টঙ্গীতে সাংবাদিক রিপনকে অপহরণ ও নির্যাতনের অভিযোগ এক কোটি টাকা চাঁদা দাবি

খসরু মৃধা:

জাতীয় দৈনিক কালবেলার গাজীপুর জেলা প্রতিনিধি মহিন উদ্দিন রিপনকে অপহরণ, নির্যাতন ও গুরুতর জখম করার অভিযোগ উঠেছে। ভুক্তভোগী সাংবাদিকের দাবি, তাঁকে আটকে রেখে এক কোটি টাকা চাঁদা দাবি করা হয়েছে। পাশাপাশি মাদক ও সন্ত্রাস নিয়ে সংবাদ প্রকাশ না করার হুমকি এবং আপত্তিকর ভিডিও ধারণ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখানো হয়েছে বলেও অভিযোগ করেছেন তিনি।

সোমবার (২৬ অক্টোবর) দুপুর ২টার দিকে গাজীপুরের টঙ্গী সেনাকল্যাণ শপিং কমপ্লেক্সের সামনে থেকে তাঁকে তুলে নিয়ে যাওয়া হয় বলে জানান সাংবাদিক রিপন।

রিপনের ভাষ্য অনুযায়ী, সংবাদ সংগ্রহের কাজে ওই এলাকায় শাহ সিমেন্ট রেডি মিক্সের এইচআর ইনচার্জ আসিফ মাহমুদের সঙ্গে কাজ শেষে তিনি সেখানে অবস্থান করছিলেন। এ সময় মোটরসাইকেলে আসা প্রায় ৪০ থেকে ৫০ জন অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তি তাঁর চোখ-মুখ বেঁধে জোরপূর্বক একটি অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে যান।

সাংবাদিক রিপনের অভিযোগ, সেখানে তাঁর কাছে এক কোটি টাকা চাঁদা দাবি করা হয়। একপর্যায়ে দেশীয় অস্ত্র দিয়ে শরীরের বিভিন্ন স্থানে মারধর করা হয় এবং মাদকবিরোধী কোনো সংবাদ প্রকাশ না করতে হুমকি দেওয়া হয়।

তিনি আরও অভিযোগ করেন, পরে তাঁকে অন্য একটি স্থানে নিয়ে এক নারীর সঙ্গে জোরপূর্বক আপত্তিকর ও নগ্ন ভিডিও ধারণ করা হয়। ভবিষ্যতে টঙ্গীর হাজীর মাজার বস্তি এলাকার মাদক ও সন্ত্রাস নিয়ে কোনো সংবাদ প্রকাশ কিংবা ফেসবুক লাইভ করলে ওই ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয় বলে দাবি করেন তিনি।

রিপনের ভাষ্য, প্রায় দুই ঘণ্টা নির্যাতনের একপর্যায়ে তিনি জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন। পরে তাঁকে একটি অজ্ঞাত স্থানে ফেলে রেখে চলে যায় অভিযুক্ত ব্যক্তিরা। স্থানীয়রা তাঁকে উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য টঙ্গী সরকারি হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে তাঁর জ্ঞান ফিরে আসে বলে জানান তিনি।

এ বিষয়ে শাহ সিমেন্ট রেডি মিক্সের এইচআর ইনচার্জ আসিফ মাহমুদ জানান, তিনি রিপনের সঙ্গে অবস্থান করার সময় একদল অপরিচিত ব্যক্তি তাঁকে জোরপূর্বক তুলে নিয়ে যায়। পরে রিপনের মুঠোফোন বন্ধ পাওয়া যায়।

টঙ্গী পশ্চিম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আরিফুর রহমান বলেন, “ঘটনাটি শুনেছি। এ বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে এবং পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করছে।”

তবে ঘটনার সঙ্গে জড়িত বলে অভিযোগ ওঠা ব্যক্তিদের পরিচয় এবং তাঁদের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি। অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত ও পুলিশের পরবর্তী পদক্ষেপের অপেক্ষা রয়েছে।

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *