দারিদ্র্য বিমোচনে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহির আহ্বান, এনজিও ফাউন্ডেশন চেয়ারম্যানের সঙ্গে রংপুর বিভাগের সহযোগী সংস্থার নির্বাহীদের সৌজন্য সাক্ষাৎ

মোঃআনজার শাহ

আত্মকর্মসংস্থান ও স্বনির্ভরতার পথে এগিয়ে চলার প্রত্যয়; সাত সহযোগী সংস্থার প্রতিনিধির অংশগ্রহণ
নিজস্ব প্রতিবেদক: দারিদ্র্যের অন্ধকার ঘুচিয়ে স্বনির্ভরতার আলো ছড়িয়ে দেওয়ার প্রত্যয় নিয়ে বাংলাদেশ এনজিও ফাউন্ডেশনের (বিএনএফ) রংপুর বিভাগের সহযোগী সংস্থাগুলোর নির্বাহী পরিচালকেরা ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান খোন্দকার মো. মোরতাজুল করিম বাদরুর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন। রোববার (১১ অক্টোবর) অনুষ্ঠিত এ সাক্ষাতে দারিদ্র্য বিমোচন, আত্মকর্মসংস্থান সৃষ্টি, প্রকল্প বাস্তবায়নে স্বচ্ছতা এবং প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়নের নানা দিক নিয়ে আলোচনা হয়।

সাক্ষাৎকালে চেয়ারম্যান সহযোগী সংস্থাগুলোর কার্যক্রমে স্বচ্ছতা, জবাবদিহি ও আন্তরিকতার ওপর গুরুত্ব দেন। তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, সহযোগী সংস্থাগুলো সততা ও স্বচ্ছতার সঙ্গে দারিদ্র্য বিমোচনে কাজ করে ফাউন্ডেশনের সুনাম অক্ষুণ্ন রাখবে। একই সঙ্গে অনুদানের যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করে অসহায় ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের জীবনমান উন্নয়নে কার্যকর ভূমিকা রাখবে বলেও তিনি প্রত্যাশা করেন।

আলোচনায় সংস্থাগুলোর প্রধান নির্বাহীরা জানান, ফাউন্ডেশনের অনুদানে তাঁরা গাভি পালন, ছাগল বিতরণ, স্যানিটেশন ও মাদক নিরাময়সহ বিভিন্ন জনকল্যাণমূলক প্রকল্প বাস্তবায়ন করছেন। এসব উদ্যোগের মাধ্যমে দরিদ্র পরিবারের আয়ের সুযোগ সৃষ্টি হচ্ছে, আত্মকর্মসংস্থানের পথ উন্মুক্ত হচ্ছে এবং অনেক মানুষ ধীরে ধীরে স্বাবলম্বী হয়ে উঠছেন। এভাবে সমাজ থেকে যেমন দারিদ্র্য দূর হচ্ছে, তেমনি সম্পদ সৃষ্টির মাধ্যমে আত্মমর্যাদাশীল জাতি গঠনে বাংলাদেশ এনজিও ফাউন্ডেশন বিশেষ ভূমিকা রাখছে বলে তাঁরা মত দেন।
তাঁদের মতে, দারিদ্র্য বিমোচন কেবল আর্থিক সহায়তার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; কর্মদক্ষতা বৃদ্ধি, আয়ের স্থায়ী উৎস তৈরি এবং আত্মমর্যাদা নিয়ে বেঁচে থাকার সক্ষমতা অর্জনের মধ্যেই এর প্রকৃত সার্থকতা নিহিত। এ ক্ষেত্রে ফাউন্ডেশনের সহযোগিতা তৃণমূল পর্যায়ে আর্থসামাজিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। প্রকল্পগুলো স্বচ্ছতা ও দায়বদ্ধতার সঙ্গে বাস্তবায়ন করে দরিদ্র জনগোষ্ঠীর জীবনযাত্রায় ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে তাঁরা সচেষ্ট থাকবেন বলেও জানান।
দারিদ্র্য বিমোচন ও জনকল্যাণমূলক কার্যক্রমে সহযোগিতা ও উৎসাহ দেওয়ার জন্য নির্বাহী পরিচালকেরা চেয়ারম্যানকে বিশেষ ধন্যবাদ জানান।

সৌজন্য সাক্ষাতে পঞ্চগড়, ঠাকুরগাঁও, লালমনিরহাট ও কুড়িগ্রাম জেলার সাতটি সহযোগী সংস্থার প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। সংস্থাগুলো হলো:
হাড়িভাসা ইউনিয়ন সমাজকল্যাণ ফেডারেশন, সদর, পঞ্চগড়
মির্জাপুর ইউনিয়ন সমাজকল্যাণ ফেডারেশন, আটোয়ারী, পঞ্চগড়
চাকলাহাট ইউনিয়ন সমাজকল্যাণ ফেডারেশন, সদর, পঞ্চগড়
দৌলতপুর সমাজকল্যাণ সংস্থা, পীরগঞ্জ, ঠাকুরগাঁও
হরিপুর ইউনিয়ন সমাজকল্যাণ সংস্থা, হরিপুর, ঠাকুরগাঁও
অগ্রণী মহিষখোচা ফেডারেশন, আদিতমারী, লালমনিরহাট
হরিয়ালডাঙ্গা ইউনিয়ন সমাজকল্যাণ সংস্থা, বাজারহাট, কুড়িগ্রাম
সংশ্লিষ্টদের প্রত্যাশা, পারস্পরিক সহযোগিতা, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহির ভিত্তিতে এসব উদ্যোগ আরও গতিশীল হবে। এতে সুবিধাবঞ্চিত মানুষের নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে, পরিবারগুলো অর্থনৈতিকভাবে শক্তিশালী হবে এবং তৃণমূল পর্যায়ে দারিদ্র্য বিমোচনের কার্যক্রম আরও কার্যকর রূপ পাবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *