আব্দুর রশিদ:
তালায় ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠিত হলো গ্রামবাংলার ঐতিহ্যবাহী চড়ক পূজা।
সোমবার (১৩ এপ্রিল) বিকেল ৪টায় উপজেলার খলিলনগর ইউনিয়নের মহান্দী গ্রামে চড়ক পূজা অনুষ্ঠিত হয়। পুকুর থেকে চড়ক গাছটি তোলা হয় এবং কালী মন্দির চত্বরে পূজার আয়োজন করা হয়। পূজাকে ঘিরে হাজারো ভক্ত ও দর্শনার্থীর মিলনমেলায় পরিণত হয়।
সরেজমিনে দেখা যায়, প্রায় ৩০ ফুট উচ্চতার কাঠের দণ্ড। ঢাক-ঢোল, শঙ্খধ্বনি ও উলুধ্বনির মধ্যে ফুল, ধূপ, আবির, কলা, বাতাসা ছিটিয়ে দেওয়া হয়। সনাতনধর্মাবলম্বীসহ বিভিন্ন মানুষ দেখতে আসে পূজাটি।
দর্শনার্থীরা বলেন, চড়ক পূজায় পরিবারের সদস্যদের নিয়ে এখানে এসেছি। এমন আয়োজন সত্যিই উপভোগ করার মতো। অনেক মানুষের আগমন হয়েছে, অনেক দোকানপাট বসেছে।
আয়োজকরা জানান, চৈত্র মাসজুড়ে তাদের আয়োজন থাকে, তারা উপবাস থাকেন এবং নানা আচার-অনুষ্ঠান পালন করেন। ৪ বৈশাখ নাম যজ্ঞের শেষে আবারও চড়ক গাছটি পুকুরে রেখে আসা হয়।
অংশগ্রহণকারী চড়ক শিল্পী সনাতন দাস বলেন, প্রতি বছর চড়ক পূজায় অংশ নেন। বছর ধরে গাছটি পানির নিচে থাকে। বছরের শেষ দিনেই উৎসবমুখরভাবে সন্ন্যাসীদের নিয়ে গাছটি তুলে মন্দিরের সামনে পূজা-অর্চনা করা হয়। ভক্তবৃন্দ তাদের মনোবাসনা পূরণের জন্য বিভিন্ন প্রার্থনা করেন।
ঐতিহ্য ও ধর্মীয় বিশ্বাসের এই চড়ক পূজা এখন শুধু একটি সম্প্রদায়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়—এটি হয়ে উঠেছে সম্প্রীতির এক অনন্য মিলনমেলা।