দশমিনা উপজেলার খাদ্য গুদাম সড়কের বেহাল দশা, দুর্ভোগে ৭ ইউনিয়নের মানুষ

এস এম কিবরিয়া করিম:

পটুয়াখালীর দশমিনা উপজেলার গুরুত্বপূর্ণ খাদ্য গুদাম সড়কের বেহাল অবস্থার কারণে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন উপজেলার সাতটি ইউনিয়নের হাজারো মানুষ। দীর্ঘদিন ধরে সংস্কারের অভাবে সড়কের বিভিন্ন স্থানে বড় বড় গর্ত, খানাখন্দ ও ভাঙনের সৃষ্টি হয়েছে। এতে প্রতিদিন জীবনের ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে সাধারণ মানুষ, শিক্ষার্থী, ব্যবসায়ী ও যানবাহন চালকদের।

স্থানীয়রা জানান, উপজেলার খাদ্য গুদামের সামনের এই সড়কটি শুধু স্থানীয় যোগাযোগের জন্যই নয়, কৃষিপণ্য ও খাদ্যশস্য পরিবহনের জন্যও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। প্রতিদিন এই সড়ক ব্যবহার করে খাদ্য গুদামে ধান-চাল পরিবহন করা হয়। এছাড়া উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন থেকে শত শত মানুষ উপজেলা সদর ও আশপাশের এলাকায় যাতায়াতের জন্য এই সড়কের ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে সড়কটির সংস্কার না হওয়ায় বর্তমানে এটি চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, সড়কের বিভিন্ন অংশে কার্পেটিং উঠে গিয়ে ইট-পাথর বের হয়ে আছে। কোথাও কোথাও বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। সামান্য বৃষ্টিতেই এসব গর্তে পানি জমে কাদা ও জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়। ফলে পথচারীদের পাশাপাশি রিকশা, অটোরিকশা, মোটরসাইকেল ও ছোট যানবাহন চলাচল মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। বিশেষ করে বৃষ্টির সময় সড়কের অবস্থা আরও ভয়াবহ হয়ে ওঠে।

স্থানীয় ব্যবসায়ীরা জানান, সড়কের খারাপ অবস্থার কারণে পণ্য পরিবহনে অতিরিক্ত সময় লাগছে। অনেক সময় যানবাহন বিকল হয়ে মাঝপথে আটকে পড়ছে। এতে ব্যবসায়িক কার্যক্রমেও নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। খাদ্য গুদামে ধান-চাল পরিবহন করতে গিয়ে পরিবহন শ্রমিকদেরও নানা সমস্যার মুখোমুখি হতে হচ্ছে।

একাধিক শিক্ষার্থী ও অভিভাবক অভিযোগ করেন, প্রতিদিন স্কুল-কলেজে যাতায়াতে চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। সড়কের গর্ত এড়িয়ে চলতে গিয়ে প্রায়ই ছোটখাটো দুর্ঘটনা ঘটছে। বিশেষ করে রাতের বেলায় সড়কে পর্যাপ্ত আলোর ব্যবস্থা না থাকায় দুর্ঘটনার ঝুঁকি আরও বেড়ে যায়।

স্থানীয় বাসিন্দা মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, “দীর্ঘদিন ধরে সড়কটির এমন বেহাল অবস্থা। জনপ্রতিনিধি ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরে বহুবার জানিয়েছি, কিন্তু কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। সামান্য বৃষ্টি হলেই সড়কে হাঁটা যায় না।”

আরেক বাসিন্দা শাহিনুর বেগম বলেন, “রোগী নিয়ে হাসপাতালে যেতে খুব কষ্ট হয়। অ্যাম্বুলেন্স পর্যন্ত ঠিকমতো চলতে পারে না। জরুরি মুহূর্তে মানুষকে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।”

যানবাহন চালকরাও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। অটোরিকশাচালক জসিম উদ্দিন বলেন, “এই সড়কে গাড়ি চালাতে গিয়ে প্রায়ই গাড়ির যন্ত্রাংশ নষ্ট হচ্ছে। প্রতিদিন ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে হয়।”

এদিকে স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে সড়কটির দুরবস্থা চললেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কার্যকর কোনো উদ্যোগ নিচ্ছে না। একাধিকবার বিষয়টি জানানো হলেও এখনো সংস্কার কাজ শুরু হয়নি। ফলে দিন দিন জনদুর্ভোগ আরও বাড়ছে।

স্থানীয় সচেতন মহল বলছে, গুরুত্বপূর্ণ এই সড়কটি দ্রুত সংস্কার না করলে ভবিষ্যতে বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা রয়েছে। একই সঙ্গে খাদ্যশস্য পরিবহন কার্যক্রমও ব্যাহত হতে পারে। তারা দ্রুত সড়কটি সংস্কারের জন্য সরকারের সংশ্লিষ্ট বিভাগ ও স্থানীয় প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

এ বিষয়ে স্থানীয় প্রশাসনের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাৎক্ষণিকভাবে কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে এলাকাবাসীর প্রত্যাশা, দ্রুত সময়ের মধ্যে সড়কটি সংস্কার করে জনদুর্ভোগ লাঘবে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *