মো. আব্দুল গফুর সিকদার:
টানা ছয় দিনের ভারী বর্ষণে ভোলার বিচ্ছিন্ন দ্বীপ উপজেলা মনপুরার বিস্তীর্ণ এলাকায় জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। বসতবাড়ি, রাস্তাঘাট ও নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়ে উপজেলার অন্তত ১০টি গ্রামের প্রায় ১৫ হাজার মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন। অনেক বাড়িতে তিন থেকে চার ফুট পানি জমে থাকায় রান্নাবান্না ব্যাহত হচ্ছে। দেখা দিয়েছে বিশুদ্ধ পানির সংকট। ক্ষতিগ্রস্তরা দ্রুত পানি নিষ্কাশন, ত্রাণ ও নিরাপদ পানির ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
শনিবার জলাবদ্ধতায় ক্ষতিগ্রস্ত বিভিন্ন এলাকা পরিদর্শন করেন মনপুরা উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক মো. শামসুদ্দিন আহমেদ মোল্লা ও সদস্যসচিব মো. হাফিজ আব্দুর রহিম। তারা ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের সঙ্গে কথা বলেন এবং তাদের দুর্ভোগের চিত্র দেখেন।
পরিদর্শন শেষে যুবদল নেতারা জানান, জলাবদ্ধতা নিরসনে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে তারা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এবং ভোলা-৪ আসনের সংসদ সদস্য নুরুল ইসলাম নয়নের সঙ্গে আলোচনা করেছেন।
মো. শামসুদ্দিন আহমেদ মোল্লা বলেন, যেখানে পানি আটকে আছে, সেখানে প্রয়োজনীয় স্থানে বড় আকারের পাইপ বসিয়ে দ্রুত পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা করা জরুরি। একই সঙ্গে উপজেলা চত্বরের পুরোনো খাল পুনঃখননের উদ্যোগ নেওয়ার প্রয়োজন রয়েছে। এ বিষয়ে সংসদ সদস্যের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে এবং তিনি বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখবেন বলে আশ্বাস দিয়েছেন।
মো. হাফিজ আব্দুর রহিম বলেন, দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে থাকা সবার দায়িত্ব। প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করে দ্রুত সমস্যার সমাধান এবং প্রয়োজনীয় সহায়তা নিশ্চিত করার চেষ্টা চলছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা বলেন, দীর্ঘস্থায়ী জলাবদ্ধতায় স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হচ্ছে। দ্রুত পানি নিষ্কাশন, খাল পুনঃখনন, প্রয়োজনীয় স্থানে বড় আকারের পাইপ স্থাপন, পর্যাপ্ত ত্রাণ এবং বিশুদ্ধ পানির ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।
এ সময় স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মী, গণ্যমান্য ব্যক্তি ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন। উপস্থিত ব্যক্তিরা দ্রুত খাল পুনঃখনন ও পানি নিষ্কাশনের কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান। তাদের মতে, এসব উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে পানিবন্দি মানুষের দুর্ভোগ অনেকাংশে কমে আসবে।