ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট–২০২৬ উপলক্ষে, নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের প্রার্থীদের নিয়ে বিশেষ আইনশৃঙ্খলা সভা অনুষ্ঠিত

মোহাম্মদ হোসেন হ্যাপী:

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট–২০২৬ সামনে রেখে নারায়ণগঞ্জ-৪ (২০৭) সংসদীয় আসনের প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের অংশগ্রহণে এক বিশেষ আইনশৃঙ্খলা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) দুপুরে নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলা পরিষদের অডিটোরিয়ামে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।

সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসক ও জেলা রিটার্নিং অফিসার মোঃ রায়হান কবির। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মিজানুর রহমান মুন্সী এবং অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আলমগীর হোসাইন।

সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন সেনাবাহিনীর প্রতিনিধি লেফটেন্যান্ট কর্নেল আরেফিন রাব্বি (সিও, ৭ আর্টিলারি), মির্জা মোহাম্মদ আরাফাত, লেফটেন্যান্ট কর্নেল এস এম সাজ্জাদ হোসেন, জেলা আনসার ও ভিডিপি কমান্ডার কানিজ ফারজানা শান্তা সহ বিভিন্ন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

বিশেষ আইনশৃঙ্খলা সভায় সভাপতিত্ব করেন নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এস এম ফয়েজ উদ্দিন।

সভায় নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের প্রতিদ্বন্দ্বী সংসদ সদস্য প্রার্থীদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন এডভোকেট আবদুল্লাহ আল আমিন, মুফতি মনির হোসেন কাশেমী, আলহাজ্ব শাহ আলম, আলহাজ্ব গিয়াস উদ্দিন, বীর মুক্তিযোদ্ধা মোহাম্মদ আলী, মুফতি ইসমাইল হোসেন, খন্দকার আনোয়ার হোসেন, আরিফ ভুইয়া, সালাউদ্দিন খোকা, ইকবাল হোসেন, সোলাইমান দেওয়ান, সেলিম মাহমুদ, সেলিম আহমদসহ অন্যান্য প্রার্থীরা এবং তাদের সমর্থকবৃন্দ।

সভায় অংশগ্রহণকারী প্রার্থীরা তাদের নির্বাচনী ইশতেহারের বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন এবং অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠানে প্রশাসনের সহযোগিতা কামনা করেন। একই সঙ্গে তারা অভিযোগ করেন যে, কিছু এলাকায় আওয়ামী সন্ত্রাসী ও চাঁদাবাজদের নিয়ে ঘোরাফেরা করে নির্বাচনী পরিবেশ নষ্ট করার অপচেষ্টা চালানো হচ্ছে। এ বিষয়ে দ্রুত ও কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান প্রার্থীরা।

সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে জেলা প্রশাসক ও জেলা রিটার্নিং অফিসার মোঃ রায়হান কবির বলেন, “আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সবসময় আপনাদের পাশে রয়েছে। আপনাদেরও দায়িত্ব রয়েছে নির্বাচনকে অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য করতে প্রশাসনকে সহযোগিতা করার।” তিনি প্রার্থীদের উদ্দেশে বলেন, নির্বাচনী আচরণবিধি মেনে চলা সবার জন্য বাধ্যতামূলক এবং একে অপরের প্রতি ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রতি সম্মান বজায় রাখতে হবে।

তিনি আরও বলেন, “এবারের নির্বাচনে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী জিরো টলারেন্স নীতিতে কাজ করবে। কেউ যদি নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সহিংসতা, বিশৃঙ্খলা বা অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরির চেষ্টা করে—সে যেই হোক, কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না।”

জেলা প্রশাসক স্পষ্ট করে বলেন, আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন হবে অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও উৎসবমুখর। অতীতের তিনটি নির্বাচনের মতো পরিস্থিতি আবারও ঘটবে—এমন ধারণা সম্পূর্ণ ভুল। প্রশাসন দৃঢ়ভাবে আইন প্রয়োগ করবে এবং ভোটারদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে।

তিনি প্রার্থীদের সতর্ক করে বলেন, নির্বাচন কমিশন প্রণীত আচরণবিধি ও প্রচারণা সংক্রান্ত সব নিয়মকানুন কঠোরভাবে অনুসরণ করতে হবে। আচরণবিধি লঙ্ঘনের ঘটনায় আইন অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলেও তিনি হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন।

সভা শেষে প্রশাসন ও প্রার্থীদের মধ্যে পারস্পরিক মতবিনিময়ের মাধ্যমে একটি শান্তিপূর্ণ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন অনুষ্ঠানের বিষয়ে ঐকমত্য প্রকাশ করা হয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *