ট্যাগ অফিসার ছাড়াই খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির চাল বিতরণ নিয়ে প্রশ্ন

মোঃ ইমরান মুন্সি:

ঝালকাঠির কাঁঠালিয়া উপজেলার শৌলজালিয়া ইউনিয়নের বিনাপানি এলাকায় খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির (এফএফপি) চাল বিতরণে অনিয়ম ও অব্যবস্থাপনার অভিযোগ উঠেছে। সরকারি নিয়ম অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট ট্যাগ অফিসারের উপস্থিতিতে চাল বিতরণের কথা থাকলেও তাঁর অনুপস্থিতিতেই চাল বিতরণ করছেন স্থানীয় ডিলার সাইফুল ইসলাম। এ ঘটনায় স্থানীয় সচেতন মহলে প্রশ্ন ও বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে।

গ্রামাঞ্চলের হতদরিদ্র পরিবারের খাদ্যনিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকার খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির আওতায় কার্ডধারীদের প্রতি কেজি ১৫ টাকা দরে ৩০ কেজি করে চাল সরবরাহ করে থাকে। তবে বিনাপানি বিতরণকেন্দ্রে তদারকি কর্মকর্তা বা ট্যাগ অফিসারের উপস্থিতি নিয়ে দেখা দিয়েছে অস্পষ্টতা।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে ডিলার সাইফুল ইসলাম প্রথমে দাবি করেন, সকালে চাল বিতরণের সময় ট্যাগ অফিসার উপস্থিত ছিলেন। এ সময় তিনি বিআরডিবির উপজেলা প্রকল্প কর্মকর্তা সিদ্দিকুর রহমানের নাম উল্লেখ করেন। তবে বিআরডিবি কার্যালয়ে যোগাযোগ করা হলে সিদ্দিকুর রহমান জানান, তিনি আগের দিন সকালে চাল বিতরণকেন্দ্রে গিয়েছিলেন, কিন্তু ওই দিন সেখানে যাননি। এ বিষয়ে বিস্তারিত জানতে তিনি প্রধান ট্যাগ অফিসার ও উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তার সঙ্গে যোগাযোগের পরামর্শ দেন।

পরবর্তীতে উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তার কাছে জানতে চাইলে তিনি অভিযোগ অস্বীকার করে জানান, তিনি নিজে সাধারণত ওই কেন্দ্রে যান না; সেখানে তদারকির দায়িত্বে যান সিদ্দিকুর রহমান। দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের বক্তব্যে ভিন্নতা থাকায় ট্যাগ অফিসারের উপস্থিতি ও তদারকি ব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

কর্মকর্তাদের বক্তব্যের পর ডিলার সাইফুল ইসলামের কাছে পুনরায় জানতে চাইলে তিনি নিজের বক্তব্য পরিবর্তন করে বলেন, আগের দিন সকালে ট্যাগ অফিসার কার্যক্রম উদ্বোধন করে চলে গেছেন। এরপর থেকে তাঁরা স্বচ্ছতার সঙ্গে চাল বিতরণ করছেন।

এ বিষয়ে উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রকের কার্যালয়ে যোগাযোগ করা হলে জানা যায়, আগের কর্মকর্তা বদলি হয়েছেন এবং নতুন কর্মকর্তা তখনো আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব গ্রহণ করেননি। তবে মুঠোফোনে নতুন কর্মকর্তা জানান, নিয়ম অনুযায়ী চাল বিতরণের সময় একজন ট্যাগ অফিসারের উপস্থিতি বাধ্যতামূলক।

সার্বিক বিষয়ে কাঁঠালিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. মকবুল হোসেনের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, বিষয়টি তাঁর জানা ছিল না। তবে ট্যাগ অফিসার ছাড়া চাল বিতরণের অভিযোগ খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় আইনি ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে আশ্বাস দেন তিনি।

এদিকে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন স্থানীয় বাসিন্দা ও ডিলারের প্রতিবেশীর অভিযোগ, বিভিন্ন সময়ে চাল বিতরণের পর অবশিষ্ট বা অবৈধ চাল ডিলারের নিজ বাড়িতে নিয়ে রাখা হতো। তবে এ অভিযোগের সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

স্থানীয় সচেতন মহলের দাবি, ট্যাগ অফিসারের উপস্থিতি ও যথাযথ তদারকি ছাড়া চাল বিতরণ করা হলে অনিয়মের সুযোগ তৈরি হতে পারে। তাঁদের মতে, সরকারি খাদ্যসহায়তা কর্মসূচির স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে বিনাপানি বিতরণকেন্দ্রের কার্যক্রম তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *