তাজুল ইসলাম কাজল:
কক্সবাজার সদর উপজেলার ঝিলংজা ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডে মরহুম আবুল ফজল চৌধুরীর রেখে যাওয়া সম্পত্তি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে পারিবারিক বিরোধ চলে আসছে। এ বিরোধের জেরে তাঁর দ্বিতীয় ছেলে মরহুম ওবাইদুল হক মিয়াজী ও তাঁর ওয়ারিশদের বিরুদ্ধে প্রাপ্যের চেয়ে অতিরিক্ত জমি বিক্রি এবং কথিত জাল-জালিয়াতির মাধ্যমে সৃজিত খতিয়ান ব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে।
অভিযোগকারীদের দাবি, আবুল ফজল চৌধুরী মৃত্যুকালে সাত ছেলে ও দুই কন্যা রেখে যান। খরুলিয়া মৌজায় তাঁর নামে খতিয়ানভুক্ত প্রায় ৮ একর সম্পত্তি ছিল। ওয়ারিশদের মধ্যে বণ্টন অনুযায়ী প্রত্যেক ছেলে প্রায় ৯০ শতক এবং প্রত্যেক মেয়ে ৪৫ শতক করে জমির অংশ পান বলে দাবি করা হচ্ছে। পরবর্তীতে মেয়েরা তাঁদের প্রাপ্য অংশ পরিবারের সদস্যদের কাছে দলিলমূলে বিক্রি করে স্বত্ব ত্যাগ করেন বলেও অভিযোগকারীরা জানান।
অভিযোগকারীদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ওবাইদুল হক মিয়াজী জীবদ্দশায় তাঁর প্রাপ্য ৯০ শতক জমির বিপরীতে বিভিন্ন দলিলের মাধ্যমে মোট ১৭৫ শতক জমি বিক্রি করেন। এর মধ্যে দলিল নং-১১৭৬-এর মাধ্যমে ৪০ শতক মোহাম্মদ আলীর কাছে, দলিল নং-১৪৪/২০০২-এর মাধ্যমে ৫৫ শতক মোবারক উল্লাহ গংয়ের কাছে, দলিল নং-১৩৯-এর মাধ্যমে ৪০ শতক আব্দুল লতিফের স্ত্রীর কাছে এবং দলিল নং-১১৭৭-এর মাধ্যমে ৪০ শতক মোহাম্মদ মুসলিমের কাছে বিক্রি করা হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে।
অভিযোগকারীদের হিসাব অনুযায়ী, ৯০ শতক প্রাপ্য জমির বিপরীতে ১৭৫ শতক জমি বিক্রি করা হয়েছে। সে হিসেবে অতিরিক্ত ৮৫ শতক জমি বিক্রির অভিযোগ উঠেছে।
তবে জমি বিক্রির পরিমাণ, সংশ্লিষ্ট দলিল এবং ওয়ারিশদের প্রকৃত অংশের বিষয়টি ভূমি অফিসের রেকর্ড, খতিয়ান, নামজারি ও দলিলপত্র যাচাইয়ের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
অভিযোগকারীরা আরও জানান, বিষয়টি নিয়ে পারিবারিকভাবে একাধিকবার মীমাংসার উদ্যোগ নেওয়া হলেও স্থায়ী সমাধান হয়নি। একপর্যায়ে ওবাইদুল হক মিয়াজী মৃত্যুবরণ করেন। এরপর তাঁর অন্যান্য ওয়ারিশরা সহকারী কমিশনার (ভূমি) কার্যালয়ে যোগাযোগ করলে বিষয়টি তদন্তের উদ্যোগ নেওয়া হয়। তদন্তের সময় আরও কিছু কথিত সৃজিত বা ভুয়া খতিয়ানের সন্ধান পাওয়া গেছে বলে দাবি করেন অভিযোগকারীরা।
তাদের অভিযোগ, ৩৬০৭ নম্বর কথিত সৃজিত খতিয়ানের অন্তর্ভুক্ত ০.২৮৩৭ একর জমি অন্য ওয়ারিশদের ভোগদখল ও চাষাবাদের জমির অংশ হওয়া সত্ত্বেও তা গোপনে বজল আহমদ কোম্পানির কাছে বিক্রি করা হয়েছে। এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট দলিল, খতিয়ান, নামজারি ও মালিকানার কাগজপত্র যাচাই করে প্রকৃত মালিকানা নির্ধারণের দাবি জানিয়েছেন তারা।
অভিযোগকারীদের ভাষ্য, ভূমি অফিসের নথিপত্র পর্যালোচনা করে জমির প্রকৃত মালিকানা ও ওয়ারিশদের অংশ নির্ধারণ করা জরুরি। একই সঙ্গে কোনো ধরনের অনিয়ম, জালিয়াতি বা আইনবহির্ভূতভাবে খতিয়ান সৃজনের প্রমাণ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা। এ বিষয়ে ভূমি আইনে মামলা করার প্রস্তুতিও নেওয়া হচ্ছে বলে জানান অভিযোগকারী ওয়ারিশরা।
শাহনেওয়াজ ভুট্টোর বক্তব্য
অভিযোগের বিষয়ে ওবাইদুল হক মিয়াজীর বড় ছেলে শাহনেওয়াজ ভুট্টোর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, “আমার বাবা অতিরিক্ত জমি বিক্রি করছে—এখন আমরা কী করব? আমার বাবার কবর থেকে জায়গা বের করে নিতে বলেন।”
তাঁর বক্তব্যে সম্পত্তি নিয়ে পরিবারের মধ্যে দীর্ঘদিনের বিরোধের বিষয়টি উঠে এসেছে। তবে অতিরিক্ত জমি বিক্রির অভিযোগ এবং ৩৬০৭ নম্বর কথিত সৃজিত খতিয়ানের বৈধতা সম্পর্কে সংশ্লিষ্ট দলিল ও সরকারি রেকর্ড যাচাই করা প্রয়োজন।
এদিকে অভিযোগকারী ওয়ারিশরা ওবাইদুল হক মিয়াজী ও তাঁর ওয়ারিশদের নামে থাকা কথিত সৃজিত খতিয়ান থেকে জমি কেনার ক্ষেত্রে সম্ভাব্য ক্রেতাদের সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন। একই সঙ্গে জমি কেনার আগে সংশ্লিষ্ট ভূমি অফিসে খতিয়ান, নামজারি, দলিল ও মালিকানার তথ্য যাচাই করে নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন তারা।
তবে এসব অভিযোগের সত্যতা নির্ধারণে সংশ্লিষ্ট ভূমি অফিসের নথিপত্র, রেজিস্ট্রি দলিল ও খতিয়ান যাচাই এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদন্তের ফলাফলই চূড়ান্ত বলে বিবেচিত হবে।