মোহাম্মদ হোসেন হ্যাপী:
গভীর শোক, শ্রদ্ধা ও বেদনাবিধুর স্মৃতির মধ্য দিয়ে নারায়ণগঞ্জে যথাযোগ্য মর্যাদায় পালিত হয়েছে ২৫ মার্চ গণহত্যা দিবস। দিবসটি উপলক্ষে নারায়ণগঞ্জ জেলা তথ্য অফিসের আয়োজনে এক স্মৃতিচারণমূলক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে, যেখানে বীর মুক্তিযোদ্ধা, সরকারি কর্মকর্তা, সামাজিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশগ্রহণ করেন।
বুধবার (২৫ মার্চ ২০২৬) নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসক মোঃ রায়হান কবিরের নির্দেশনায় ইসলামিক ফাউন্ডেশন মিলনায়তনে আয়োজিত এ আলোচনা সভায় ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চের কালরাতের নির্মম গণহত্যা এবং মহান মুক্তিযুদ্ধের গৌরবোজ্জ্বল ইতিহাস তুলে ধরা হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নারায়ণগঞ্জ ইসলামিক ফাউন্ডেশনের উপ-পরিচালক মোঃ ইয়াসির আরাফাত। প্রধান বক্তা হিসেবে বক্তব্য রাখেন নারায়ণগঞ্জ জেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ড কাউন্সিলের সদস্য সচিব বীর মুক্তিযোদ্ধা নুরুল আলম। বিশেষ বক্তা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ড কাউন্সিলের সদস্য সচিব বীর মুক্তিযোদ্ধা আয়াত আলী।
এছাড়া অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নারায়ণগঞ্জ ইসলামিক ফাউন্ডেশনের সহকারী পরিচালক হুমায়ুন কবির এবং নারায়ণগঞ্জ সম্মিলিত স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের সভাপতি আলহাজ্ব আবুল কালামসহ অন্যান্য গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন নারায়ণগঞ্জ জেলা তথ্য অফিসার মোহাম্মদ কামরুজ্জামান।
সভায় বক্তারা ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চের সেই ভয়াল রাতের স্মৃতি তুলে ধরে বলেন, এদিন পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী নিরস্ত্র বাঙালির ওপর বর্বরোচিত হামলা চালিয়ে ইতিহাসের এক নির্মম গণহত্যা সংঘটিত করে। হাজার হাজার নিরীহ মানুষকে নির্বিচারে হত্যা করা হয়, ধ্বংস করা হয় ঘরবাড়ি, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসহ বিভিন্ন স্থাপনা। এই দিনটি বাঙালি জাতির জন্য এক শোকাবহ অধ্যায়, যা কখনো ভোলার নয়।
প্রধান বক্তা বীর মুক্তিযোদ্ধা নুরুল আলম তাঁর বক্তব্যে বলেন, বাংলাদেশের মানুষ প্রতি বছর এই দিনটিকে গভীর শোক ও শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করে। ২৫ মার্চ রাত ১১টা থেকে ১১টা ১ মিনিট পর্যন্ত প্রতীকী ব্ল্যাকআউট কর্মসূচি পালন করা হয়, যা সেই অন্ধকার রাতের স্মৃতিকে নতুন করে জাগ্রত করে। তিনি আরও বলেন, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান, সংগঠন এবং সাধারণ মানুষ আলো নিভিয়ে নীরবতা পালন করে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।
বিশেষ বক্তা আয়াত আলী বলেন, নতুন প্রজন্মকে মুক্তিযুদ্ধের সঠিক ইতিহাস জানানো অত্যন্ত জরুরি। স্বাধীনতার চেতনা ধারণ করে দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ হয়ে একটি সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়তে তরুণদের এগিয়ে আসতে হবে।
সভাপতির বক্তব্যে জেলা তথ্য অফিসার মোহাম্মদ কামরুজ্জামান বলেন, ২৫ মার্চ কেবল একটি তারিখ নয়, এটি বাঙালির জাতিসত্তার ইতিহাসে এক অমোচনীয় অধ্যায়। এই দিনটি আমাদের মনে করিয়ে দেয় স্বাধীনতার মূল্য কতটা গভীর এবং বেদনাবিধুর। তিনি বলেন, গণহত্যার আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি আদায়ে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে এবং নতুন প্রজন্মের কাছে এ ইতিহাস সঠিকভাবে তুলে ধরতে হবে।
তিনি আরও বলেন, শহীদদের আত্মত্যাগকে স্মরণ করে একটি মানবিক, অসাম্প্রদায়িক ও গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গড়ে তোলাই হতে পারে এই দিবস পালনের প্রকৃত অঙ্গীকার।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত বীর মুক্তিযোদ্ধাগণ, শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও বিভিন্ন সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠনের প্রতিনিধিরা ২৫ মার্চ গণহত্যা এবং মহান মুক্তিযুদ্ধের বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা করেন এবং শহীদদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন।
অনুষ্ঠান শেষে শহীদদের স্মরণে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়, যা পুরো মিলনায়তনে এক আবেগঘন পরিবেশ সৃষ্টি করে।