মোঃআনজার শাহ
দারিদ্র্য বিমোচন, পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর উন্নয়ন এবং নারীদের আত্মকর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টির মাধ্যমে সুবিধাবঞ্চিত মানুষের পাশে দাঁড়ানোর দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন বাংলাদেশ এনজিও ফাউন্ডেশনের (বিএনএফ) চেয়ারম্যান খন্দকার মোরতাজুল করিম বাদরু।
তিনি বলেন, ‘আমরা সহযোগিতাকে দান হিসেবে দেখি না, মানুষের প্রকৃত উপকার হিসেবে দেখি। আমরা এমনভাবে পাশে দাঁড়াতে চাই, যাতে একজন মানুষ নিজের শ্রম ও দক্ষতার মাধ্যমে আয় করে স্বাবলম্বী হতে পারেন।’
শুক্রবার সকালে কুমিল্লার সদর দক্ষিণ উপজেলার রতনপুরে ভার্ডো কার্যালয়ে বাংলাদেশ এনজিও ফাউন্ডেশনের অর্থায়নে বিনামূল্যে নলকূপ ও সেলাই মেশিন বিতরণ প্রকল্পের সুফলভোগীদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
খন্দকার মোরতাজুল করিম বাদরু বলেন, বিএনপির ঘোষিত ৩১ দফায় দারিদ্র্য বিমোচন, পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর উন্নয়ন, নারীদের আত্মকর্মসংস্থান সৃষ্টি, স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিতকরণ, বিশেষ শ্রেণির মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি এবং শিশুদের শিক্ষার বিষয়গুলোকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। বাংলাদেশ এনজিও ফাউন্ডেশনও তার কার্যক্রমের মাধ্যমে এসব ক্ষেত্রে মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে কাজ করে যাচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, ‘আজ আপনাদের সঙ্গে কথা বলে আমি সত্যিই আনন্দিত। একজন বিধবা নারী সেলাই মেশিন পেয়ে সেই মেশিন দিয়ে পোশাক তৈরি করে আয় করছেন। আরেকজন চার সন্তানের মা, তিনিও সেলাই মেশিনের মাধ্যমে পরিবার পরিচালনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছেন। এটাই আমরা চাই আমাদের সহযোগিতা যেন একজন মানুষের জীবনে সত্যিকারের ইতিবাচক পরিবর্তন আনে।’
সুফলভোগীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘আপনারা কারও মুখাপেক্ষী না হয়ে নিজের শ্রমের বিনিময়ে আয় করছেন, নিজেদের দক্ষতা দিয়ে সংসার পরিচালনা করছেন। আমাদের দেওয়া সেলাই মেশিনকে সঠিকভাবে কাজে লাগিয়ে আপনারা আত্মকর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করেছেন। এ জন্য আপনাদের আন্তরিক ধন্যবাদ।’
বিএনএফ চেয়ারম্যান বলেন, ‘আমাদের কাজ সুবিধাবঞ্চিত ও দরিদ্র মানুষের পাশে দাঁড়ানো। পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীকে উন্নয়নের মূলধারায় নিয়ে আসা এবং তাদের আত্মকর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করাই আমাদের অন্যতম লক্ষ্য। ভবিষ্যতে ভার্ডোর মতো প্রতিষ্ঠানগুলো যদি আরও ভালোভাবে কাজ করতে পারে, আমরা সবসময় তাদের পাশে থাকব।’
সাংবাদিক ও স্থানীয় নেতৃবৃন্দের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, বাংলাদেশ এনজিও ফাউন্ডেশনের কার্যক্রম যেন প্রকৃত সুবিধাবঞ্চিত মানুষের কাছে পৌঁছায়, সে বিষয়ে সবার সহযোগিতা প্রয়োজন। তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন, ভবিষ্যতে আরও বেশি মানুষের কাছে সহযোগিতা পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হবে।
সভায় সেলাই মেশিন পাওয়া সুফলভোগী রোকেয়া আক্তার বলেন, ‘আমার স্বামী মারা গেছেন। এখান থেকে একটি সেলাই মেশিন পেয়েছি। এই মেশিন দিয়ে থ্রি-পিসসহ বিভিন্ন পোশাক সেলাই করে আয় করছি। এতে আমার সংসার চালাতে অনেক উপকার হচ্ছে।’
আরেক সুফলভোগী তাসলিমা আক্তার বলেন, ‘আমি চার সন্তানের মা, স্বামী নেই। সেলাই মেশিন পাওয়ার পর কাপড় তৈরি ও বিক্রি করে আয় করতে পারছি। এই মেশিনটি আমার পরিবারের জন্য অনেক বড় সহায়তা হয়ে দাঁড়িয়েছে।’
সভায় ভার্ডোর কুমিল্লার চেয়ারম্যান জামালউদ্দিন, নির্বাহী পরিচালক মো. আব্দুস সেলিম, প্রকল্পের সুফলভোগী, স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন।
এর আগে বাংলাদেশ এনজিও ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান খন্দকার মোরতাজুল করিম বাদরু তাঁর নিজ গ্রাম কুমিল্লার বরুড়া উপজেলার বিষ্ণুপুরে দলীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে নিয়ে তাঁর মরহুমা মায়ের কবর জিয়ারত করেন এবং মায়ের রুহের মাগফিরাত কামনা করে দোয়া করেন। তিনি প্রার্থনা করেন, আল্লাহ তাআলা যেন তাঁর মাকে জান্নাতের সর্বোচ্চ মাকাম দান করেন এবং তাঁর কবরকে নূরে ভরিয়ে দেন।