দেলোয়ার হোসেনকে ঘিরে সিদ্ধেশ্বরী বালিকা বিদ্যালয়ে অনিয়ম ও বিতর্ক

স্টাফ রিপোর্টার:

রাজধানীর বেলি রোড এলাকার সিদ্ধেশ্বরী উচ্চ বালিকা বিদ্যালয়কে কেন্দ্র করে সম্প্রতি বিভিন্ন অভিযোগ ও পাল্টা অভিযোগ ঘিরে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক দেলোয়ার হোসেন (দেলু) এবং পরিচালনা সংক্রান্ত কিছু কর্মকাণ্ড নিয়ে অভিভাবক, এলাকাবাসী ও সংশ্লিষ্ট মহলের মধ্যে অসন্তোষ দেখা দিয়েছে বলে জানা গেছে।

অভিযোগকারীদের দাবি, বিগত কয়েক বছরে বিদ্যালয়ের প্রশাসনিক কার্যক্রমে অনিয়ম, স্বজনপ্রীতি ও আর্থিক লেনদেনে স্বচ্ছতার অভাব রয়েছে। তারা আরও দাবি করেন, অতীত রাজনৈতিক প্রভাব ব্যবহার করে বিদ্যালয়ের অভ্যন্তরীণ নিয়োগ, পদায়ন এবং প্রশাসনিক সিদ্ধান্তে এক ধরনের একচেটিয়া প্রভাব বিস্তার করা হয়েছে। এসব অভিযোগের ভিত্তিতে বিদ্যালয়ের স্বাভাবিক পরিবেশ ব্যাহত হচ্ছে বলেও তারা মনে করেন।

এছাড়া ৫ আগস্টের সময়কার একটি ঘটনাকে কেন্দ্র করে আরও কিছু অভিযোগ সামনে আসে। অভিযোগ অনুযায়ী, ওই সময় বিদ্যালয়ের ভেতরে বিভিন্ন গেট বন্ধ রেখে কিছু ব্যক্তিকে আপ্যায়নের ব্যবস্থা করা হয়, যা বিদ্যালয়ের তহবিল ব্যবহার করে করা হয়েছে বলে দাবি করা হয়। একই সময়ে শিক্ষার্থী ও আন্দোলনরতদের সঙ্গে আচরণ নিয়েও প্রশ্ন তোলা হয়। তবে এসব অভিযোগের কোনো নির্ভরযোগ্য প্রমাণ বা আনুষ্ঠানিক তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়নি।

অন্যদিকে, বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের একটি অংশের দাবি, পরবর্তীতে দেলোয়ার হোসেনের বিরুদ্ধে আন্দোলনের কারণে তিনি কিছু সময়ের জন্য পদত্যাগ করেন এবং বিদ্যালয় ত্যাগ করেন। প্রায় ১৫-২০ দিন পর তিনি পুনরায় ফিরে এসে প্রশাসনিক কার্যক্রমে যুক্ত হন বলে অভিযোগ করা হয়। ফিরে আসার পর তিনি বিভিন্ন শিক্ষক ও কর্মচারীর ওপর চাপ প্রয়োগ করছেন এবং কিছু ক্ষেত্রে চাকরি সংক্রান্ত সিদ্ধান্তে প্রভাব ফেলছেন বলেও অভিযোগ উঠেছে।

এ বিষয়ে আরও অভিযোগ রয়েছে যে, কিছু শিক্ষককে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে এবং কয়েকজনকে চাকরিচ্যুত করার হুমকি দেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে ইংলিশ ভার্সনের শিক্ষক ও কর্মচারীদের বিরুদ্ধে এমন পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে বলে দাবি করেছেন সংশ্লিষ্টরা। এছাড়া কিছু শিক্ষককে রাজনৈতিক পরিচয়ের কারণে হয়রানি করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে।

অন্যদিকে, বিদ্যালয়ের একটি অংশ এসব অভিযোগকে সম্পূর্ণ অস্বীকার করে বলছে, প্রশাসনিক শৃঙ্খলা বজায় রাখতেই প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। তাদের মতে, বিদ্যালয়ের অভ্যন্তরীণ বিষয় নিয়ে ভুল তথ্য ছড়িয়ে পরিস্থিতি অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করা হচ্ছে।

এদিকে, স্থানীয় সচেতন অভিভাবক ও এলাকাবাসীর একটি অংশ বিদ্যালয়ের সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তারা মনে করছেন, একটি ঐতিহ্যবাহী শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে এ ধরনের বিরোধ ও অনিয়মের অভিযোগ শিক্ষার পরিবেশকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে। তাই তারা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

তাদের দাবি, শিক্ষা মন্ত্রণালয়, শিক্ষা অধিদপ্তর এবং সংশ্লিষ্ট বোর্ডের উচিত একটি নিরপেক্ষ তদন্ত কমিটি গঠন করে পুরো বিষয়টি খতিয়ে দেখা এবং প্রমাণ সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা। একইসঙ্গে বিদ্যালয়ের পরিচালনায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার আহ্বান জানানো হয়েছে।

অভিভাবক ও এলাকাবাসীর মতে, একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত থেকে পরিচালিত হওয়া উচিত। শিক্ষার পরিবেশ বজায় রাখতে হলে প্রশাসনিক স্বচ্ছতা, নিয়মনীতি এবং সকলের প্রতি সমান আচরণ নিশ্চিত করা জরুরি। তারা আশা করছেন, দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হলে বিদ্যালয়ের বর্তমান পরিস্থিতির উন্নতি হবে এবং স্বাভাবিক শিক্ষা কার্যক্রম পুনরায় নির্বিঘ্নে পরিচালিত হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *