ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি:
শারদীয় দুর্গোৎসব-২০২৬ শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশে উদযাপনের লক্ষ্যে ঠাকুরগাঁওয়ের ভূল্লীতে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) বিকেল সাড়ে ৪টা থেকে সন্ধ্যা সাড়ে ৭টা পর্যন্ত ভূল্লী কুমারপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের হলরুমে বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ, ভূল্লী উপজেলা শাখার উদ্যোগে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।
সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী ও ঠাকুরগাঁও জেলা বিএনপির সভাপতি মির্জা ফয়সল আমিন। সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ, ভূল্লী উপজেলা শাখার সভাপতি মনোরঞ্জন বর্মন।
বিশেষ অতিথি ছিলেন ঠাকুরগাঁও জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক মো. জাফরুল্লাহ, ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি মোঃ আব্দুল হামিদ, হিন্দু ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্টের রংপুর বিভাগের সভাপতি মনোরঞ্জন সিং এবং বাংলাদেশ হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ, ঠাকুরগাঁও জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক প্রবীর কুমার দত্ত।
এ ছাড়া উপস্থিত ছিলেন বালিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও ঠাকুরগাঁও জেলা বিএনপির স্থানীয় সরকার বিষয়ক সম্পাদক মোঃ জুলফিকার আলী ভুট্টো চৌধুরী, ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলা বিএনপির সিনিয়র সহসভাপতি মোঃ নাজিমুল ইসলাম লাল, বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ, ভূল্লী উপজেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক তপন কুমার রায়, বালিয়া ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি আনোয়ার হোসেন, সাধারণ সম্পাদক ইদ্রিস আলীসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ।
সভায় ভূল্লী উপজেলার পাঁচটি ইউনিয়নের ৬৪টি পূজামণ্ডপের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকসহ সনাতন ধর্মাবলম্বীদের প্রতিনিধিরা অংশ নেন। তারা দুর্গোৎসবকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন সমস্যা ও প্রস্তুতির বিষয় তুলে ধরেন। সভায় বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীসহ প্রায় ৪০০ থেকে ৪৫০ জন উপস্থিত ছিলেন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে মির্জা ফয়সল আমিন বলেন, পূজামণ্ডপের সভাপতি-সাধারণ সম্পাদকসহ সনাতন সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিদের বিভিন্ন সমস্যার কথা তিনি শুনেছেন। এ সময় তিনি তাঁর বড় ভাই বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের পক্ষ থেকে সবাইকে আগাম শারদীয় শুভেচ্ছা জানান।
তিনি বলেন, ‘আপনারা বাংলাদেশের গর্বিত নাগরিক। সামনে শারদীয় দুর্গোৎসব অনেক আনন্দের মধ্য দিয়ে পালন করব, ইনশাআল্লাহ। আমি আপনাদের কাছে একটি ছোট্ট জিনিস চাই—আপনারা মনোবল ভাঙবেন না।’
মির্জা ফয়সল আমিন আরও বলেন, ‘৫ আগস্ট ২০২৪-এর পর আপনারা অনেক ভীত-সন্ত্রস্ত অবস্থায় ছিলেন। তখন আমি আপনাদের সাহস দেওয়ার চেষ্টা করেছি। আমার বাসা যে এলাকায়, সেই জায়গার নাম কালিবাড়ি। ছোটবেলায় দেখতাম, আমার বাসার সামনে একটি জবা ফুলের গাছ ছিল। আপনাদের সম্প্রদায়ের অনেকেই সেখান থেকে ফুল নিয়ে পূজা করতেন। তেমনি আপনাদের বাড়ির তুলসী পাতার রস খেয়ে আমার জ্বর ভালো হয়েছে।’
তিনি বলেন, ‘আমার শরীরে এক বিন্দু রক্ত থাকা পর্যন্ত ঠাকুরগাঁওয়ে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নষ্ট হতে দেব না।’
আগামী ২৯ অক্টোবরের প্রসঙ্গ তুলে উপস্থিতদের উদ্দেশে মির্জা ফয়সল আমিন বলেন, ‘যদি আমি আপনাদের হয়ে থাকি, তাহলে আগামী ২৯-১০-২০২৬ তারিখে প্রমাণ করে দেখাবেন।’
পরে তিনি সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে ‘সোনার ও স্বপ্নের বাংলাদেশ’ গড়ে তোলার আহ্বান জানান। একই সঙ্গে উপস্থিত সবাইকে আবারও শারদীয় শুভেচ্ছা জানান।