দীর্ঘ ১৭ বছরের প্রবাস জীবনের সঞ্চয়ে কেনা বাড়িতেই আতঙ্কে দিন কাটছে আবুল বিশ্বাসের পরিবার

আলমাস হোসাইন:


প্রবাস জীবনের কষ্ট, ঘাম আর নির্ঘুম রাতের প্রতিটি মুহূর্তের সঙ্গে জড়িয়ে ছিল একটি স্বপ্ন—একদিন দেশে ফিরে নিজের একটি বাড়ি হবে, যেখানে পরিবার নিয়ে শান্তিতে বসবাস করবেন। সেই স্বপ্ন পূরণেও পিছপা হননি আবুল বিশ্বাস। টানা ১৭ বছরের প্রবাস জীবনের কষ্টার্জিত সঞ্চয়ে আশুলিয়ার ভাদাইল এলাকায় ছয় শতাংশ জমিসহ একটি একতলা বাড়ি কিনেছিলেন তিনি।

কিন্তু স্বপ্নের সেই বাড়িই এখন তার ও পরিবারের জন্য আতঙ্কের আরেক নাম। জমি বিক্রেতার লাগাতার হুমকি, মারধর ও চাঁদা দাবিতে চরম নিরাপত্তাহীনতায় দিন কাটছে এই প্রবাসীর পরিবার।

ভুক্তভোগী পরিবার সূত্রে জানা যায়, ২০২৩ সালে দুবাই থেকে দেশে ফিরে প্রায় ৪৩ লাখ টাকায় স্থানীয় আয়নাল নামে এক ব্যক্তির কাছ থেকে জমিসহ বাড়িটি কিনেন আবুল বিশ্বাস। শুরুতে সবকিছু স্বাভাবিক থাকলেও কিছুদিন পর থেকেই বিভিন্নভাবে হয়রানি শুরু হয়।

আবুল বিশ্বাসের স্ত্রী ঝর্ণা খাতুন অভিযোগ করে বলেন,
“বাড়ি কেনার পর থেকেই নানা অজুহাতে চাপ সৃষ্টি শুরু করে আয়নাল। গত তিন মাস ধরে প্রায় প্রতিদিনই বাড়িতে এসে হুমকি দিচ্ছে, গালিগালাজ করছে। কয়েকবার মারধরও করেছে। এমনকি জানালা দিয়ে ঘরের ভেতরে পেট্রোল ছিটিয়ে আগুন দেওয়ার চেষ্টা করেছে।”

তিনি আরও জানান, বাড়ির বিদ্যুৎ সংযোগও কেটে দেওয়া হয়েছে। প্রতিনিয়ত তাদের বাড়ি ছেড়ে চলে যেতে বলা হচ্ছে।

ঝর্ণা খাতুনের কণ্ঠে অসহায়ত্ব,
“আমরা যাব কোথায়? থানায় মামলা করেছি, কিন্তু কোনো প্রতিকার পাচ্ছি না। পুলিশও কার্যত কোনো ব্যবস্থা নিচ্ছে না।”

আবুল বিশ্বাস বলেন,
“১৭ বছর দুবাইয়ে কঠোর পরিশ্রম করে এক টাকাও অপচয় করিনি। সব টাকা দিয়ে এই বাড়িটা কিনেছি। এখন আয়নাল ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করছে। না দিলে এখানে থাকতে দেবে না বলে হুমকি দিচ্ছে। বাড়িতে এসে মারধর করছে। আমরা খুব ভয়ে দিন কাটাচ্ছি।”

তিনি জানান, আয়নাল ও তার পরিবারের সদস্যরা এলাকায় প্রভাবশালী হওয়ায় স্থানীয় কেউ তাদের পক্ষে কথা বলতে সাহস পাচ্ছেন না।

আয়নালদের ছয় ভাই। আশপাশের মানুষজন সবাই ওদের ভয়ে থাকে। কেউ সাক্ষী দিতে রাজি নয়। থানায় গেলেও যেন তাদের কথাই বেশি শোনা হয়। আমরা কোথাও বিচার পাচ্ছি না, যোগ করেন তিনি।

স্থানীয় কয়েকজন নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, আয়নাল এলাকায় প্রভাবশালী ব্যক্তি হিসেবে পরিচিত। তার বিরুদ্ধে কথা বললে ঝামেলার আশঙ্কা থাকায় অনেকেই চুপ থাকেন।

এদিকে, এ ঘটনায় থানায় দুটি মামলা দায়ের করা হলেও এখন পর্যন্ত দৃশ্যমান কোনো কার্যকর পদক্ষেপ না নেওয়ায় চরম নিরাপত্তাহীনতায় দিন কাটাচ্ছেন আবুল বিশ্বাস ও তার পরিবার।

সব হারানোর শঙ্কা নিয়ে এই প্রবাসীর কণ্ঠে এখন একটাই প্রশ্ন—
“দেশে ফিরে নিজের ঘরেও কি একজন প্রবাসী নিরাপদ থাকতে পারবেন না?”

এ বিষয়ে আশুলিয়া থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আহসানূর রহমান প্রধান বলেন,
“মামলাটি তদন্তাধীন রয়েছে। আপাতত আয়নালের বিরুদ্ধে সাক্ষ্যপ্রমাণ পাওয়া যায়নি। তদন্ত শেষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *