ঝিরঝিরিপাড়া কিশোর গ্যাং সংঘর্ষের মামলায় নির্দোষ ব্যক্তিদের হয়রানির অভিযোগ

মোহাম্মদ হোসেন সুমন:

কক্সবাজার শহরের ঝিরঝিরিপাড়া এলাকায় সম্প্রতি ঘটে যাওয়া কিশোর গ্যাংয়ের সংঘর্ষের ঘটনায় দায়ের করা মামলায় নির্দোষ ব্যক্তিদের জড়ানোর অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন স্থানীয় সমাজসেবী ও ঝিরঝিরিপাড়া সমাজ পরিচালনা কমিটির সিনিয়র সদস্য ইঞ্জিনিয়ার সাইফুল ইসলাম।

লিখিত বক্তব্যে তিনি জানান, গত ৫ মার্চ ইফতারের পর আনুমানিক সন্ধ্যা ৬টা ৩০ মিনিটে ঝিরঝিরিপাড়া এলাকায় দুই গ্রুপ কিশোর গ্যাংয়ের মধ্যে মারামারির ঘটনা ঘটে। এতে কয়েকজন আহত হয়ে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। বিষয়টি তিনি পরবর্তীতে সংবাদমাধ্যমের মাধ্যমে জানতে পারেন।

তিনি অভিযোগ করেন, উক্ত ঘটনাকে কেন্দ্র করে কক্সবাজার সিভিল সার্জন কার্যালয়ের কর্মচারী জামাল উদ্দিন কক্সবাজার মডেল থানায় ১৩ জনকে আসামি করে একটি মামলা দায়ের করেন। ওই মামলায় তাকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে হয়রানি করার জন্য ১০ নম্বর আসামি করা হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।

ইঞ্জিনিয়ার সাইফুল ইসলাম বলেন, ঘটনার সঙ্গে তার কোনো সম্পৃক্ততা নেই এবং এ ঘটনায় জড়িত কাউকেই তিনি চেনেন না। তিনি অভিযোগ করেন, অতীতে রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে সাধারণ মানুষকে হয়রানি করা হতো এবং এখনও কিছু ব্যক্তি ক্ষমতার অপব্যবহার করে মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি করে যাচ্ছে।

তিনি প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, মামলার সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত অপরাধীদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা হোক এবং নিরপরাধ ব্যক্তিদের অব্যাহতি দেওয়া হোক। একই সঙ্গে হয়রানিমূলক মিথ্যা মামলার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধেও আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান তিনি।

এ সময় উপস্থিত থেকে বক্তব্য দেন— ঝিরঝিরিপাড়া সমাজ পরিচালনা কমিটির সিনিয়র সহ-সভাপতি শফিউল আলম, সহ-সভাপতি মো. বাবুল, ঝিলংজা ইউনিয়ন যুবদলের সদস্য সচিব মুফিজুর রহমান, ঝিরঝিরিপাড়া এবতেদায়ী মাদ্রাসা ও এতিমখানার সহ-সাধারণ সম্পাদক রশিদ আহমদ, ১২ নম্বর ওয়ার্ড দক্ষিণ শাখা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক নুর হোসেন এবং কক্সবাজার শহর যুবদলের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক লিয়াকত আলী পারভেজ।

বক্তারা ঘটনাটির সুষ্ঠু তদন্ত করে প্রকৃত দোষীদের বিচারের আওতায় আনা এবং নির্দোষ ব্যক্তিদের মামলা থেকে অব্যাহতি দেওয়ার জন্য প্রশাসনের প্রতি জোর দাবি জানান।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *