে বলেন, রাজউকের অভিযান হলেও এতে বড় কোনো পরিবর্তন হয়নি। তিনি দাবি করেন, ভবনের কিছু অংশ ভাঙা হলেও তা পুনরায় নির্মাণ করা সম্ভব। মিটার খুলে নেওয়া হলেও ভবনে অন্য মিটার থাকায় কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়া সম্ভব হচ্ছে বলেও তিনি দাবি করেন।

ওই ব্যক্তি আরও অভিযোগ করেন, এলাকায় ভবন নির্মাণের ক্ষেত্রে রাজউকের নিয়ম মানার চেয়ে বিভিন্ন পর্যায়ে আর্থিক লেনদেনের মাধ্যমে বিষয়টি মীমাংসা করার প্রবণতা রয়েছে। তবে এসব অভিযোগের স্বাধীন সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

অন্যদিকে, একই এলাকার ঢাকা মেট্রো টাওয়ার, ঠিকানা ৮৮ মিজান, ৭ নম্বর রোড, স্মৃতিধারা, কদমতলী—এই ভবন নিয়েও রাজউকের নিয়ম-নীতি মানা হয়নি বলে অভিযোগ রয়েছে। রাজউকের অভিযানে ভবনটির সামান্য একটি অংশ ভাঙা হয়েছে বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।

ভবনটির মালিকের দাবি, রাজধানীতে ভবন নির্মাণের ক্ষেত্রে রাজউকের নিয়ম পুরোপুরি মেনে চলা কঠিন। তিনি আরও দাবি করেন, ভবন নির্মাণের সময় বিভিন্ন ধরনের খরচের পাশাপাশি রাজউক-সংক্রান্ত খরচও হিসাবের মধ্যে রাখা হয়। কোনো পরিদর্শক এলে অর্থের বিনিময়ে বিষয়টি মিটিয়ে ফেলার অভিযোগও করেন তিনি।

তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে রাজউকের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। রাজউক জোন-৭-এর অথরাইজার ইলিয়াসের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করে বক্তব্য জানতে চাওয়া হলে তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

স্থানীয়দের প্রশ্ন, নিয়মবহির্ভূত ভবন নির্মাণ যদি হয়ে থাকে, তাহলে নির্মাণের সময় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নজরে তা কেন আসেনি? আর অভিযান পরিচালনার পরও যদি ভবনের সামান্য অংশ ভেঙে আবার নির্মাণের সুযোগ থাকে, তাহলে এসব অভিযান কতটা কার্যকর—এ নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।

নগর বিশেষজ্ঞদের মতে, রাজধানীতে ভবন নির্মাণের ক্ষেত্রে রাজউকের অনুমোদন ও নির্মাণবিধি কঠোরভাবে বাস্তবায়ন করা জরুরি। শুধু অভিযান পরিচালনা করে সামান্য অংশ ভেঙে দিলে দীর্ঘমেয়াদে অবৈধ নির্মাণ বন্ধ করা সম্ভব নয়। ভবন নির্মাণের শুরু থেকে অনুমোদন, নকশা বাস্তবায়ন ও ব্যবহার পর্যন্ত নিয়মিত নজরদারি নিশ্চিত করতে হবে।

অভিযোগ ও অনিয়মের বিষয়গুলো তদন্ত করে সত্যতা পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট ভবন মালিক ও দায়িত্বপ্রাপ্তদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া এবং রাজউকের নিয়ম মেনেই ভবন নির্মাণ নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *