স্টাফ রিপোর্টার ::
উত্তর ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলের কয়েকটি জেলায় আগামী ২৪ থেকে ৭২ ঘণ্টার মধ্যে স্বল্পমেয়াদি বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হতে পারে বলে সতর্ক করেছে বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের (বাপাউবো) বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র (এফএফডব্লিউসি)। একই সঙ্গে আগামী ২০ থেকে ২২ জুলাইয়ের মধ্যে ব্রহ্মপুত্র-যমুনা অববাহিকার কয়েকটি জেলায় নদীর পানি সতর্কসীমা স্পর্শ করতে পারে বলেও জানিয়েছে সংস্থাটি।
শনিবার (১৮ জুলাই) বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের সহকারী প্রকৌশলী নুসরাত জাহান জেরিন স্বাক্ষরিত প্রধান অববাহিকা ও জোনভিত্তিক নদ-নদীর পরিস্থিতি ও পূর্বাভাসে এ তথ্য জানানো হয়।
পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, বর্তমানে কুশিয়ারা নদীর পানি সিলেটের ফেঞ্চুগঞ্জ ও সুনামগঞ্জের মারকুলি পয়েন্টে বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এছাড়া গাঙ্গেয় পশ্চিমবঙ্গের পশ্চিমাংশ ও তৎসংলগ্ন এলাকায় অবস্থানরত লঘুচাপটি উত্তর-পশ্চিম দিকে সরে গেছে এবং আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে এটি ধীরে ধীরে দুর্বল হতে পারে।
এদিকে আগামী তিন দিনে তিস্তা, ধরলা ও দুধকুমার নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। আগামী ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে এসব নদীর কয়েকটি পয়েন্টে পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করতে পারে। এর ফলে লালমনিরহাট, নীলফামারী, রংপুর, গাইবান্ধা ও কুড়িগ্রামের নদীসংলগ্ন নিম্নাঞ্চলে স্বল্পমেয়াদি বন্যা দেখা দিতে পারে।
অন্যদিকে আগামী তিন দিনে সুরমা ও কুশিয়ারা নদীর পানিও বৃদ্ধি পেতে পারে। আগামী ৭২ ঘণ্টার মধ্যে এসব নদীর কিছু স্থানে পানি বিপৎসীমা ছাড়িয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এতে সিলেট ও সুনামগঞ্জ জেলার নদী তীরবর্তী নিম্নাঞ্চলে নতুন করে স্বল্পমেয়াদি বন্যা দেখা দিতে পারে অথবা বর্তমানে বিদ্যমান বন্যা পরিস্থিতি স্থিতিশীল থাকতে পারে।
বন্যা পূর্বাভাস কেন্দ্র আরও জানিয়েছে, আগামী পাঁচ দিনে ব্রহ্মপুত্র-যমুনা এবং গঙ্গা-পদ্মা নদ-নদীর পানিও বৃদ্ধি পেতে পারে। এর প্রভাবে ২০ থেকে ২২ জুলাইয়ের মধ্যে কুড়িগ্রাম, গাইবান্ধা, জামালপুর, বগুড়া, সিরাজগঞ্জ ও টাঙ্গাইল জেলার কিছু এলাকায় ব্রহ্মপুত্র-যমুনার পানি সতর্কসীমায় পৌঁছাতে পারে। এতে নদীসংলগ্ন নিম্নাঞ্চলের কোথাও কোথাও প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
এ ছাড়া বরিশাল, খুলনা ও চট্টগ্রাম বিভাগের উপকূলীয় অঞ্চলের কীর্তনখোলা, লোয়ার মেঘনা, পশুর, ইছামতি, কর্ণফুলী, লিটল ফেনী ও নোয়াখালী খালসহ বিভিন্ন নদীতে আগামী একদিন স্বাভাবিকের তুলনায় উচ্চ জোয়ার অব্যাহত থাকতে পারে বলে জানিয়েছে বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র।
সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ নদী তীরবর্তী নিম্নাঞ্চলের বাসিন্দাদের পরিস্থিতির প্রতি সতর্ক দৃষ্টি রাখার এবং প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছে।