মোহাম্মদ হোসেন হ্যাপী:
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটকে অবাধ, সুষ্ঠু, শান্তিপূর্ণ, উৎসবমুখর, ভয়ভীতিহীন ও নিরপেক্ষভাবে সম্পন্ন করতে নারায়ণগঞ্জ জেলায় সব ধরনের আইনি ও প্রশাসনিক প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন জেলা প্রশাসক ও জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা মোহাম্মদ রায়হান কবির।
তিনি বলেন, এই নির্বাচন শুধু দেশের মানুষের জন্য নয়, আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক সক্ষমতার একটি বড় পরীক্ষা। ফলে এই নির্বাচনকে কেন্দ্র করে আমাদের ওপর দায়িত্ব ও প্রত্যাশা—দুটিই অনেক বেশি। সততা, সর্বোচ্চ পেশাদারিত্ব এবং দায়িত্বশীলতার মাধ্যমে আমাদের সক্ষমতার প্রমাণ দিতে হবে।
জেলা প্রশাসক বলেন, “ব্যক্তিগত সীমাবদ্ধতা থাকতে পারে, কিন্তু নির্বাচনী দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে কোনো ধরনের অজুহাত গ্রহণযোগ্য নয়। দায়িত্বে অবহেলা বা গাফিলতির কোনো সুযোগ নেই।”
তিনি আরও বলেন, নির্বাচন চলাকালে যদি কোথাও কোনো সমস্যা বা অনিয়মের আশঙ্কা দেখা দেয়, তাহলে তাৎক্ষণিকভাবে প্রশাসনকে অবহিত করতে হবে। অভিযোগ পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। ভোটের দিন প্রত্যেক কর্মকর্তা ও কর্মচারীকে নিজ নিজ দায়িত্ব সম্পর্কে পূর্ণ সচেতন থাকতে হবে এবং সর্বোচ্চ পেশাদারিত্ব ও দায়িত্বশীলতার সঙ্গে কাজ করতে হবে। কারণ এই নির্বাচন ঘিরে সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা অত্যন্ত বেশি।
নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসক ও জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা মোঃ রায়হান কবির বলেন, “আমরা কোনো ব্যক্তি, দল বা গোষ্ঠীর নয়—আমরা রাষ্ট্রের প্রতি দায়বদ্ধ। ভোটকেন্দ্রে কোনো সমস্যা দেখা দিলে পাঁচ মিনিটের মধ্যেই আইনশৃঙ্খলা বাহিনী পৌঁছে যাবে। এখন ভয় পাওয়ার সময় নয়, ত্যাগ ও দায়িত্ব পালনের সময়। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি শান্তিপূর্ণভাবে ভোটগ্রহণ সম্পন্ন করে জনগণের প্রত্যাশা পূরণ করে ঘরে ফিরতে হবে।”
তিনি কঠোর ভাষায় বলেন, কেউ যদি কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটানোর চেষ্টা করে, তাহলে তার বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিকভাবে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। এ ক্ষেত্রে কোনো প্রকার ছাড় দেওয়া হবে না।
জেলা প্রশাসক আরও বলেন, “১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে মাঠে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও স্বতন্ত্র প্রার্থীরা অংশগ্রহণ করবে। কেউ জিতবে, কেউ হারবে। কিন্তু আমরা যারা নির্বাচনী দায়িত্বে আছি, আমরা অংশগ্রহণ করেছি পুরো দেশকে জেতাতে।”
তিনি বলেন, “আমরা জেতাতে চাই সমগ্র দেশের মানুষকে। আমরা চাই দেশের মানুষের মুখে হাসি ফোটাতে। সেটি সম্ভব একটি অবাধ, নিরপেক্ষ, শান্তিপূর্ণ, ভয়ভীতিহীন ও উৎসবমুখর নির্বাচনের মাধ্যমে।”
আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটে জননিরাপত্তা বিঘ্নিত করার যেকোনো অপচেষ্টা কঠোর হস্তে দমন করার জন্য নারায়ণগঞ্জ জেলায় নির্বাচনে নিয়োজিত কর্মকর্তা ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের প্রতি কঠোর নির্দেশনা দেন জেলা প্রশাসক।
তিনি বলেন, “ভোটের আগে, ভোটের দিন এবং ভোট-পরবর্তী সময়ে সাধারণ মানুষের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সর্বোচ্চ পেশাদারিত্ব ও দায়িত্বশীলতার সঙ্গে কাজ করতে হবে। এই জেলার নির্বাচনী ব্যবস্থার মূল শক্তি হবে আপনাদের সততা, দক্ষতা ও পেশাদারিত্ব।”
তিনি আরও সতর্ক করে বলেন, ভোটকেন্দ্রে কোনো ধরনের অনিয়ম, পক্ষপাতিত্ব বা দায়িত্বে অবহেলা প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট রিটার্নিং কর্মকর্তা, সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা কিংবা প্রিজাইডিং অফিসার—কেউই ছাড় পাবে না।
জেলা প্রশাসক দৃঢ় কণ্ঠে বলেন, “এই নির্বাচনে কারচুপির কোনো আশঙ্কা নেই। শতভাগ স্বচ্ছ, শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশে নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য সব ধরনের আইনি প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে।”
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট উপলক্ষে জেলার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে নারায়ণগঞ্জ জেলার সব আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সর্বোচ্চ দায়িত্ববোধ নিয়ে কাজ করছে বলেও জানান তিনি। যার ফলে জেলার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি বর্তমানে প্রশাসনের অনুকূলে রয়েছে।
তিনি বলেন, জেলার সব সংসদীয় আসনের প্রার্থীরা যাতে ভয়ভীতিহীন পরিবেশে নির্বাচনী গণসংযোগ চালাতে পারেন এবং ভোটাররা শান্তিপূর্ণভাবে ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারেন—সে লক্ষ্যে জেলার প্রতিটি উপজেলায় অডিটোরিয়ামে সব প্রার্থীকে নিয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর উপস্থিতিতে বিশেষ আইনশৃঙ্খলা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
এ ছাড়া জেলার সব ঝুঁকিপূর্ণ ভোটকেন্দ্র চিহ্নিত করে সেখানে অতিরিক্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। মোবাইল টিম, স্ট্রাইকিং ফোর্স ও রিজার্ভ ফোর্স প্রস্তুত রাখা হয়েছে বলেও জানান জেলা প্রশাসক।
নির্বাচনী দায়িত্ব পালনে গাফিলতির বিষয়ে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়ে জেলা প্রশাসক বলেন, “এখানে কোনো ছাড় নেই। কারও মধ্যে যদি নেতিবাচক মানসিকতা থাকে, তাহলে এই প্রক্রিয়া থেকে সরে যান—নইলে পরিণতি কঠিন হবে।”
তিনি বলেন, “এই নির্বাচন আগামী বাংলাদেশের একটি রূপরেখা। যে বাংলাদেশে আপনি, আমি এবং আমাদের সন্তানরা নিরাপদে বসবাস করবে।”
নির্বাচনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সবাইকে সতর্ক করে তিনি বলেন, “এই নির্বাচনী মাঠে কেউ যদি তার যোগ্যতা, সর্বোচ্চ পেশাদারিত্ব ও দক্ষতার ঘাটতির প্রমাণ দেয়, তার বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। আমাদের লক্ষ্য—একটি উৎসবমুখর ও আন্তর্জাতিকভাবে গ্রহণযোগ্য নির্বাচন উপহার দেওয়া।”
সবশেষে তিনি বলেন, “এই নির্বাচনে সবাই মনিটরিংয়ের আওতায় রয়েছে। আমাকেও মনিটরিং করা হচ্ছে। কেউ এর বাইরে নয়। কোনো কেন্দ্রে কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটলে পাঁচ মিনিটের মধ্যে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও মোবাইল টিম পৌঁছাবে। প্রিজাইডিং কর্মকর্তাদের নিরাপত্তার জন্য পর্যাপ্ত ফোর্স থাকবে। তবে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো—নাগরিকরা যেন নির্বিঘ্নে ভোট দিতে পারে। সেই পরিবেশ নিশ্চিত করা আমাদের সবার দায়িত্ব।”