স্টাফ রিপোর্টার:
ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন (ডিএনসিসি)-এর নবনিযুক্ত প্রশাসক শফিকুল ইসলাম খান মিল্টন দায়িত্ব গ্রহণের পরপরই ছয় সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসকদের সঙ্গে নিয়ে জিয়াউর রহমান এবং খালেদা জিয়া-এর কবর জিয়ারত করেন। দায়িত্বের শুরুতেই এমন কর্মসূচি ঘিরে প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক মহলে নানা আলোচনা শুরু হয়েছে।জিয়ারত ও দোয়া মাহফিল
জিয়ারত শেষে তিনি দেশ ও জাতির কল্যাণ, গণতন্ত্রের অগ্রযাত্রা এবং নগরবাসীর সার্বিক উন্নয়ন কামনায় বিশেষ দোয়া ও মোনাজাতে অংশ নেন। এ সময় উপস্থিত অন্যান্য প্রশাসকরাও একই প্রার্থনায় শরিক হন।
প্রশাসক মিল্টন বলেন, “আমাদের ওপর অর্পিত দায়িত্ব যথাযথভাবে পালনের মাধ্যমে নগরবাসীর জীবনমান উন্নয়ন এবং একটি আধুনিক ও বাসযোগ্য নগর গড়ে তোলাই হবে প্রধান লক্ষ্য।
তিনি আরও জানান, গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ সমুন্নত রেখে অংশগ্রহণমূলক উন্নয়ন কার্যক্রম পরিচালনার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হবে।
প্রতীকী গুরুত্ব ও রাজনৈতিক তাৎপর্য
দায়িত্ব গ্রহণের পরপরই জাতীয় পর্যায়ের দুই বিশিষ্ট নেতার কবর জিয়ারত—এটিকে অনেকে একটি ‘শুভ সূচনা’ হিসেবে দেখছেন। বিশেষ করে স্থানীয় সরকার ব্যবস্থার মতো গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে যোগ দিয়ে অতীত রাষ্ট্রনায়কদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন প্রশাসনিক শালীনতা ও রাজনৈতিক ঐতিহ্যের প্রতি সম্মান প্রদর্শনের ইঙ্গিত বহন করে বলে মত বিশ্লেষকদের।
তবে সমালোচকদের একটি অংশ মনে করছেন, সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসনিক দায়িত্ব মূলত নাগরিক সেবা, অবকাঠামো উন্নয়ন, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, ট্রাফিক শৃঙ্খলা ও নগর পরিকল্পনাকেন্দ্রিক হওয়া উচিত। সেই প্রেক্ষাপটে দায়িত্ব গ্রহণের শুরুতেই রাজনৈতিকভাবে তাৎপর্যপূর্ণ স্থানে কর্মসূচি পালন ভবিষ্যৎ প্রশাসনিক নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তুলতে পারে—এমন মতও শোনা যাচ্ছে।
সামনে যেসব চ্যালেঞ্জ ডিএনসিসি এলাকায় বর্তমানে যেসব ইস্যু গুরুত্বপূর্ণ,জলাবদ্ধতা ও ড্রেনেজ সংকট সড়ক অবকাঠামোর উন্নয়ন ও রক্ষণাবেক্ষণ,বর্জ্য ব্যবস্থাপনা আধুনিকীকরণ,ফুটপাত দখল ও যানজট নিরসন,পরিবেশ ও উন্মুক্ত স্থান সংরক্ষণ,নবনিযুক্ত প্রশাসকের জন্য এগুলোই হবে তাৎক্ষণিক চ্যালেঞ্জ। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, প্রতীকী কর্মসূচির পাশাপাশি দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ ও দৃশ্যমান অগ্রগতি দেখাতে পারলেই নাগরিক আস্থা অর্জন সম্ভব হবে।
নগরবাসীর প্রত্যাশা রাজনৈতিক আনুগত্য বা প্রতীকী কর্মসূচির ঊর্ধ্বে উঠে প্রশাসনিক দক্ষতা, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার মাধ্যমে সেবার মান উন্নয়ন। একটি আধুনিক, বাসযোগ্য ও দূষণমুক্ত নগর গঠনের যে অঙ্গীকার করা হয়েছে, তার বাস্তব প্রতিফলনই এখন দেখার বিষয়।দায়িত্ব গ্রহণের এই জিয়ারত কর্মসূচি তাই শুধু একটি আনুষ্ঠানিকতা নয়—বরং এটি নতুন প্রশাসনের ভবিষ্যৎ পথচলার দিকনির্দেশনা নিয়ে জনমনে প্রশ্ন ও প্রত্যাশা—দুটোই জাগিয়ে তুলেছে।